Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো অন্তঃসত্ত্বার, বাঁচেনি গর্ভের সন্তানও

Published September 13, 2026 · Updated September 13, 2026 · By Mary Jones - bangladailypost.com

Foto : Mary Jones - bangladailypost.com

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, রক্ষা পেল না গর্ভের শিশুও

Bangladailypost.com – ড ঙ গ ত প র ণ - ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মারা গেছেন অর্পিতা দাশ (৩৫)। শুক্রবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। মায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ার পর গর্ভে থাকা শিশুটিকেও আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

অর্পিতা দাশ চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী। তাদের এটি ছিল প্রথম সন্তান। আগামী ১২ অক্টোবর শিশুটির জন্ম হওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারিত ছিল। মা ও অনাগত সন্তানের একসঙ্গে মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

জ্বর থেকে শনাক্ত হয় ডেঙ্গু

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্পিতা জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর গত ৬ সেপ্টেম্বর তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। শুরুতে চিকিৎসা চললেও পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক জটিলতা বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার মধ্যেই শুক্রবার বিকেলে তার মৃত্যু ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার অর্পিতাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার অবস্থা তখনই গুরুতর ছিল।

“বৃহস্পতিবার তাকে আনা হয়েছিল। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় আইসিইউতে রাখা হয়। গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে তিনি মারা যান। তিনি ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি সন্তানসম্ভবা ছিলেন। মা মারা যাওয়াতে গর্ভে থাকা সন্তানটিও মারা গেছে।”

ডেঙ্গুজনিত জটিলতায় মৃত্যু

চিকিৎসকেরা অর্পিতার মৃত্যুর ক্ষেত্রে ডেঙ্গু এক্সপ্যান্ডেড সিন্ড্রোমের কথাও উল্লেখ করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে তিনি ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কারও অবস্থার অবনতি হলে শরীরে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে, আর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এমন সংকট মা ও গর্ভের শিশুর জন্য বিশেষ উদ্বেগের হয়ে দাঁড়ায়।

ডেঙ্গু সাধারণত জ্বর দিয়ে শুরু হলেও সব রোগীর উপসর্গ একরকম হয় না। জ্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত দুর্বলতা, পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট, রক্তপাতের লক্ষণ বা দ্রুত শারীরিক অবনতির মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় জ্বরকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

অর্পিতার ক্ষেত্রে প্রথমে জ্বর দেখা দেওয়ার পর পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিশ্চিত হয়। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই তার অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তাকে হাসপাতালে ভর্তি এবং পরে আইসিইউতে নিতে হয়। ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর রোগীর অবস্থার পরিবর্তন সতর্কভাবে নজরে রাখা প্রয়োজন।

পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি

প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় থাকা একটি পরিবারের জন্য এ মৃত্যু অপূরণীয় বেদনার। ১২ অক্টোবর যে শিশুটির পৃথিবীতে আসার কথা ছিল, মায়ের জীবনাবসানের সঙ্গে সেই প্রত্যাশারও অবসান ঘটল। অর্পিতা ও তার অনাগত সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতার গুরুত্বও এ ঘটনায় সামনে এসেছে। এডিস মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে জন্ম নিতে পারে। তাই বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পানি জমতে পারে এমন পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার। ফুলের টবের নিচের পাত্র, অব্যবহৃত টায়ার, ড্রাম, বালতি, বোতল বা খোলা পাত্রে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা মশার বংশবিস্তার কমাতে সহায়তা করতে পারে।

জ্বর হলে নিজে থেকে অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়া, প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি কিংবা আগে থেকে জটিল রোগে ভোগা কারও জ্বর দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের এই ঘটনায় একটি পরিবারের দুটি প্রাণ হারানোর বেদনার পাশাপাশি ডেঙ্গু মোকাবিলায় দ্রুত শনাক্তকরণ, সতর্ক পর্যবেক্ষণ এবং সময়মতো চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও আবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ড ঙ গ ত প র ণ?

ড ঙ গ ত প র ণ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ড ঙ গ ত প র ণ matter?

ড ঙ গ ত প র ণ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.