সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান রফিকুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত
সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান রফিকুল ইসলামের জানাজা সম্পন্ন
Bangladailypost.com – স ব ক ব ম নব হ - ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে সকলে শোকসন্তপ্ত। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসের বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারের প্যারেড গ্রাউন্ডে সামরিক মর্যাদায় তাঁর নামাজে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ উপস্থিত থেকে মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এই সময়ে সাবেক বিমানবাহিনী প্রধানের পরিবারের সদস্যগণ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদবীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মরহুমের সম্মানার্থে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী কর্তৃক ফ্লাই পাস্টও অনুষ্ঠিত হয়। ফিউনারেল প্যারেড শেষে সামরিক মর্যাদায় সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারে অবস্থিত শাহীন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলার মতলব থানাধীন বাইশপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আব্দুল আউয়াল এবং মাতার নাম হোসনে আরা বেগম। তিনি ১৯৬৭ সালে পিএএফ কলেজ, সারগোদা থেকে সিনিয়র ক্যামব্রিজ সম্পন্ন করেন।
১৯৬৮ সালের ২ আগস্ট পাকিস্তান বিমানবাহিনী একাডেমিতে যোগদানকারী রফিকুল ইসলাম ১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে জিডি(পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন। এছাড়াও, এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৯৭১ সালে পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবন ও অর্জন
তিনি ছিলেন একজন চৌকস বৈমানিক। বিমানবাহিনীতে সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি PT-6, T-6G, Air Tourer, AN-24/26, Bell-206, FOUGA, SF-25C এবং AN-32 বিমানে সফলতার সঙ্গে ৫০০০ ঘণ্টার অধিক উড্ডয়ন করেন। তিনি দেশ বিদেশে বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং সফলতার সঙ্গে তা সম্পন্ন করেন।
এই ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর্স কোর্স, জুনিয়র কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স এবং এয়ার স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ফ্লাইং কনভারশন কোর্স অন এএন-২৪/২৬ ও ফেমিলিয়ারাইজেশন কোর্স অন এন-৩২ বিমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স ম্যানেজমেন্ট কোর্স এবং চীনা থেকে এনডিইউ কোর্স অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।
স্বাধীনতার পর দেশমাতৃকার টানে এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৯৭২ সালের ২৯ মে পাকিস্তান বিমানবাহিনী থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি ৩ নং স্কোয়াড্রনের অধিনায়ক, এফআইএস-এর অধিনায়ক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, ডেপুটি কমান্ড্যান্ট ও কমান্ড্যান্ট, বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান প্রশিক্ষণ পরিদপ্তর ও বিমান পরিচালন পরিদপ্তরের পরিচালক, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুর এর এয়ার ডিএস, বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাটাশে হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে, তিনি ২০০১ সালের ৩ জুন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ ৩১ বছর ২৫ দিন কর্মজীবন শেষে বিমানবাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
পেশাগত জীবনে এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ছিলেন একজন দক্ষ, মেধাবী ও অনুসরণীয় বৈমানিক। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ ছিল অনুকরণীয়। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তথা দেশের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী, নিরহংকারী, সদালাপী ও পরোপকারী। তাঁর কর্মময় জীবন ও অবদান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মরহুমের রূহের মাগফিরাত ও রহমত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে আইএসপিআর।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স ব ক ব ম নব হ?স ব ক ব ম নব হ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স ব ক ব ম নব হ matter?স ব ক ব ম নব হ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.