ফয়জুল করীম / সাহাবাদের অনুসরণ করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করতে হবে
ফজলুল করীমের বক্তব্য: সাহাবাদের আদর্শে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা
Bangladailypost.com – ফয়জ ল কর ম স হ ব - রাজধানীর পল্টনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের আয়োজিত ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম। তিনি সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
ছাত্রসমাজের দায়িত্ব ও ইসলামী রাজনীতি
মুফতি ফজলুল করীম বলেন, দেশে নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার এবং ইসলামের আদর্শভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব বর্তমান ছাত্রসমাজের কাঁধে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ইসলামের রাজনীতি তোমরাই করবে। এজন্য নিজেদেরকে আদর্শ, নৈতিকতা, তাকওয়া ও যোগ্যতার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট রাখতে হবে। সাহাবায়ে কেরামের আদর্শিক জীবন অনুসরণ করে সমাজের সর্বস্তরে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
আত্মশুদ্ধি ও ক্যাম্পাস সংস্কার
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আত্মশুদ্ধি ছাড়া ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের রূহানিয়ত ও জিহাদের সমন্বয়ে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। ক্যাম্পাসে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি সুস্থ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠার ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এ আদর্শ প্রতিষ্ঠায় ক্যাম্পাসগুলোতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনার দুর্বলতা ও সমাধান
বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দুর্বলতা ও জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরে নায়েবে আমির বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা, প্রশাসনিক অদক্ষতা, দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয় এবং শিক্ষা খাতে বিদ্যমান সংকট দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একটি কল্যাণমুখী, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে আদর্শিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তিনি তরুণদের দেশ ও জাতির কল্যাণে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
শুক্রবার (৩১ জুলাই) অনুষ্ঠিত সভাটি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, শাহ ইফতেখার তারিক, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম মাইনুদ্দিন জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মুনতাছির আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি বিগত ৫৪ বছরে যে সহিংসতা, লেজুড়বৃত্তি, সন্ত্রাস ও আদর্শহীনতার ধারা প্রত্যক্ষ করেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামভিত্তিক একটি আদর্শিক সমাজ বিনির্মাণে ক্যাম্পাস দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্যাম্পাসভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক জনশক্তি তৈরি করে সমাজ পরিবর্তনের বাস্তব ভিত্তি নির্মাণ করতে হবে।
সভার বক্তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামি মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ ও দাবদ্ধতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।