Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

কুয়েতে প্রবাসীদের টাকা নিয়ে উধাও ‘ইয়েপবিট’ ও ‘বনচ্যাট’

Published August 1, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Elizabeth Martin - bangladailypost.com

Foto : Elizabeth Martin - bangladailypost.com

কুয়েতে 'ইয়েপবিট' ও 'বনচ্যাট' অ্যাপের প্রতারণায় হাজারো প্রবাসী ক্ষতিগ্রস্ত

Bangladailypost.com – ক য ত প রব স দ - কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের হাজারো প্রবাসী এখন গচ্ছিত টাকা ফেরত না পেয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। 'ইয়েপবিট' নামের একটি ডিজিটাল অ্যাপ এবং এর সহযোগী 'বনচ্যাট' বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পর কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে গেছে। এই ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপে বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কীভাবে কাজ করত এই অ্যাপ?

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ফিলিপাইনের প্রবাসীদের লক্ষ্য করে এই প্রতারণার জাল বিছানো হয়েছিল। অ্যাপটিতে যুক্ত হতে প্রত্যেককে অন্তত ১৫০০ মার্কিন ডলার বা তার বেশি বিনিয়োগ করতে হতো। টাকা জমা দেওয়ার পর প্রতিদিন সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট সময়ে গ্রাহকদের দুটি গোপন কোড নম্বর দেওয়া হতো। সেই নম্বর অ্যাপে নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে দিলেই অ্যাকাউন্টে ডলার যোগ হতো।

এর পাশাপাশি নতুন সদস্য যুক্ত করতে পারলে বাড়তি সুবিধা বা কমিশন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ফলে বেশি লাভের আশায় অনেক প্রবাসী তাদের সহকর্মী, বন্ধু ও স্বজনদেরও এই প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করেন। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। প্রথম দিকে নিয়ম মেনে কিছু অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও গত ১০ আগস্ট থেকে অর্থ উত্তোলন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা

প্রতারণার শিকার আব্দুর রহমান নামের এক প্রবাসী বলেন, 'শুরুতে আমার কিছুটা সন্দেহ ছিল। কিন্তু সহকর্মীদের টাকা তুলতে দেখে এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অনুরোধে ধার-দেনা করে ১৫০০ ডলার বিনিয়োগ করি। কিছুদিন হলো আমার অ্যাকাউন্টে ৮০০ ডলার জমাও হয়েছিল। এখন সব শেষ।'

আমার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ হাজার ডলার জমা ছিল। শুরুতে কয়েকবার টাকা তুলতে পেরেছিলাম। পরে বেশি মেয়াদের জন্য জমা রাখলে লাভ বেশি হবে ভেবে আর তুলিনি। পরিচিত অনেকের কাছ থেকেও বিনিয়োগ করিয়েছিলাম। এখন পুরো টাকাটাই গেছে, আর যাদের যুক্ত করেছিলাম তারাও আমাকে দোষারোপ করছে। বহু কাছের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে।

আরেক ভুক্তভোগী সুমন শেটের কথাও এখানে উল্লেখযোগ্য। তিনি জানান, তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ হাজার ডলার জমা ছিল। শুরুতে কয়েকবার টাকা তুলতে পেরেছিলেন। পরে বেশি মেয়াদের জন্য জমা রাখলে লাভ বেশি হবে ভেবে আর তুলেননি। পরিচিত অনেকের কাছ থেকেও বিনিয়োগ করিয়েছিলেন। এখন পুরো টাকাটাই গেছে, আর যাদের যুক্ত করেছিলেন তারাও তাকে দোষারোপ করছে। বহু কাছের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

এ বিষয়ে কুয়েত বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার বলেন, 'যে কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, সরকারি অনুমোদন ও অর্থ তুলে নেওয়ার নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। কয়েক বছর পরপর ভিন্ন ভিন্ন নামে এসব প্রতারক চক্র বাজারে আসে। প্রায় চার বছর আগে একটি বহুমুখী বিপণন প্রতিষ্ঠান একইভাবে সাধারণ প্রবাসীদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে সটকে পড়েছিল।'

তিনি আরও বলেন, পরিশ্রম ছাড়া রাতারাতি আয় অথবা নতুন সদস্য যুক্ত করে কমিশন পাওয়ার মতো যে কোনো প্রলোভন দেখালেই প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে প্রবাসীদের কোটি কোটি টাকা আটকে রেখে প্রতিষ্ঠান দুটির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।