Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চামড়া সংগ্রহ ঘিরে কর্মব্যস্ত পোস্তা, দাম নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

Published May 30, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Mary Jones - bangladailypost.com

Foto : Mary Jones - bangladailypost.com

Bangladailypost.com – চ মড় স গ রহ ঘ র - কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ঘিরে ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন শুক্রবারেও (২৯ মে) কর্মব্যস্ত ছিল রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকা। তবে এদিনও চামড়ার দাম নিয়ে বিক্রেতা ও আড়তদারদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিকেলে লালবাগ বালুর মাঠ ও পোস্তা এলাকার আশপাশে ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের অন্যতম বড় এই চামড়ার বাজারে তৈরি হয়েছে ব্যস্ততার এক ভিন্ন পরিবেশ। আড়তে চামড়া কেনাবেচা জমে ওঠার পাশাপাশি দাম, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। পোস্তার আড়ত এবং গুদামের অবস্থান রাস্তার পাশে হওয়ায় সেখানে কাঁচা চামড়া নিয়ে আসা গাড়ির জটের মধ্যেই শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা চামড়া কেউ গাড়ি থেকে নামাচ্ছিলেন, কেউ গুনে গুনে স্তূপ করছিলেন বা গুদামের ভেতর নিচ্ছিলেন, আবার কেউ ভাঁজ করে করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শুক্রবার চামড়ার দাম নিয়ে বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা বলছিলেন, দাম কম আর চামড়া কিনতে চান না আড়তদাররা। কিন্তু তাদের দাবি, সরকারের দেওয়া নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনছেন। হাজারীবাগ থেকে ১৯টি চামড়া নিয়ে আসা সোহায়েল নামের একজন বলেন, আড়তদারদের কেউ কেউ বলছিলেন চামড়া কিনবেন না। আবার দু-একজন কিনতে চাইলেও দাম খুবই কম বলছেন। মোশাররফ চেয়ারম্যানের গলি থেকে অটোরিকশায় করে চামড়া নিয়ে আসা একজন জানান, তাদের দেড় লাখ টাকায় কেনা কোরবানির গরুর চামড়া নিয়ে আসার পর দাম বলছে ১০০ টাকা। গরুর ১০টি চামড়া মাত্র ৯০০ টাকায় বিক্রি করে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন লালবাগের কাছাকাছি এলাকা থেকে আসা কবির হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকালকে ২৫-৩০টি চামড়া বিক্রি করে মোটামুটি লাভ ছিল। আজকে ১০টার মধ্যে দুটিতে একটু সমস্যা ছিল। তাই এত কম দাম বলেছে। এখন ফেরত নিয়ে আর কী করবো? তাই কমেই বিক্রি করেছি। লাভ-লসের কোনো হিসাব করিনি। ভ্যান ভাড়া উঠলো। আর কী করা।’ মতিঝিল ওয়াপদা মাদরাসা থেকে ট্রাকে করে ৮৯টি চামড়া নিয়ে আসা হলে গুনে গুনে নামিয়ে দুটি বাতিল করে দেওয়া হয়। বাকি ৮৭টি চামড়ার দাম গড়ে ৪৭০ টাকা করে ধরা হয়েছে বলে জানান ওই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক। ঈদের দিন কতটি চমড়া কী দামে বিক্রি করেছেন- জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘চার হাজার চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেগুলো হেমায়েতপুরে (বিসিক চামড়া শিল্পনগরী) পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এখনো টাকা দেননি আড়তদার। দামও নির্দিষ্ট করা হয়নি।’ প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের লোকজনের অভিযোগ, চামড়া বিক্রি করতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে আড়তদারের প্রতিনিধিরা যে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের আচরণ করেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এ নিয়ে কথা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিনিধি জাগো নিউজকে বলেন, ‘পোস্তায় আড়তদার ও বিভিন্ন মালিকের খারাপ আচরণ করার অভিযোগ সত্য নয়। তবে নষ্ট, কাটাছেঁড়া ও পচা চামড়া নিয়ে আসলে হয়তো কেউ কোনো কথা বলে থাকতে পারেন। কিন্তু সেখানে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। পোষালে চামড়া বিক্রি করবে, না পোষালে নিয়ে যাবে, তাতে কী।’ তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রী বলে গেছেন যে চামড়া শিল্প নিয়ে পরিকল্পনা করবেন। ওই পরিকল্পনা করতে বলেন। চামড়া শিল্প বিকাশে সহযোগিতা করেন মিডিয়াসহ সবাই।’ শুক্রবার রাজধানীতে গরুর বড় ও মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ঈদের দিনের চেয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। তবে ছাগল ও গরুর ছোট চামড়া বিক্রিই করা যায়নি। সেগুলো ফেলে দিতে হয়েছে। চামড়া বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অনেকে কোরবানি ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও পশু জবাই দিয়ে থাকেন। যদিও সংখ্যায় তা প্রথম দিনের চেয়ে কম হয়। তবে পরের দুই দিন জবাই করা পশুর আকার তুলনামূলক বড় হয়। ফলে চামড়ার আকারও বড় ও ভালো মানের হয়। এ কারণে দাম কিছুটা বেশি থাকে। লালবাগ বালুর মাঠ ও পোস্তা এলাকায় দেখা গেছে, এদিন গরুর মাঝারি আকারের চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। বড় হলে ৮০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া গেছে। আবার ছোট হলে কয়েকশ টাকাও বিক্রি হয়েছে। মহিষের চামড়া বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকায়। চামড়া বিক্রেতাদের কম দাম দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সালমা ট্যানারির স্বত্বাধিকারী মো. সাখাওয়াত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘দাম কম হয় কীভাবে?

আমরা তো ৬০০, ৭৫০, ৯০০ ও এক হাজার টাকা দরেও চামড়া কিনেছি। লালবাগ মাদরাসা থেকে সব চামড়া নিয়েছি। গড়ে ৬৭০ টাকা করে দাম দিয়েছি। অভিযোগ সঠিক না।’ চামড়া কেনায় নিজের লক্ষ্য কত, সে বিষয়ে জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘সারা বছরের মোট চামড়ার ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ কোরবানির সময় সংগ্রহ হয়। এ কারণে আমাদের আগেভাগেই প্রস্তুতি ও মজুত নিশ্চিত করতে হয়। এবার টার্গেট ছিল ৩০ হাজার চামড়া সংরক্ষণের। এখন পর্যন্ত মোটামুটি কেনা হয়েছে, আরও কিনবো। সমস্যা নেই। টার্গেট ফুলফিল হবে। তবে এখন চামড়া সাভারের শিল্পনগরীতেই বেশি যায়।’ ট্যানারি মালিকদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনার চেষ্টা করছেন তারা। তবে সময় মতো লবণ না দিলে বা সংরক্ষণে দেরি হলে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হবে, তখন ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে না। তাই কোরবানির চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের পরামর্শ তাদের।