প্রেম যমুনার ঘাটে সে আসবেই
প্রেম যমুনার ঘাটে সে আসবেই: রিতু ও রাজুর অপেক্ষার গল্প
Bangladailypost.com – প র ম যম ন র ঘাটে বসে আছে রিতু। একমাস পার হয়ে গেছে, তবু তার চোখ নদীর ওপারের দিকে। হাত দিয়ে মাথা ঠেকিয়ে নিঃশব্দে সে তাকিয়ে আছে। রাজু কথা দিয়েছিল—সূর্য ওঠার আগেই সে ঘাটে পৌঁছাবে। আজ তারা একসঙ্গে পালিয়ে যাবে। সেই বিশ্বাসেই গভীর রাতে ছোট্ট একটি ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছে রিতু।
একের পর এক নৌকা ওপার থেকে এপারে ভিড়ছে। মাঝিদের হাঁকডাক, যাত্রীদের কোলাহল—সবই চলছে আগের মতো। শুধু আসছে না রাজু। প্রতিটি নৌকা ঘাটে ভিড়লেই রিতুর বুকের ভেতর আশার ঢেউ ওঠে, আবার মুহূর্তেই তা ভেঙে পড়ে। অপেক্ষা দীর্ঘ হতে হতে দুপুর গিয়ে বিকেল নামে। তবু রাজুর দেখা নেই।
প্রথম পরিচয়
অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে রিতুর মনে ভেসে ওঠে দুই মাস আগের এক সন্ধ্যার স্মৃতি। সেদিন এই একই ঘাট থেকে নৌকায় করে বগুড়া যাচ্ছিল রিতু। নৌকাতে উঠতে একটু ভয় পাচ্ছিল সে। ঠিক তখনই এক তরুণ হাত বাড়িয়ে বলেছিল, 'সাবধানে, আমার হাতটা ধরুন।' রিতু সংকোচ নিয়ে হাত বাড়াতেই তরুণটি তাকে নিরাপদে নৌকাতে তুলে দিয়েছিল। সেই ছিল রাজুর সঙ্গে প্রথম পরিচয়।
বিস্তীর্ণ যমুনার বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল নৌকা। নদীর বুকে জেগে থাকা বালুচরগুলো সাদা কাশফুলে ঢাকা। দূরে কয়েকটি কুকুর নিশ্চিন্তে হাঁটছে। একপাল হাঁস জলের ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে। ছোট ছোট মাছধরা নৌকাতে জেলেরা জাল ফেলছে। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে সাদা বকের ঝাঁক। সন্ধ্যার সোনালি আলোয় পুরো নদী যেন এক জীবন্ত ছবিতে পরিণত হয়েছিল।
প্রকৃতির সেই অপার্থিব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রিতু বলেছিল, 'এক্সকিউজ মি, আমাকে একটা ছবি তুলে দেবেন?' রাজু হেসে উত্তর দিয়েছিল, 'শিওর, হোয়াই নট?' 'থ্যাংক ইউ।' 'ইটস ওকে।' সেই ছবিই হয়ে উঠেছিল তাদের পরিচয়ের প্রথম উপলক্ষ।
ফেসবুকে কথোপকথন
ঘাটে পৌঁছে রাজু বিনয়ের সঙ্গে রিতুর ফেসবুক আইডি চেয়েছিল। শ্যামলা বর্ণের ছিমছাম গড়নের মেয়েটিকে প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছিল তার। বাসায় ফিরে রাজু মেসেজ করল, 'হাই, বাসায় পৌঁছেছেন?' রিতু প্রথমে চিনতে না পেরে লিখল, 'কে আপনি?'
আমি আপনার অপূর্ব মুহূর্তের ফটোশ্রমিক।
রিতুর ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল, 'ও আচ্ছা, আপনি!' 'জি, আমি রাজু। কেমন আছেন?' 'ভালো আছি। একটু আগেই বাসায় পৌঁছেছি। আপনাকে ধন্যবাদ।' 'ধন্যবাদ কেন?' 'আমাকে সাহায্য করলেন, আবার ছবিও তুলে দিলেন।' 'এটা তো আমার দায়িত্ব ছিল। একটা কথা বলি?' 'শিওর।' 'সন্ধ্যার সেই প্রকৃতির মাঝেও আপনার হাসিটাই সবচেয়ে সুন্দর ছিল।' রিতু মৃদু হেসে লিখেছিল, 'ওটার কৃতিত্ব কিন্তু আপনার।' 'কীভাবে?' 'আপনি এত সুন্দর করে ছবিটা তুলেছেন বলেই।' 'না, ছবি সুন্দর হয়েছে কারণ আপনি সুন্দর।' 'মোটেও না। আপনার চোখ আর হাতের ছোঁয়াতেই ছবিটা সুন্দর হয়েছে।' রাজু শুধু লিখেছিল, 'ধন্যবাদ।' সেই দিনের কথোপকথন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছিল প্রতিদিনের অপেক্ষায়। পরিচয়ের মাত্র কয়েক দিনেই তারা ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
ঘাটে অপেক্ষা
আর আজ, সেই সম্পর্কের টানেই রিতু আবার ফিরে এসেছে প্রেম যমুনার ঘাটে, রাজুর অপেক্ষায়। কিন্তু রাজু আসেনি। ঘাটের ছাউনিতে বসে রিতু নিজের সঙ্গে নিজেই কথা বলছে, 'বাড়ি ফিরে গেলে বাবা আমাকে মেরে ফেলবেন। আমি কোথায় যাব? না, আর ফিরে যাওয়ার পথ নেই। আজ না হোক কাল রাজু আসবেই। সে আমাকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। মাসখানেক কথোপকথনে আমি তাকে চিনেছি। সে আমাকে ফেলে যেতে পারে না...' কিন্তু দিন গিয়ে যায়। একদিন, দুইদিন, তারপর একসপ্তাহ। রাজুর কোনো খোঁজ নেই। ততদিনে রিতুর মুখে একফোঁটা অন্নও ওঠেনি। অথচ ক্ষুধা বা তৃষ্ণার অনুভূতিও যেন হারিয়ে গেছে। সারাক্ষণ নদীর ওপারের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। প্রতিটি নৌকা ঘাটে ভিড়লেই বুকের ভেতর আশা জাগে–এই বুঝি রাজু এলো। কিন্তু প্রতিবারই সে ভুল প্রমাণিত হয়।
