Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

১১ দলীয় ঐক্য / সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সরকার প্রতারণা করেছে

Published July 31, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Elizabeth Martin - bangladailypost.com

Foto : Elizabeth Martin - bangladailypost.com

সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতিতে সরকারের প্রতারণা: ১১ দলীয় ঐক্যের তীব্র নিন্দা

Bangladailypost.com – ১১ দল য ঐক য স ব - নির্বাচনের আগে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়ে সরকার জাতিকে প্রতারণা করেছে বলে দাবি করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটের নেতারা জানান, নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে বর্তমান সরকার সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে, যা জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের সম্পূর্ণ বিপরীত।

সংস্কার নাকি সংশোধন?

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফায় রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই ভোট দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

সরকার বলেছিল সংস্কার করবে, কিন্তু এখন তারা সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের পথে যাচ্ছে। জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সংশোধনের জন্য নয়।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও ব্যাখ্যা করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার হলে তা স্থায়ী ও টেকসই হতো এবং আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকত না। কিন্তু সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করলে ভবিষ্যতে আদালত বা পরবর্তী সরকার তা বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে। তিনি বলেন, পঞ্চম, পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনীর মতো অতীতেও আদালত সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী বাতিল করেছে। কারণ সেগুলো সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তাই সরকারের বর্তমান উদ্যোগ ভুল পথে এগোচ্ছে।

দলীয়করণ ও দুর্নীতিতে মানুষের দুর্ভোগ

সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, বিভিন্ন করপোরেশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ করা হচ্ছে না, যা সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা

১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এর আগে ঘোষিত তিন পর্বের কর্মসূচি ২৫ জুলাই সিলেটের সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৩ আগস্ট শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে তা অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর ৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর পল্টনে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

সম্প্রতি সিলেট ও হবিগঞ্জে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার জবাব রাজনৈতিকভাবেই দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসব হামলায় জড়িত। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফদার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি। ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।