Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে: রিজভী

Published September 2, 2026 · Updated September 2, 2026 · By Jennifer Garcia - bangladailypost.com

Foto : Jennifer Garcia - bangladailypost.com

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: রাজনৈতিক সংকেত আর অতীতের আদল

Bangladailypost.com – ত র ক রহম ন র হ - রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক স্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রে নতুন দিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি দীর্ঘ আলোচনা তুলে ধরেন। বক্তৃতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার সমালোচনা এবং আগামী দিনে দলের ভূমিকা নিয়ে এক ধরনের আশ্বাস।

১৯৭২–৭৫: ক্ষুধার স্মৃতি আর শহীদ নেতার প্রশ্ন

রিজভীর বক্তৃতায় সবচেয়ে তীব্র সুর ছিল ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের সেই কালো অধ্যায় নিয়ে। তিনি সেই সময়ের জনজীবনের তীব্র দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের চিত্র আঁকেন, যখন মানুষের পেটে ছিল না সাধারণ খাবারও।

এই ক্ষুধার্ত দেশ, দারিদ্র্য দেশ, দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশ ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে মানুষ আমগাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছে। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করলো। এই দেশপ্রেমিক নেতাকে কেন হত্যা করলেন? তিনি কিন্তু জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি কোনো প্রভুর কথা মেনে চলতে চাননি। এ কারণে দেশি-বিদেশি চক্রান্তেই জিয়াউর রহমানকে সেদিন হত্যা করা হয়েছে।

এই উদ্ধৃতির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝা জরুরি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা বাংলাদেশের আধুনিক রাজনীতির সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর একটি। রিজভী সেদিনের ঘটনাকে শুধু একটি অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং দেশি-বিদেশি সমন্বিত চক্রান্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এই বক্তব্য বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দলটি সেই সময়ের ঘটনার দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন দিকে আঙুল তুলে আসছে।

মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেম আর দলের অবিচ্ছেদ্যতা

বক্তৃতার পরবর্তী অংশে রিজভী মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যকে দলের বৈধতার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন। তার যুক্তি ছিল, মুক্তিযোদ্ধার হাতে গঠিত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

একজন দেশপ্রেমিকের হাতে, একজন মুক্তিযোদ্ধার হাতে যে দল তৈরি হয়, আর যাই হোক, সে দলকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। এ দেশের এক মহান মহিলা, যাকে অত্যাচার-নিপীড়ন করার পরেও যাকে দেশ থেকে সরানো যায়নি। জনগণের সঙ্গে থেকেছেন, জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন মৃত্যুর দিন পর্যন্ত। সেই দলকে কখনোই আপনি ধংস করতে পারবেন না।

এই অংশে 'মহান মহিলা' বলতে শেখ হাসিনাকে বোঝানো হয়েছে, যিনি ২০২৪ সালের আগস্টে মৃত্যুবরণ করেন। রিজভীর বক্তব্যে তাঁকে জনগণের পাশে থাকার প্রশংসা দেওয়া হয়েছে, যা বিএনপির সাধারণ রাজনৈতিক ভাষা থেকে কিছুটা ভিন্ন সুর। তবে মূল বক্তব্য ছিল এই যে, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যের ওপর গড়ে ওঠা রাজনৈতিক শক্তিকে কোনো ক্ষমতাসীন সরকার বা বাহ্যিক চাপ ধ্বংস করতে পারবে না।

অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রতিশ্রুতি

সমাবেশের সমাপ্তিভাগে রিজভী রাজনৈতিক বক্তব্যকে অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত করেন। তার দাবি, নানা ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বিএনপিকে ব্যর্থ করা যায়নি এবং আগামীতেও যাবে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং অর্থনীতির সব সূচকে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন — সবই গত কয়েক বছরে চাপের মুখে আছে। বিএনপির এই প্রতিশ্রুতি তাই শুধু একটি নির্বাচনী স্লোগান নয়; এটি বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে একটি বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গির প্রস্তাব।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মানে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে গণনায় আসা। দলটি তৎকালীন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশের উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রতি বছর এই দিনে দল তার রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে, নেতৃত্বের বক্তব্যে আগামী দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এবারের বক্তব্যে সেই প্যাটার্ন ধরা পড়েছে: অতীতের শহীদ নেতাদের স্মৃতি, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা, এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসার প্রতিশ্রুতি — তিনটি স্তরের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।

উত্তরা এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্তও লক্ষণীয়। বড় ধরনের জনসভার বদলে সংক্ষিপ্ত আয়োজন নির্দেশ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের সীমাবদ্ধতা। তবুও রিজভীর বক্তব্যের ভাষা ও বিষয়বস্তু দেখায়, দলটি তার রাজনৈতিক পরিচয় ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে কোনো আপসের ইচ্ছা দেখাচ্ছে না।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ত র ক রহম ন র হ?

ত র ক রহম ন র হ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ত র ক রহম ন র হ matter?

ত র ক রহম ন র হ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.