চাহিদার অর্ধেকের চেয়েও কম গ্যাস সরবরাহ চট্টগ্রামে
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকের দিকে এলেও চাহিদার অর্ধেকেরও কম পাচ্ছেন গ্রাহকরা
Bangladailypost.com – চ হ দ র অর ধ ক - বঙ্গোপসাগরের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। পাইপলাইনে ধীরে ধীরে চাপ বাড়তে থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পথে। তবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণ বাড়লেও চট্টগ্রামের গ্রাহকরা চাহিদানুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না। বর্তমানে এখানে যা সরবরাহ করা হচ্ছে তা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) স্বাভাবিক সময়ে দুই টার্মিনাল থেকে নিয়মিত ৯৫০ থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করে। সর্বশেষ শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় দুই টার্মিনাল থেকে ৮৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের তথ্য জানিয়েছে আমদানিকৃত এলএনজিকে প্রাকৃতিক গ্যাস হিসেবে পাইপলাইনের সরবরাহের দায়িত্বে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।
চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান
জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও চট্টগ্রামকে উপেক্ষিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। শনিবার সকালে মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকে যখন ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল, তখন চট্টগ্রামে গ্যাস বিপণনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে (কেজিডিসিএল) দেওয়া হয় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। তবে বিকেল ৩টায় মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকে যখন ৮৬০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হচ্ছিল, তখন চট্টগ্রামে দেওয়া হচ্ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের চাহিদা চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। স্বাভাবিক সময়ে দেশি উৎস ও আমদানির মাধ্যমে পেট্রোবাংলা সরবরাহ দেয় তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা নিয়ন্ত্রণাধীন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করার সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।
গ্যাস সংকটের কারণ ও পুনরুদ্ধার
কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে নিয়মিত ৯৫০ থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করে আরপিজিসিএল। কিন্তু গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ওই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সারাদেশে পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়।
পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি মেরামত করে গত ৫ আগস্ট আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে সামিটের এফএসআরইউ গত তিন দিন এলএনজি খালাস বন্ধ রাখে। এতে টার্মিনাল দুটি থেকে সরবরাহ একেবারে কমে গিয়ে সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া শত শত শিল্প কারখানা। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল থেকে সামিটের এফএসআরইউ জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়।
গ্রাহকদের পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি
কেজিডিসিএল তথ্য অনুযায়ী, কেজিডিসিএলের অধীনে ৬ লাখ ২ হাজার ৪০৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান গ্রাহক হিসেবে আছেন। এর মধ্যে গৃহস্থালি ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬টি, বাণিজ্যিক সংযোগ ২ হাজার ৯১১টি, শিল্প সংযোগ রয়েছে ১ হাজার ১৯৯টি, কেপটিভ পাওয়ার ২০৯টি, সিএনজি রিফিলিং স্টেশন ৭০টি, চা-বাগান দুটি, সার কারখানা চারটি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংযোগ রয়েছে পাঁচটি।
সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩৫০-৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। স্বাভাবিক সময়ে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের কম-বেশি সরবরাহ পেতো কর্ণফুলী গ্যাস। বর্তমানে পাচ্ছে ১৩০-১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ১৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কর্ণফুলী গ্যাসকে দেওয়া হয়। এরমধ্যে বিদ্যুতে ৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে চাহিদা ১৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট, দুই সার কারখানার সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট, তাদের চাহিদা ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ক্যাপটিভ, আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ অন্যান্য গ্রাহকদের সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ৭১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৮৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। এতে লাইনে গ্যাসের চাপ ধীরে ধীরে বাড়াতে শুরু করবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আরপিজিসিএল চট্টগ্রামের উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মো. নাছির উদ্দীন জাগো নিউজকে এই তথ্য জানান।
পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে। সকাল থেকে গ্যাস ধীরে ধীরে বাড়ছে। সকালের দিকে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো পেয়েছি। বিকেল ৩টার দিকে ১৩০-১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি গ্যাস পাচ্ছি। সরবরাহ ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হচ্ছে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী জাগো নিউজকে এই তথ্য জানান।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is চ হ দ র অর ধ ক?চ হ দ র অর ধ ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does চ হ দ র অর ধ ক matter?চ হ দ র অর ধ ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.