Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফেরাতে এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের ৯ দাবি

Published August 13, 2026 · Updated August 13, 2026 · By Richard Moore - bangladailypost.com

Foto : Richard Moore - bangladailypost.com

পার্বত্য এলাকার স্থায়ী শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের নতুন দাবি

Bangladailypost.com – প র বত য চট টগ র - পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তার, নতুন সশস্ত্র দলগুলোর উত্থান এবং আন্তসীমান্ত অপরাধের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ।

স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে এই সংগঠনটি নয়টি দাবি উপস্থাপন করেছে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিঞা হলে আয়োজিত 'পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ' শীর্ষক সেমিনারে এই দাবিগুলো জানানো হয়।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ

সাইফুল্লাহ খান সাইফ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার, নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান এবং আন্তসীমান্ত অপরাধ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটির প্রায় ১৩ হাজার ২৯৪ বর্গকিলোমিটার, যা বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১০ শতাংশ। কৌশলগতভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। সশস্ত্র সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, গুম, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য চোরাচালানসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে।

এছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব, এনজিও এবং আইএনজিওর সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা, প্রবাসী উপজাতিদের দেশবিরোধী প্রচারণা, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প প্রত্যাহার, পার্শ্ববর্তী দেশের মদদসহ নানাবিধ কারণে পাহাড় অশান্ত।

চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষের পরিসংখ্যান

সশস্ত্র গ্রুপগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪১টি খাত থেকে বছরে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে। আত্মগোপনে থাকা মাইকেল চাকমার আবির্ভাব হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, অস্ত্র চোরাচালান সব কিছু বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত এক বছরে জেএসএস এবং ইউপিডিএফের আন্তকোন্দলে ৪১ জনের মৃত্যু (নিরীহ জনগণসহ) হয়েছে। এছাড়া, জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গত দুই বছরে সংঘর্ষে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়েছে। বিগত দুই বছরে ১০৬ জন উপজাতি এবং বাঙালী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে অপহৃত হয়েছে।

মাইকেল চাকমা ঢাকার বুকে ঘুরে বেড়ালেও তাকে সরকার আটক করছে না। এমনকি তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলায় রাঙামাটি আদালত সাত বছরের কারাদণ্ড দিলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সরকার তাকে আটক করছে না।

আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিকাশ ও ভারতের সম্প্রসারণ

২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং ভারতে বসবাসকারী জো সম্প্রদায়ের দ্বারা এক জাতি গঠনের জন্য মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা তার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপরদিকে, ২৭ ফেব্রুয়ারি চিন রাজ্যের দুটি প্রতিরোধ গোষ্ঠী মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ কমাতে এবং চিন জাতীয় পরিষদ গঠনের জন্য একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মিজোরাম রাজ্যের এমপি ভানলালভেনা সিএনএফের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন এবং তাদের ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের আহ্বান জানান। এই সমস্ত কার্যকলাপ ভারতের সম্প্রসারণের এজেন্ডা নির্দেশ করে।

মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান

পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও পাহাড়ের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সশস্ত্র তৎপরতা, অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন পক্ষের স্বায়ত্তশাসন ও 'আদিবাসী' পরিচয়কেন্দ্রিক দাবির প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে-তা জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের আরও দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী ভূমিকা প্রয়োজন। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলকে শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোরও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

এক্স ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের ৯ দফা দাবি হলো-

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is প র বত য চট টগ র?

প র বত য চট টগ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প র বত য চট টগ র matter?

প র বত য চট টগ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.