অপেক্ষা দীর্ঘ হতে হতে একসময় একমাস পেরিয়ে যায়। ঘাটের মানুষ তার পরিচয় জানতে চায় কিন্তু কোনো উত্তর দেয় না। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিতে চায় কিন্তু সে পরিচয় দেয় না। সেখান থেকে ওঠে না।
রাজুর ফিরে আসা
একদিন রাজু তার স্ত্রীকে নিয়ে মাদারগঞ্জ ঘাটে আসে। সেখান থেকে নৌকায় করে বগুড়া যাবে। তিন বছর আগেই তার বিয়ে হয়েছে। নৌকা যমুনার বুক চিরে এগিয়ে চলেছে। নদীর ঢেউগুলোর দিকে তাকিয়ে রাজুর মনে ভেসে উঠছে রিতুর মুখ। সে রিতুকে ভালোবেসেছিল–এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সেই ভালোবাসার কোনো পরিণতি ছিল না। দ্বিতীয় বিয়ের কথা প্রকাশ পেলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা ছিল। দায়িত্ব, সংসার আর চাকরির নিরাপত্তার কাছে একদিন আবেগকে হার মানাতে হয়েছিল। তাই পালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সে আর ঘাটে আসেনি। এই অপরাধবোধ আজও তাকে তাড়া করে ফেরে।
নৌকা ঘাটে ভিড়তেই রাজু এক হাতে লাগেজ আর অন্য হাতে স্ত্রীর হাত ধরে নামল। কয়েক কদম এগোতেই তার চোখ আটকে গেল ঘাটের ছাউনির দিকে। একটি মেয়ে বসে আছে। শরীরে ময়লা, ছেঁড়া কাপড়। চুল জট বেঁধে এলোমেলো। কতদিন গোসল করেনি বোঝার উপায় নেই। শুকনো মুখ, কঙ্কালসার দেহ। গালে হাত রেখে সে শূন্য দৃষ্টিতে নদীর দিকে তাকিয়ে আছে। প্রথমে রাজু চিনতে পারেনি। কিন্তু একটু কাছে যেতেই বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। মেয়েটি আর কেউ নয়–রিতু। রাজুর হাত থেকে লাগেজ মাটিতে পড়ে গেল। তার মনে পড়ে গেল একমাস আগে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির কথা। সে-ই তো রিতুকে বলেছিল, 'ঘাটে চলে এসো, আমরা একসঙ্গে চলে যাব।' রিতু এসেছিল। কিন্তু রাজু আসেনি। আজও রিতুর কাঁধে সেই ব্যাগ। যেন সে এখনো অপেক্ষা করছে, অথবা অপেক্ষা করতে করতেই সময়ের কাছে হার মেনে সবকিছু ভুলে গেছে। রাজুর চোখ ভিজে উঠল। পা দুটো সামনে এগোতে চাইছে না। তবু সাহস সঞ্চয় করে কাছে গিয়ে
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: রিতু কেন প্রেম যমুনার ঘাটে অপেক্ষা করছিল? উত্তর: রিতু রাজুর প্রতিশ্রুতির কথা মনে রেখেছিল। রাজু তাকে বলেছিল, 'ঘাটে চলে এসো, আমরা একসঙ্গে চলে যাব।' সেই প্রতিশ্রুতির জন্যই রিতু একমাস ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছিল।
প্রশ্ন: রাজু কেন ঘাটে আসেনি? উত্তর: রাজু তিন বছর আগেই বিয়ে করেছিল। দ্বিতীয় বিয়ের কথা প্রকাশ পেলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা ছিল। দায়িত্ব, সংসার আর চাকরির নিরাপত্তার কাছে আবেগকে হার মানাতে হয়েছিল।
প্রশ্ন: রিতু ও রাজুর প্রথম পরিচয় কোথায় হয়েছিল? উত্তর: প্রেম যমুনার ঘাটে। রিতু নৌকায় উঠতে ভয় পাচ্ছিল, তখন রাজু তাকে সাহায্য করেছিল। সেই সময়ই রাজু রিতুর জন্য একটি ছবি তুলেছিল।
প্রশ্ন: রিতু ও রাজুর সম্পর্ক কীভাবে গড়ে ওঠে? উত্তর: ঘাটে পরিচয়ের পর রাজু রিতুর ফেসবুক আইডি চেয়েছিল। ফেসবুকে কথোপকথন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তারা ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন: রাজু কখন ঘাটে ফিরে আসে? উত্তর: একমাস পর রাজু তার স্ত্রীকে নিয়ে মাদারগঞ্জ ঘাটে আসে। সেখান থেকে নৌকায় করে বগুড়া যাবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is প র ম যম ন র ঘ?প র ম যম ন র ঘ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does প র ম যম ন র ঘ matter?প র ম যম ন র ঘ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.