Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

‘ঈদের আনন্দ কই? মাংস তো দূরের কথা, ডাল-সবজি দিয়ে ভাত খেতে হয়েছে’

Published May 29, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Richard Moore - bangladailypost.com

Foto : Richard Moore - bangladailypost.com

ঈদের আনন্দ কই? মাংস তো দূরের কথা, ডাল-সবজি দিয়ে ভাত খেতে হয়েছে

Bangladailypost.com – ঈদ র আনন দ কই ম স - উত্তরের নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলে এবার ঈদুল আজহা আসতে গিয়েছে বেদনার সাথে। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র এবং দুধকুমার নদীর তীরে ছড়িয়ে থাকা শত শত চরে উৎসবের রঙ বা কোরবানির আনন্দ নেই। কোথাও ঈদের দিনে মাংস হাঁড়িতে ওঠেনি, আবার কোথাও নদীভাঙনের আতঙ্কে মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে বসতভিটার সামনে।

জমি আর বসতভিটা গিলে নিয়েছে নদী

বার্তা সংস্থা ইউএনবি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ৭০০টি চর রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর কুড়িগ্রামে প্রায় ৪৫০টি। প্রতিটি চরে বসবাস করে প্রতি ১৫০ থেকে ৫০০ পরিবার। বেশিরভাগ চরবাসী কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার আলু, ধান ও ভুট্টার ফসলগুলোতে লোকসান হয়েছে। ফলে ঈদের আনন্দ যেন হারিয়ে গেছে।

প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ৯৫০ টাকা। অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। ধান, আলু ও ভুট্টার দাম কমে গেছে। কয়েক দফা কালবৈশাখীতে সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষিকাজে শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি হয়েছে। ঈদের আনন্দ নেই এমন অবস্থায় কাউকে কিছু করতে হয়নি।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর তীরে অবস্থিত ফলিমারী চরে প্রায় ৩০০ পরিবার বসবাস করে। কয়েকদিন ধরে নদীভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সম্পূর্ণ চরে। ঈদের দিনেও নদীর তীরে চলছে ভাঙন। তাই উৎসবের বদলে উৎকণ্ঠাই সঙ্গী।

এক সপ্তাহ আগে নদী আমাদের তিন বিঘা জমি আর বসতভিটা গিলে নিয়েছে। বাকি জমিও ভাঙনের মুখে। ঈদের দিনেও ভাঙন চলছে। আমাদের পরিবারে এবার ঈদ নেই।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর তীরে অবস্থিত টেপামধুপুর চরে কৃষক আলী (৬৫) ঈদের সকালে ছিলেন বিষণ্ন। ঈদগাহে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরে আরও বেশি কষ্ট পেয়েছেন তিনি। সাত সদস্যের পরিবারের কাউকে নতুন পোশাক কিনে দিতে পারেননি। গত বছর গরু কোরবানিতে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু এবার বাজার থেকে মাংস কিনে নিতে পারেননি।

আলুতে সর্বনাশ হয়েছে। ধানও বাঁচাতে পারলাম না। উৎপাদন খরচই উঠছে না। ভুট্টার দাম কম, তামাকের দাম কম—সব মিলিয়ে আমরা শেষ হয়ে গেছি।

কুড়িগ্রাম চর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, এ বছর অধিকাংশ চরে পশু কোরবানি হয়নি। গত বছর