Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

দিল্লির হোটেল ট্র্যাজেডি / আগুনেও ছাড়েননি কেউ কাউকে, জড়িয়ে ধরা অবস্থাতেই মেলে দম্পতির মরদেহ

Published June 5, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Daniel Williams - bangladailypost.com

Foto : Daniel Williams - bangladailypost.com

দিল্লি হোটেলে আগুনে মৃত্যু

Bangladailypost.com – দ ল ল র হ ট ল - দিল্লির একটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় বুধবার সকালে মোট ২১ জন নিহত হয়েছে। আগুনে শেষ পর্যন্ত এক দম্পতিকে বাচার চেষ্টা করে উদ্ধার করা হয়, যারা পরস্পরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ছিলেন। তারা বাথরুমে আটকে রাখার চেষ্টা করেছিলেন আগুন থেকে বাঁচতে। কিন্তু ধোঁয়ার বিষাক্ত প্রভাবে তাদের মৃত্যু হয়।

বেসমেন্ট থেকে মৃতদের উদ্ধার

উদ্ধারকর্মী মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, বেজমেন্ট দিয়ে ভবনে প্রবেশ করে তারা রিসেপশনের কাছে এক তরুণীর দগ্ধ মরদেহ দেখেন। তার হাত-পা শক্ত হয়ে গিয়েছিল। কয়েক কদম এগিয়ে একটি হুইলচেয়ারে বসা অবস্থায় আরেকজন ব্যক্তির পোড়া মরদেহ দেখা যায়। ভবনের ভেতরে তিনজন বিদেশি নাগরিককে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। সিপিআর দিয়ে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়।

“আমরা তাদের শেষ আলিঙ্গনের মধ্যে মৃত অবস্থায় পাই। আগুনে পুড়ে মারা গেছে না, ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।”

বেসমেন্ট থেকে অন্তত আটজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্য একটি কক্ষে দম্পতির মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়, যারা বিছানার কিনারায় বসা অবস্থায় পাওয়া যায়। আগুনের ছড়িয়ে পড়া ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজ গ্রেপ্তার হন। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন, ভয় পেয়ে তিনি আগুন জ্বলতে থাকা হোটেলের পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যান।

আগুনের মূল কারণ

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুন সাক্ষাৎ বেসমেন্টে সাড়ে ৮টার দিকে লাগে। তার পর আগুন দ্রুত উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র অনুমান করে বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।

হোটেলটিতে জরুরি নির্গমন পথ ছিল না। মূল সিঁড়িটিই ছিল ভবনের কেন্দ্রে ও সেটিই ছিল উপরের তলাগুলোতে ওঠানামার একমাত্র পথ। ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। আগুনের মৃত্যু ঘটানোর সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।

হোটেলটির অগ্নি-নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল না। ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি থাকলেও সেখানে ২৫টি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল। জানালাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ ছিল। মূল দরজা সেন্সরনিয়ন্ত্রিত ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৭টি ফায়ার টেন্ডার মোতায়েন করা হয়। উদ্ধার করা হয় অন্তত ৫৮ জনকে, যাদের কাছাকাছি ম্যাক্স হাসপাতালে পাঠানো হয়।