Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

মৃত শিশুদের মুখ

Published June 1, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Jennifer Garcia - bangladailypost.com

Foto : Jennifer Garcia - bangladailypost.com

ম ত শ শ দ র: এক শিশুর মুখে আতঙ্ক

Bangladailypost.com – ম ত শ শ দ র ম - আমার ছোট সন্তান ইহানের বয়স প্রায় এক বছর। গত এপ্রিলের ২৫ তারিখ ছিল তার হামের টিকা দেয়ার প্রস্তাবিত দিন। কিন্তু সেই দিন তার শরীরে ঠান্ডাজনিত সর্দি এবং তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকায় আমি সূর্যের হাসি ক্লিনিকে ফোন করে জানতে চাইলাম, টিকা দেয়া কি সম্ভব। জবাব ছিল কয়েক দিন পরে আসুন।

বাড়ির অসুখ ও অস্থিরতা

তখন হামে শিশুমৃত্যুর মহামারি চলছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশিত হওয়ায় আমার স্ত্রী ইহানের স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষ করে অস্থির হয়ে ওঠেন। তার অবস্থা হামের প্রতি আমাদের পরিবারের সদস্যদের অসুস্থ করে তুলেছিল। আমাদের পরিবারের তিন জন একত্রে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ায় সেসব ঘটনা আমাদের পরিবারে একটি নতুন সংকট সৃষ্টি করেছিল।

সেই সময় আমার মনের ভেতরে একটি গভীর ভয় ঢুকে আসে। বিশেষ করে ইহানের মুখে আমার আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছিল। শিশু হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের চিকিৎসা হবে কি না তা নিয়ে কূটনীতিবিদ্যার অন্ত নেই। আমার চিন্তা বিপর্যস্ত হয়ে উঠছিল যে ইহান মৃত শিশুদের মুখে জন্ম দিয়েছে কি না।

চিকিৎসক বলছেন, হামের টিকা দেয়ার চার সপ্তাহ পরে শরীরে অ্যান্টি বডি অর্থাৎ রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। তবে সেই সময় পর্যন্ত ইহানের শরীর প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রকাশ করে না বলে আমার মনে হচ্ছে।

শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ওঠার পর আমার কাছে নানা প্রকার সংকট আসে। হাসপাতালে কর্মকর্তারা ছুটি নিয়ে যাওয়ায় সেই স্থানে আরো দুর্বিপাক্য অবস্থা হয়ে ওঠে। আমার স্ত্রী ক্লিনিকে আর্তনায় ভরে ওঠেন। কিছু ক্ষেত্রে তিনি ইহানের মুখে শিশুমৃত্যুর প্রতীক দেখতে চাইছিলেন।

ঈদের ছুটি হয়ে গেলেও হাসপাতালে মৃত শিশুদের মুখে অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই মহামারির সময় সকলের দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা সেবায় নিয়োজিত থাকার প্রয়োজন ছিল।

গত আড়াই তিন মাসে ম ত শ শ দ র ঘটনা দেখে রাষ্ট্রের দায় কেন চাপানো হয় না তা আমি বুঝতে পারছি না। অধিকারকে এখনও সেবা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে শিশুদের প্রতি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়েছে কি না তা বুঝতে পারছি না।