Politics

বাজেট ‌‘ফাঁপা বুলি ও প্রতারণামূলক’: এনসিপি

og_1781274682_6a2c183a413cc

বাজেট ‌‘ফাঁপা বুলি ও প্রতারণামূলক’: এনসিপি

Bangladailypost.com – ব জ ট ফ প ব ল – জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘ফাঁপা বুলি’ এবং ‘প্রতারণামূলক’ বাজেট হিসেবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন। এতে বলা হয়েছে যে বাজেট জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়।

বাজেটের ক্ষমতা ও চাপ

ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, গত অর্থবছরের তুলনায় বাজেটের মোট বিনিয়োগ প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বর্তমান অর্থনীতির দুর্বলতা ও ঋণনির্ভর অবস্থার মুখে এত বড় বাজেট কাল্পনিক এবং অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী।

“সরকার নিশ্চিত করেছেন যে বাজেট রাজস্ব ঘাটতি পূরণে টাকা ছাপানোর পথে যাবে। ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে, যার সাথে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর-ভ্যাট কমানোর ব্যবস্থা পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠবে,” ড. আতিক মুজাহিদ বলেন।

রাজস্ব আহরণের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে সরকার এনবিআর জন্য উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন, কিন্তু সেই লক্ষ্যের বাস্তব প্রক্রিয়া দেখায়নি। দেশের বৈদেশিক ঋণ এরই মধ্যে ১০ লাখ কোটি টাকার বেশি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণের পরিমাণও প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে আবার নতুন করে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ব্যাংক খাতে বৈষম্য সৃষ্টি করবে।

কর ব্যবস্থার চ্যুতি

আতিক মুজাহিদ অভিযোগ করেন যে অর্থপাচার ও কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে বাজেটে কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেই। তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি ছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জনগণের জীবন উন্নয়ন সম্ভব নয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে শুধু সমস্যার সমাধান হবে না।

“ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করলে অনেক মানুষ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যেতে পারেন। ফলে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি আরও বিস্তার লাভ করবে,” তিনি বলেন।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রসঙ্গে আতিক মুজাহিদ বলেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। অর্থ কিভাবে ব্যয় হবে— অবকাঠামো উন্নয়ন বা সেবার মান উন্নয়নের জন্য স্পষ্টতা প্রয়োজন। এছাড়া দুর্নীতি রোধ এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রতিবাদ ও অপেক্ষা

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও ছায়া বাজেট কমিটির সদস্য আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, অর্থনীতির ভিত্তিকে লুটতরাজের মাধ্যমে দুর্বল করা হয়েছে। এ কারণে বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধনির্ভর অর্থনৈতিক ভিত্তি যেভাবে দুর্বল করা হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেট ট্রান্সফরমেটিভ হওয়া প্রয়োজন ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *