National

বিমানমন্ত্রী / জরুরি হাই লেভেল কমিটির সুপারিশে আরও উড়োজাহাজ কিনবে সরকার

og_1789463938_6aa90d8232cbd

বিমানের বহরে দ্রুত নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ

Bangladailypost.com – ব ম নমন ত র জর র – বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজের ঘাটতি কাটাতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন বিমান অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, এ বিষয়ে হাই লেভেল নেগোশিয়েশন কমিটির সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়েই ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির আধুনিকায়ন, সম্ভাব্য এয়ারবাস কেনা এবং বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ক্রয়ের আশ্বাস

মন্ত্রী বলেন, বিমানের বর্তমান বহরে প্রয়োজনের তুলনায় উড়োজাহাজ কম রয়েছে। ফলে বহর সম্প্রসারণের বিষয়টি এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তবে নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

“জরুরি ভিত্তিতে বিমানের বহরে উড়োজাহাজ যুক্তকরণে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হাই লেভেল নেগোশিয়েশন কমিটির সুপারিশের আলোকেই সরকার উড়োজাহাজ ক্রয় করবে।”

উড়োজাহাজ কেনার মতো বড় সিদ্ধান্তে আলোচনা ও দরকষাকষির গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ বহর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শুধু বিমান কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে রুট পরিচালনা, যাত্রীসেবা, পরিচালন সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ও জড়িত। সরকার এ কারণে কমিটির পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায়।

বিমান আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনাও উঠে আসে। সম্ভাব্য এয়ারবাস ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহর ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সক্ষমতা তৈরি হবে, সেটিও জাতীয় এয়ারলাইন্সের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিমানের বহর সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রীসেবার মান, সময়ানুবর্তিতা এবং পরিচালন সক্ষমতা নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছে। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ থাকলে সংস্থাটির পরিকল্পিত ফ্লাইট পরিচালনা ও বহর ব্যবস্থাপনায় আরও স্থিতিশীলতা আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কার্গো ও মেইল খাতে এইচআরসিএম স্ট্যাটাসের প্রভাব

আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপ করা হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল বা এইচআরসিএম স্ট্যাটাসও গুরুত্ব পায়। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ওপর এ স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। এর ফলে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই মর্যাদা প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কার্গো ও ডাকসামগ্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের আস্থা ও কার্যকারিতার বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

“বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম বা ইডিএস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সন্তোষজনক রেটিং পেয়েছে। এ অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এইচআরসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে বলে সরকার আশা করছে।

এই স্ট্যাটাস তুলে নেওয়া গেলে কার্গো পরিচালনার ক্ষেত্রে সময় ও ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পণ্য ও ডাকসামগ্রী আকাশপথে পরিবহন করা হয়, সেগুলোর প্রক্রিয়াকরণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ধাপের প্রভাব কমানো সম্ভব হতে পারে।

এভিয়েশন হাব গড়তে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার আগ্রহ

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বৈঠকে বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের বিকাশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়ে দুই দেশের আলোচনায় বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং পরিচালন দক্ষতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। এভিয়েশন হাব গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিমানবন্দর সুবিধা, যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রসঙ্গ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে এ কাজে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের আগমন ও প্রস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা কার্যক্রম থাকে। যাত্রী, লাগেজ, কার্গো এবং উড়োজাহাজের মাটিতে অবস্থানকালীন সেবার সমন্বয় এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তৃতীয় টার্মিনালকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যৎ পরিচালন কাঠামোর দিকেও ইঙ্গিত দেয়।

নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা, কার্গো নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং তৃতীয় টার্মিনালের সেবা ব্যবস্থাপনা—সবগুলো বিষয় মিলিয়ে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ সামনে এসেছে। সরকার এখন ক্রয় প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছে।

Frequently Asked Questions

What is ব ম নমন ত র জর র?

ব ম নমন ত র জর র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব ম নমন ত র জর র matter?

ব ম নমন ত র জর র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *