Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

হত্যাচেষ্টা মামলা / এমপি গাজী নজরুলের সহযোগী আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

Published July 25, 2026 · Updated July 25, 2026 · By Joseph Hernandez - bangladailypost.com

Foto : Joseph Hernandez - bangladailypost.com

হত্যাচেষ্টা মামলায় গাজী নজরুলের সহযোগীর কারাফট জিজ্ঞাসাবাদ

Bangladailypost.com – হত য চ ষ ট ম মল - ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুক্রবার বিকেলে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামি রাকিবুল হাসানকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের সহযোগী হিসেবে রাকিবুল হাসান এই মামলায় আসামি। আদালত অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে রিমান্ডে না পাঠিয়ে কারাফট জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ প্রদান করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হুদা ওই দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানির সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

রিমান্ড আবেদনের বিস্তারিত

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, পলাতক অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং গাজী নজরুল ইসলাম ও বাদীর ভাগনিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও উদ্ধারসহ তদন্তের স্বার্থে রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এর আগে একই মামলায় গ্রেফতার অপর আসামি আমিনুর রহমানকে গত বুধবার আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার পারিবারিক যোগাযোগ ছিল। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ওবায়দুর রহমানের এক ভাগনির সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানার পর ওবায়দুর এ সম্পর্কের বিরোধিতা করেন এবং পরে প্রাণনাশের হুমকি পেতে থাকেন।

হামলার বিবরণ ও ভিডিও ফাঁসের সন্দেহ

এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীকে ঘিরে কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও বিভিন্ন মহলের হাতে চলে যায়। এ ঘটনায় বাদীর বিরুদ্ধে ভিডিও ফাঁসের সন্দেহ তৈরি হয়। সেই সন্দেহ থেকেই গত ১৪ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা করা হয়।

তার মা ও বোনের চিৎকারে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে পরে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার পর থেকে আসামিরা বাদীকে বিভিন্নভাবে হত্যা করার হুমকি দিয়ে আসছেন। নিরাপত্তার অভাবে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

দল থেকে বহিষ্কার ও সংসদ সদস্য পদ নিয়ে ব্যবস্থা

ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছে। পরে বিষয়টি তদন্ত করে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছেও চিঠি দিয়েছে দলটি।