National

মুক্তিপণ চেয়ে স্ত্রীকে ফোন, পরে বন বিভাগের কটেজে মিললো ব্যবসায়ীর খোঁজ

og_1789033171_6aa27ad369410

পাওনা টাকার বিরোধে অপহৃত গ্যারেজ ব্যবসায়ী উদ্ধার, গ্রেফতার ৮

Bangladailypost.com – ম ক ত পণ চ য় স – চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় ব্যবসায়িক পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে অপহরণের শিকার গ্যারেজ ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মহামায়া লেক এলাকার বন বিভাগের পরিত্যক্ত একটি কটেজ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কথিত অপহরণকারী দলের মূল পরিকল্পনাকারীসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাদের। উদ্ধার অভিযানে মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশও সহযোগিতা করে।

ফোনে মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার হুমকি

হেলাল উদ্দিনের বাড়ি পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর এলাকায়। তিনি রওশন বোর্ডিংয়ের পাশেই একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন। অভিযোগে উঠে আসে, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন। ভয় দেখিয়ে হেলালকে জোর করে গাড়িতে তোলা হয় এবং পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পরদিন, ৮ সেপ্টেম্বর সকালে হেলালের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের কাছে কল আসে। কলকারী প্রথমে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। টাকা না দিলে হেলালকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে এক লাখ টাকা পাঠানোর দাবিও জানানো হয়।

টাকা না দিলে হেলাল উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বামীর সন্ধান না পেয়ে এবং মুক্তিপণ চাওয়ার পর জেসমিন আক্তার পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পরই পুলিশ অভিযানে নামে। অপহরণের মতো ঘটনায় দ্রুত অভিযোগ দেওয়ার গুরুত্ব এ ক্ষেত্রেও সামনে এসেছে; কারণ মোবাইল ফোন, অবস্থানসংক্রান্ত সূত্র এবং জিজ্ঞাসাবাদ থেকে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

ব্যবসার বিনিয়োগ থেকেই দ্বন্দ্ব

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আবুল হাশেম হেলাল উদ্দিনের পূর্বপরিচিত এবং একসময় তার ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। ব্যবসায় অংশীদার হিসেবে বিভিন্ন সময়ে হেলালের গ্যারেজে তিনি মোট ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। এই অর্থের মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছিল। বাকি ছিল ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

বকেয়া পাওনা আদায়কে কেন্দ্র করে আবুল হাশেম কিছুদিন ধরে হেলালকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য বলছে, ওই অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধ আইনগত পথে সমাধান না করে ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগের পথ নেওয়ার অভিযোগেই এখন আটজনকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা পুলিশকে জানান, আবুল হাশেম এবং তার জামাতা মো. আকরাম মিলে হেলালের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে অন্যদের ভাড়া করে অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন। এসব তথ্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।

যেভাবে পৌঁছানো গেল কটেজে

তদন্তের শুরুতে আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকা থেকে শান্ত মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ধারাবাহিকতায় পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আবুল হাশেমকে আটক করা হয়। এরপর আকবরশাহর লতিফপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার হন মো. আকরাম।

আকরের কাছ থেকে হেলাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এই ফোন উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে। শান্ত মিয়া ও আকরামকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে যে, হেলালকে মহামায়া লেক এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে।

এরপর মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় মহামায়া লেকের ভেতরে অভিযান পরিচালিত হয়। বন বিভাগের একটি পরিত্যক্ত কটেজে গিয়ে পুলিশ হেলাল উদ্দিনকে খুঁজে পায়। একই স্থান থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের পরিচয়

ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আবুল হাশেম (৫২), শান্ত মিয়া (৩২), মো. আকরাম (৩৪), মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), আমজাদ হোসেন (৩৫), মাহবুব রহমান (২৬), মানিক হোসেন (৩০) ও মো. ফারুক (৩৪)।

মহামায়া লেকের কটেজ থেকে গ্রেফতার করা হয় মঈন উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, মাহবুব রহমান, মানিক হোসেন এবং ফারুককে। তাদের সঙ্গে হেলাল উদ্দিনকে সেখানে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার আটজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্তে অর্থ লেনদেন, অপহরণের পরিকল্পনা, ব্যবহৃত যানবাহন এবং মুক্তিপণ চাওয়ার ফোনকলের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

ব্যবসায়িক সম্পর্কের মধ্যে অর্থ লেনদেন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে, কিন্তু তা সমাধানের জন্য আইনসম্মত পথ রয়েছে। পাওনা আদায়ের অভিযোগ থাকলেও কাউকে জোর করে তুলে নেওয়া, আটকে রাখা কিংবা পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া হেলাল উদ্দিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো ঘটনার সঙ্গে কারা কীভাবে যুক্ত ছিলেন, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

Frequently Asked Questions

What is ম ক ত পণ চ য় স?

ম ক ত পণ চ য় স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম ক ত পণ চ য় স matter?

ম ক ত পণ চ য় স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *