Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

আলোচনা সভায় বক্তারা / রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে

Published July 24, 2026 · Updated July 24, 2026 · By Mary Williams - bangladailypost.com

Foto : Mary Williams - bangladailypost.com

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জরুরি কাঠামোগত পরিবর্তন: আলোচনা সভায় বক্তাদের মতামত

Bangladailypost.com – আল চন সভ য় বক ত র - সত্তর ভাগ জনগণের ভোটের পরও সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়ছে। এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো পঞ্চাশ হাজার চাকরির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। বরং বিভিন্ন পদে দলীয় কোটাভিত্তিক নিয়োগ চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সেমিনার হলে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের উদ্যোগে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ প্রকৌশলীদের স্মরণে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান' আয়োজন করা হয়।

উল্লেখযোগ্য অতিথি ও বক্তারা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ফেলো এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং কুয়েটের সাবেক উপাচার্য ও বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ।

জুলাই অভ্যুত্থানের তিনটি বৈশিষ্ট্য

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান তিনটি কারণে ইউনিক। প্রথমত, এটি একটি নিরস্ত্র বিপ্লব ছিল। নিরস্ত্র ছেলেমেয়েরা দাঁড়িয়েছিল। দ্বিতীয়ত, এই বিপ্লবে কোনো বিদেশি শক্তি সহায়তা করেনি। যেটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একটি দুর্বলতা ছিল। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ভারত থেকে সহায়তা নিতে হয়েছিল। আজও তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে না। তারা বলে, একাত্তর আসলে তারা পাকিস্তানকে পরাজিত করে দুভাগ করে দিয়েছে। তৃতীয়ত, এখানে কোনো একক নেতৃত্ব ছিল না। এখানে সবাই নেতা, সবাই যোদ্ধা।

এগুলো স্মরণে রাখলে, এই বিপ্লব দীর্ঘায়িত হবে, ব্যর্থ হবে না।

মাহমুদুর রহমান জুলাই অভ্যুত্থানকে বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হয়। আমার দৃষ্টিতে জুলাই একটি বিপ্লব এবং এটি চলমান রয়েছে। কারণ এটি পুরো রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের জন্য হয়েছে। বক্তব্যে জুলাইয়ের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংস্কার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান সংকটের জায়গা কয়েকটি জায়গায়। এখানে ধর্মভিত্তিক দলগুলো ক্ষমতাপাগল হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক দলগুলো ইন্ডিপেন্ডেন্টপাগল হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের যে সংকটটা রয়ে গেছে, এখানে কেউ ভালো মানুষ হলে ডিসিশন মেকিং প্রসেসে যেতে পারে না। আর যদি কেউ খারাপ মানুষ হয়, আমরা ভালো কোনো ডিসিশন তার থেকে আশা করতে পারি না।

সংবিধান সংস্কার কমিশনে আমি বারবার বলেছি, এমনকি আমি সালাহউদ্দিন (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সাহেবের বাসায় গিয়েও বলেছি, আপনি কেন সংস্কারের পক্ষে আসছেন না? উনি বললেন যে, যে সংস্কারের পক্ষে যদি আমি আসি, তাহলে যে সরকার চালাতে পারবো না।

নাসীরুদ্দীন আরও বলেন, সরকারের কাছে ক্ষমতা থাকবে না। কিছু ক্ষমতা চলে যাবে বিরোধীদলের কাছে, কিছু ক্ষমতা চলে যাবে মিডিয়ার কাছে, কিছু ক্ষমতা চলে যাবে বিচারালয়ে। আমি বললাম, এটাই তো হলো বাংলাদেশ। আপনি তাহলে বাংলাদেশের এটা ভিন্ন কোন জিনিসটা নিয়ে আসছেন? তিনি (সালাহউদ্দিন) বললেন, যেভাবেই বাপ-দাদারা চালিয়েছে, এভাবেই চালাতে হবে। তাহলে ১৭ বছর ধরে ৩১ দফার ভেলকিবাজি কেন দেখালো, এই কথা বললে তারা গরম হয়ে যায়।

দলীয় কোটা ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, সরকারের প্রথম মাসে সরকার আমাদের সামনে বিভিন্ন গল্পগাথা উপস্থাপন করেছে। কিন্তু বিএনপি যে ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের যে রাজনীতি সেটির ধারাবাহিকতা সেটা আমরা জিয়া পরিবারের উত্তরসূরি থেকে দেখতে পাচ্ছি। ১৯৯১ সালে তিন জোটের রূপরেখা থেকে পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না মানা, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে নিজেদের মন মতো একজনকে রাখার জন্য রাষ্ট্রপতির মেয়াদ দু-বছর বাড়িয়ে তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরি করা একটা অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল। আমাদের রাষ্ট্রটা যে সরকারই আসুক মেধাভিত্তিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলো রাষ্ট্র এখনো কোটাভিত্তিক। এখন বিএনপির দলীয় কোটাভিত্তিক বাংলাদেশ চলছে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান কি কোনো দলীয় শাখা? বিএনপি আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় শাখা পরিণত করছে বলে মনে হচ্ছে।

মারদিয়া মমতাজ এমপি বলেন, আমাদের জন্য যেখানে আইন বানানো হয়, সেখানে যেতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। আরও অপমানজনক হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও সমস্যা রয়েছে।