চট্টগ্রামে ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগী গ্রেফতার
চট্টগ্রামে বিদেশি নম্বর দিয়ে চাঁদাবাজির নতুন প্যাটার্ন: ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগী হাতেনাতে
Bangladailypost.com – চট টগ র ম ড ভ ড - শহুরে এলাকায় ফোনে বিদেশি নম্বর থেকে কল আসে, সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে প্রাণের হুমকি দেওয়া হয়, আর চাঁদার দাবি পৌঁছায় ব্যবসায়ী বা বিত্তবান ব্যক্তির কাছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় এই ধরনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বহুবার ঘটেছে। এই ধারারই এক বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। কারাগারে বন্দি সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সঙ্গে যুক্ত ৭ জন সহযোগীকে একযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার অভিযান ও বিজ্ঞপ্তি
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত চলা এক দীর্ঘ অভিযানে এই ৭ জনকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মিয়া এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেফতারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং পূর্বে আটক সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও জব্দকৃত জিনিসপত্র
পুলিশের হাতে পড়া ৭ জনের মধ্যে রয়েছেন: হাটহাজারীর খন্দকিরা এলাকার কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. মানিক (৪০), নুরুল আলম (৪০), ছিপাতলী এলাকার আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), চিনকদণ্ডী এলাকার আহমদ রেজা শাকিল (২৫) এবং নগরীর বায়েজিদ থানাধীন জালালাবাদ এলাকার মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০)।
এদের কাছ থেকে পুলিশ জব্দ করেছে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিদেশি নম্বরসহ মোট ৪টি মোবাইল ফোন। বিদেশি নম্বর ব্যবহারই ছিল এই চক্রের অন্যতম প্রধান চিহ্ন — নিজ পরিচয় গোপন রাখতে তারা হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কল করত।
মামলার হিসাব
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মোট ২২টি মামলা রুজু আছে। এর মধ্যে আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ ৮টি মামলা রয়েছে। মো. মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও ডাকাতি প্রস্তুতিসহ ২টি মামলা আছে। বাকি চারজন — কামরুল হাসান সাগর, মো. রিকু, তরিকুল ইসলাম রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বরের — প্রতিটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ ৩টি করে মামলা রুজু আছে।
কৌশল: সন্ত্রাসীর নামে আড়াল, চাঁদাবাজির আসল
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মিয়া তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, এই চক্রটি সন্ত্রাসীদের নাম ও পরিচয়কে এক ধরনের অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করত। তারা বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করত, পরে তাদেরকে টার্গেট করত এবং সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করত।
ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বদর সাজ্জাদ ও রাহমানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করলেও গ্রেফতারকৃতরা নিজেদের একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিল।
অর্থাৎ, আসল সন্ত্রাসীরা কারাগারে বন্দি থাকার পরও তাদের নামের ছায়ায় নতুন এক চক্র সক্রিয় ছিল। এই চক্রের সঙ্গে ডেভিড ইমনের সংযোগ ছিল, কিন্তু পরিচালনা ও কার্যক্রম ছিল আলাদা।
সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা: চিকিৎসকের ১০ লাখের দাবি ও ব্যবসায়ীর ফোন
পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একজন চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে এবং '১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না' — এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একইভাবে বদরঘীর পাড়া এলাকার একজন ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদার দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়।
এই ধরনের ঘটনাগুলো সম্পর্কে পুলিশ অবগত হওয়ার পরই তদন্ত তীব্রতর করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিদেশি নম্বরগুলোর পিছনের আসল পরিচয় উদ্ঘাটন করা হয়, যা চক্রটির সদস্যদের শনাক্তে সহায়তা করে।
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বৃহত্তম বন্দরশহর এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, বিত্তবান ব্যক্তিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে ফোনে হুমকি দেওয়ার পদ্ধতিটি আধুনিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবিধা নিয়ে চাঁদাবাজদের নতুন কৌশল হিসেবে গড়ে উঠেছে। কলার পিছনে কে আছে তা শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় শিকাররা প্রায়শই ভয়ভীতিতে চাঁদা দেওয়ার পথে ঝুঁকে পড়েন।
ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী পূর্বেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এই চক্রের সম্পূর্ণ ছবি আঁকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পুলিশের এই অভিযান চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষত যখন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is চট টগ র ম ড ভ ড?চট টগ র ম ড ভ ড is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does চট টগ র ম ড ভ ড matter?চট টগ র ম ড ভ ড matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.