লোডশেডিংয়ের প্রভাব সড়কবাতিতেও, রাতে চলাচলে ভোগান্তি
জ্বালানি সংকটের ছায়ায় ঢাকার রাত: সড়কবাতি নিভলে শহরের নিরাপত্তা কোথায়
Bangladailypost.com – ল ডশ ড য় র প রভ - সন্ধ্যার পর যখন শহরের রাস্তায় আলোর প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, ঠিক সেই মুহূর্তেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের ফলে সারা দেশে চলমান লোডশেডিং এখন শুধু ঘর-বাড়ির আলো নয়, বরং পুরো শহরের রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। ঢাকার ব্যস্ত সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় কিংবা সরু অলিগলি—যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন, সেখানকার সড়কবাতি বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিভে যাচ্ছে। ফলে শহরের রাত এখন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে, আর সেই অন্ধকারের মূল ভুক্তভোগী হয়ে উঠেছে সাধারণ পথচারী, নারী, বয়স্ক নাগরিক ও মোটরসাইকেল চালকরা।
লোডশেডিং-এর প্রেক্ষাপট ও শহুরে অবকাঠামোতে প্রভাব
বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের দীর্ঘদিনের ঘাটতি বিদ্যুৎ খাতে চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা—অর্থাৎ লোডশেডিং—এখন প্রায় নিত্যনৈমিতিক ঘটনা। এই সমস্যা শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়; শহরের পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, বিশেষ করে সড়ক আলোকায়ন ব্যবস্থাও এর সরাসরি শিকার। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতিদিন লাখো মানুষ রাতের বেলায় চলাচল করেন। তাদের নিরাপত্তার মৌলিক ভিত্তিই হলো সড়কে পর্যাপ্ত আলো। সেই ভিত্তি যখন বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ভেঙে যায়, তখন শহরের রাত হয়ে ওঠে দুর্ঘটনা ও অপরাধের আশঙ্কায় ভরা।
কাঁটাবনের রাত: একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের চিত্র
গত সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাজধানীর কাঁটাবন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই এলিফ্যান্ট রোডের সড়কবাতিও নিভে যায়। সেই মুহূর্তে রাস্তায় থাকা পথচারীরা হঠাৎ অন্ধকারের মুখোমুখি হন। আবু হাকিম নামে এক পথচারী সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন—
"বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর পুরো সড়ক অন্ধকার হয়ে যায়। গাড়ির আলো ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। হাঁটতে গেলে সামনে কে আসছে বা কোথায় গর্ত আছে, সেটিও বোঝা যায় না। অনেক সময় দেখা যায় অন্ধকারে একজনের মোবাইল টান মেরে নিয়ে গেছে।"
এই বর্ণনা কেবল একজন পথচারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়; এটি প্রতিদিন শহরের হাজারো মানুষের রাতের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। সড়কে আলো না থাকলে ছিনতাই, চুরি বা অন্যান্য অপরাধের সুযোগ বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক নাগরিকদের জন্য এই অন্ধকার অসহনীয় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চালকের দৃষ্টি: গর্ত, দুর্ঘটনা ও অন্ধকারের সমীকরণ
মোটরসাইকেল চালকদের জন্য সড়কবাতি নিভে যাওয়া মানে প্রায়ই প্রাণের ঝুঁকি। নোমান আলী নামে এক মোটরসাইকেল চালকের বক্তব্য—
"সড়কবাতি বন্ধ থাকলে অনেক জায়গায় রাস্তার অবস্থা ঠিকমতো দেখা যায় না। সামনে হঠাৎ পথচারী বা রিকশা চলে এলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।"
ঢাকার সড়ক অবকাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে গর্তের সমস্যা রয়েছে। আলো থাকলে চালকরা এই গর্ত চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলা সম্ভব করে। কিন্তু অন্ধকারে সেই সম্ভাবনা প্রায় শূন্য হয়ে যায়। ঢাকার অ্যাপের মাধ্যমে রাইডশেয়ারিং পরিষেবা প্রদানকারী মিতুল হাসান এই ঝুঁকির আরেকটি দিক তুলে ধরেন—
"রাতে যখন বাইকে রাইডশেয়ার করি, হুটহাট করে অনেক সড়কের লাইট বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ির আলো দিয়ে চলাচল করতে হয়। ঢাকার সড়কে এমনিতেই অনেক জায়গায় গর্ত। কোথায় গর্ত থাকে বোঝা যায় না। কয়েকদিন আগেই গর্তে চাকা চলে গেলে বাইক নিয়ে পড়ে গেছি।"
বিকল্প ব্যবস্থার অভাব: একটি কাঠামোগত ঘাটতি
নগরবাসীদের মূল অভিযোগ এই যে, সড়কবাতির মূল উদ্দেশ্য হলো রাতের বেলায় সড়কে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে বিকল্প শক্তি উৎসের মাধ্যমে এই আলো চালু রাখার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে জনসাধারণকে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য করা হচ্ছে। মিতুল হাসান স্পষ্টভাবে দাবি করেন—
"বিদ্যুৎ চলে গেলেও সড়কের ল্যাম্প পোস্টগুলোর লাইট যেন চালু থাকে—সেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।"
এই দাবি কেবল একজন চালকের ব্যক্তিগত অনুরোধ নয়; এটি শহরের পাবলিক সেফটি পলিসির একটি মৌলিক ঘাটতি। সড়কবাতি যদি শুধু মূল গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে যেকোনো লোডশেডিং-এর মুহূর্তেই শহরের রাত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে যায়। বিকল্প জেনারেটর, সোলার-চালিত ল্যাম্প কিংবা ব্যাকআপ ব্যাটারি সিস্টেমের মতো ব্যবস্থা না থাকলে এই ঝুঁকি প্রতিবারই পুনরাবৃত্তি পায়।
শহুরে নিরাপত্তার বড় চিত্র
ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনতম শহর। রাতের বেলায়ও এখানে লাখো মানুষ চলাচল করেন—অফিস থেকে ফেরা কর্মী, রাতের বাজার থেকে ফেরা ক্রেতা, রাইডশেয়ারিং চালক, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী। তাদের প্রত্যেকের নিরাপত্তার ভিত্তি হলো সড়কে আলো। সেই আলো যখন জ্বালানি সংকটের কারণে নিভে যায়, তখন শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একটি মৌলিক স্তরেই ভেঙে পড়ে। লোডশেডিং-এর সময়সীমা দীর্ঘ হলে পুরো সড়ক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে ডুবে থাকে। এই পরিস্থিতি শুধু অসুবিধার সীমায় থেমে যায় না; এটি দুর্ঘটনার হার বাড়ায়, অপরাধের সুযোগ তৈরি করে এবং শহরের সাধারণ নাগরিকের মৌলিক নিরাপত্তা অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে। জ্বালানি সংকট সমাধানের পথ খোঁজার পাশাপাশি, শহরের আলোকায়ন ব্যবস্থাকে মূল গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল রাখা না যাওয়া—এই দুই বিষয়ই এখন ঢাকার রাতের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ল ডশ ড য় র প রভ?ল ডশ ড য় র প রভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ল ডশ ড য় র প রভ matter?ল ডশ ড য় র প রভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.