Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান

Published September 9, 2026 · Updated September 9, 2026 · By Karen Wilson - bangladailypost.com

Foto : Karen Wilson - bangladailypost.com

প্রায় চার দশক পর আবার বাংলাদেশের হাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের শীর্ষ আসন

Bangladailypost.com – জ ত স ঘ স ধ রণ - নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সত্যনিষ্ঠা, আনুগত্য ও বিবেকের সঙ্গে এই পদ পালনের শপথ নিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, অর্পিত দায়িত্ব সম্পূর্ণ সততা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পালন করা হবে।

"দায়িত্ব পালনকালে কেবল জাতিসংঘের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।"

এই ঘোষণার সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সনদ এবং সভাপতির নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। খলিলুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, দায়িত্ব পালনে তিনি কোনো সরকার বা বহিরাগত কোনো সত্তার নির্দেশনা চাইবেন না, এমনকি তা গ্রহণ করা থেকেও বিরত থাকবেন। বক্তব্য শেষে উপস্থিত সদস্যদের করতালি ও অভিনন্দনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ও ভোটের চিত্র

গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খলিলুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে এই পদে বিজয়ী হন। নির্বাচনে সর্বমোট ১৯০টি দেশ ভোটে অংশ নেয়। খলিলুর রহমান পান ৯৯টি দেশের ভোট, অন্যদিকে সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পান ৯১টি দেশের সমর্থন। এই ব্যবধান মূলত এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের ভোটব্যাংকের সমর্থন থেকে এসেছে, যা এই অধিবেশনের জন্য পদের অধিকারী হিসেবে নির্ধারিত ছিল।

জাতিসংঘের প্রচলিত আঞ্চলিক রোটেশন পদ্ধতি অনুযায়ী সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। ৮১তম অধিবেশনের ক্ষেত্রে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পালা ছিল। এই গ্রুপের মধ্যে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস — দুই দেশই এই পদের জন্য প্রার্থী পাঠায়। বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী হিসেবে আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন।

বাংলাদেশের জন্য ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায়

এই বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারপর থেকে বাংলাদেশ এই শীর্ষ আসনে আর কোনো প্রতিনিধি পাঠাতে পারেনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি জাতিসংঘের সবচেয়ে দৃশ্যমান একক ভূমিকার মধ্যে একটি। এই পদধারী প্রতি বছর ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সম্মুখে অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন, আন্তর্জাতিক আলোচনার সূত্র নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন এবং জাতিসংঘের প্রতিটি অঙ্গসংস্থানের কার্যক্রমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। পদটি কোনো নির্বাহী ক্ষমতা রাখে না, তবে প্রতীকী ও কার্যক্রম-নির্দেশনামূলক গুরুত্ব অপরিসীম।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটাধিকার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি প্রতি বছর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকটির একটি করে ভোটাধিকার থাকে। সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থীই সভাপতি নির্বাচিত হন। একাধিক রাউন্ডে ভোট হলেও প্রথম রাউন্ডেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া গেলে নির্বাচন সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

খলিলুর রহমানের এই নির্বাচন বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন কমিটি ও অঙ্গসংস্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে, তবে সাধারণ পরিষদের শীর্ষ আসনটি দেশটির জন্য ছিল দূরের স্বপ্ন। এবার সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাবের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is জ ত স ঘ স ধ রণ?

জ ত স ঘ স ধ রণ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ ত স ঘ স ধ রণ matter?

জ ত স ঘ স ধ রণ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.