নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করবে খুলনা-ইতালির মিলান
খুলনা সিটি করপোরেশন ও মিলান: নিরাপদ খাদ্য ও অপচয় রোধে নতুন অধ্যায়
Bangladailypost.com – ন র পদ খ দ য ন - বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ শহর খুলনা এবার ইতালির মিলান সিটির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য অপচয় নিয়ন্ত্রণে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎে এই যৌথ উদ্যোগের রূপরেখা আলোচিত হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই তথ্য প্রকাশ করেন।
মিলানের দশ বছরের অভিজ্ঞতা, খুলনার প্রয়োজন
মিলান সিটি ২০১৫ সাল থেকে সিস্টেম্যাটিকভাবে ফুড সেফটি ও খাদ্য অপচয় প্রতিরোধে কাজ করছে। ইউরোপের অন্যতম শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র হিসেবে মিলান শহরের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় যে অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে, তা এখন খুলনার মতো একটি বাংলাদেশি শহরের জন্য প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মিলান সিটি একটি বাংলাদেশি আর্বান সিটির সঙ্গে ফুড সিকিউরিটি ও খাদ্য অপচয় রোধে যৌথ কাজ করতে আগ্রহী। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পক্ষ খুলনা সিটি করপোরেশনকে এই সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে নির্বাচন করেছে।
উনারা একটা শহরকে চয়েস দিতে বলেছেন আমাদেরকে। যে আমাদের একটা আরবান সিটির সঙ্গে মিলান যৌথভাবে এই ফুড সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করতে চায়। আমরা সেই ক্ষেত্রে মিলানের সঙ্গে সিমিলার মিল রেখে আমরা খুলনা সিটিকে চয়েস দিয়েছি যে, খুলনা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে তারা এই বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারে।
খুলনা শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বসতি ও খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা বিবেচনায় এই সহযোগিতা সময়োপযোগী। খাদ্য অপচয় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয় — এটি পুষ্টি নিরাপত্তা, পরিবেশ ও শহর ব্যবস্থাপনার একাধিক মাত্রায় প্রভাব ফেলে। মিলানের দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা থেকে যে নীতিগত ও কারিগরি জ্ঞান আসবে, তা খুলনার স্থানীয় প্রেক্ষাপটে অভিযোজিত হলে শহরের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
স্থাপত্য-শিক্ষায় ইতালীয় অংশীদারিত্ব
খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি সাক্ষাৎে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয় — বাংলাদেশের স্থপতিদের প্রশিক্ষণ ও স্থাপত্য-ক্ষেত্রে যৌথ কাজ। ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো জানিয়েছেন, ইতালি বাংলাদেশের স্থপতিদের প্রশিক্ষণ দিতে এবং স্থাপত্য-প্রকল্পে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। এই প্রেক্ষিতে ইতালি পক্ষ একটি সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ কয়েকজন স্থপতিকে দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
বাংলাদেশের স্থপতিদের উনারা প্রশিক্ষণ দিতে চান এবং স্থপতিদের নিয়ে কাজ করতে চান। সেই ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং কিছু স্থপতিদের উনারা সে দেশে ইনভাইটেশন করেছেন, আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বাংলাদেশ পক্ষ এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং সংখ্যা ও পরিমাণ নিশ্চিত হলে প্রেরণ করা হবে। ইতালি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য-ঐতিহ্যের দেশ; রেনেসাঁ থেকে আধুনিক নকশা পর্যন্ত তাদের জ্ঞান-অভিজ্ঞতা বিশাল। বাংলাদেশের শহর-পরিকল্পনা ও স্থাপত্য-শিক্ষায় এই অভিজ্ঞতা সংযোজন হলে নগর-বিকাশের মান ও নিরাপত্তা উভয়েই উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতালীয় ভাষা ও দক্ষতা-রপ্তানি: ৩১ দফার বাস্তবায়ন
সাক্ষাৎে আলোচিত হয় আরেকটি বিষয় — ইতালীয় ভাষা শিক্ষায় ইতালির সহযোগিতা। বাংলাদেশ সরকারের ৩১ দফা ইশতেহারে দক্ষতা উন্নয়ন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এই নীতি-রূপরেখার বাস্তবায়নে ইতালি ভাষা একটি কৌশলগত সক্ষমতা। প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি এই সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে।
উনি এটার ব্যাপারে সম্মত হচ্ছেন যে, ঠিক আছে, বাংলাদেশের যেকোনো একটা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে তারা ওখান থেকে প্রশিক্ষক পাঠাবে এবং সেই প্রশিক্ষকের মাধ্যমে আমাদের কিছু প্রশিক্ষক তৈরি হবে।
অর্থাৎ, ইতালি থেকে প্রশিক্ষক এসে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এরপর সেই প্রশিক্ষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতালীয় ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এই মডেল শুধু ভাষা-শিক্ষার সীমায় সীমাবদ্ধ নয় — এটি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির পথে একটি ভাষা-সক্ষমতা তৈরি করবে, যা বাংলাদেশি কর্মীদের ইতালীয় শিল্প-সেবা খাতে প্রবেশের দরজা খুলতে পারে।
প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
খুলনা সিটি করপোরেশন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী-নির্ভর শহর। নদী-তীরবর্তী অবস্থান, মাছ-পণ্যের বিশাল বাজার ও কৃষি-নির্ভর অর্থনীতি এই শহরের খাদ্য-ব্যবস্থাপনাকে অনন্যভাবে জটিল করে তোলে। খাদ্য অপচয় এখানে শুধু বাণিজ্যিক ক্ষতি নয় — এটি স্থানীয় পুষ্টি-সুরক্ষারও হুমকি। মিলানের সঙ্গে এই সহযোগিতা যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে খুলনা শহরের খাদ্য-সরবরাহ শৃঙ্খলে নজরদারি, সংরক্ষণ-প্রযুক্তি ও অপচয়-নিয়ন্ত্রণে নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। একই সঙ্গে স্থাপত্য-শিক্ষা ও ভাষা-সক্ষমতায় ইতালীয় অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের দক্ষতা-অর্থনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন র পদ খ দ য ন?ন র পদ খ দ য ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন র পদ খ দ য ন matter?ন র পদ খ দ য ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.