Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সোমবার

Published July 26, 2026 · Updated July 26, 2026 · By Mary Williams - bangladailypost.com

Foto : Mary Williams - bangladailypost.com

চট্টগ্রামে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন

Bangladailypost.com – চট টগ র ম চ ন অর - আগামী সোমবার, ২৭ জুলাই তারিখে চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বা সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। দেশের অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগভিত্তিক শিল্প প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগটি বিবেচিত হচ্ছে।

উচ্চস্তরের অতিথিবৃন্দ

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, চাঈনা রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

বাংলাদেশ ও চীনের জি-টু-জি উদ্যোগের আওতায় কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারা প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে এই অঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের কার্যক্রম

এই অনুষ্ঠানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। একটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন করা হবে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন করা হবে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও এই অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও কর্মসংস্থান

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। এর মাধ্যমে এক লাখেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। রপ্তানিমুখী শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটবে। চট্টগ্রামকে আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি এই প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নে এই প্রকল্পের আওতায় জেটি সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন সুবিধা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য তরল শোধনাগার, বহুমুখী জেটি, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, সীমানা প্রাচীর ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এই অবকাঠামো প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকার বহন করবে। ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে। চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট সুবিধার আওতায় এই অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী কৌশলগত অবস্থানের কারণে সিইআইজেড বাংলাদেশের শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।