Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

উনি কি গালি দিলেন না দোয়া, কিছুই বুঝলাম না: রুমিন প্রসঙ্গে শফিকুর

Published September 10, 2026 · Updated September 10, 2026 · By Mary Williams - bangladailypost.com

Foto : Mary Williams - bangladailypost.com

সংসদে হট্টগোলের মধ্যে রুমিন ফারহানার বক্তব্য শোনা যায়নি বলে অভিযোগ শফিকুর রহমানের

Bangladailypost.com – উন ক গ ল দ ল ন - জাতীয় সংসদে একজন সদস্যের বক্তব্য চলাকালে সৃষ্টি হওয়া হট্টগোল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা কী বলছিলেন, তা তিনি এবং অন্য সদস্যরা স্পষ্টভাবে শুনতে পারেননি। এতে শুধু একটি বক্তব্য বিঘ্নিত হয়নি; সংসদ সদস্য হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার অধিকারও যথাযথভাবে কার্যকর হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে বলে তিনি মনে করেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে রুমিন ফারহানা কথা বলতে দাঁড়ানোর পর ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয়। ওই পরিস্থিতির পর দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সদস্যের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংসদীয় বিধি মেনে তার প্রতিকার হতে পারে, কিন্তু আওয়াজ তুলে পুরো বক্তব্য আড়াল করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নয়।

বক্তব্য শোনার দায়িত্বের কথা স্মরণ করালেন বিরোধীদলীয় নেতা

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, স্পিকারের আসন থেকে একজন সদস্যকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলে তাঁর বক্তব্য শোনা সংসদের অন্যদেরও দায়িত্ব। বক্তব্যের সব অংশ গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে, আবার সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ও থাকতে পারে। কিন্তু হট্টগোলের কারণে বক্তব্যটি শোনাই না গেলে তার ভালো-মন্দ নিয়ে সংসদীয় আলোচনার সুযোগও থাকে না।

“একজন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়েছেন তার কথা বলতে। আপনার জায়গা থেকে আপনি তাকে সুযোগ দিয়েছেন। হতে পারে তার কথাগুলো সবগুলা সঙ্গত নয়, আবার হতে পারে যে কথাগুলো তার গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কিছুই শুনতে পারলাম না, কী উনি বললেন, সব তো হারায়ে গেলো।”

তিনি বলেন, কোনো সদস্যের কথা বলার অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাঁর বক্তব্য শোনার দায়ও সংসদে উপস্থিত অন্যদের রয়েছে। সংসদীয় বিতর্কে মতভিন্নতা থাকবে—এটিই স্বাভাবিক। তবে মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে এমন পরিবেশ তৈরি হলে যে বক্তব্যটি আর শ্রুতিই হয় না, তখন সংসদীয় আলোচনার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

অসংসদীয় বক্তব্য হলে রুলিং বা জবাবের সুযোগ আছে

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে শফিকুর রহমান বলেন, সেখানে অসংসদীয় ভাষা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কথা থাকলে তা মোকাবিলার নিয়ম আছে। ডেপুটি স্পিকার বা সভাপতিত্বকারী আসন থেকে রুলিং দেওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে পরে দাঁড়িয়ে তার জবাবও দিতে পারেন।

“হ্যাঁ, তিনি যদি অসংসদীয় কোনো কথা বলে থাকেন, সেটা আপনার জায়গা থেকে রুলিং আসতে পারে। আবার এসব কথার জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যখন দাঁড়াবেন, তিনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তিনি দিতেই পারেন।”

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সংসদে আপত্তির প্রতিকার এবং বক্তব্য থামিয়ে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কোনো বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তা সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্যেই সামাল দেওয়া উচিত। কারণ, কণ্ঠরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সদস্যের বক্তব্যের পূর্ণ অর্থ, প্রেক্ষাপট ও জবাব দেওয়ার সুযোগ—সবই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আগের ঘটনার প্রসঙ্গ ও রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন

শফিকুর রহমান জানান, এর আগের দিনও সংসদে একই ধরনের একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তিনি বলেন, সেদিন সভাপতিত্বকারী আসনের ভূমিকা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ ছিল। এবারও রুমিন ফারহানার বক্তব্য হট্টগোলের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

“আজকে উনি কী বললেন, আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কি গালি দিলেন না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, বক্তব্যে আপত্তিকর কিছু ছিল কি না, সেটিও বোঝার উপায় থাকেনি। সংসদীয় বক্তব্যে শৃঙ্খলা রক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বক্তব্য শোনা না গেলে আপত্তির যথার্থতাও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, রুমিন ফারহানা আসলেই তাঁর বক্তব্য শেষ করতে পেরেছেন কি না এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর অধিকার কার্যকর হয়েছে কি না। এ ক্ষেত্রে অধিবেশনের রেকর্ড কীভাবে সংরক্ষিত হবে, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, উপস্থিত সদস্যরাই যদি কথা শুনতে না পান, তাহলে আলোচনার বাস্তব রেকর্ড নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।

“এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন? তার সংসদ সদস্য হিসেবে যে অধিকার ছিল, সেটা কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? এটা মূলত আমি আপনার কাছেই জানতে চাচ্ছি এবং এর প্রতিকারটা কী হবে?”

সংসদের কার্যক্রমে বক্তব্য, আপত্তি, জবাব এবং রুলিং—প্রতিটি বিষয়ই নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। এ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে চললে জনগণের প্রতিনিধিরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন এবং ভিন্নমতও সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই প্রকাশ পায়। কিন্তু দীর্ঘ হট্টগোল সেই স্বাভাবিক ধারাকে ব্যাহত করলে আলোচনার গুণগত মান এবং কার্যবিবরণীর স্পষ্টতা—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে।

শফিকুর রহমানের দাবি, ঘটনাটির প্রতিকার কী হবে তা স্পষ্ট করা দরকার। তাঁর দৃষ্টিতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সভাপতিত্বকারী আসনের দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং একই সঙ্গে সংসদীয় ভাষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা—দুই দায়িত্বের মধ্যেই ভারসাম্য রাখতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি, কারণ সংসদে বলা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কথা শুনতে পাওয়া, নথিবদ্ধ হওয়া এবং প্রয়োজন হলে তার উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকা গণতান্ত্রিক আলোচনার মৌলিক শর্ত।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is উন ক গ ল দ ল ন?

উন ক গ ল দ ল ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does উন ক গ ল দ ল ন matter?

উন ক গ ল দ ল ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.