বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে প্রকাশ্য সংঘর্ষ: সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তিনজন আহত
Bangladailypost.com – স প র ম ক র ট – সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের চারদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুটি ভিন্ন দলের মধ্যে শুরু হয় কথোপকথন, যা দ্রুত হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে তিনজন আইনজীবী আহত হন। ঘটনার পর ভবন চত্বরে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান দেখা যায়। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
সন্ধ্যার সংঘর্ষ: কী ঘটেছিল
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনের সামনে একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবী জাফর আহমেদের মধ্যে তীব্র কথোপকথন শুরু হয়। এই কথোপকথন খুব দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে পরিণত হয়। প্রায় পনেরো মিনিট পর, সন্ধ্যা ছয়টা পনেরোর দিকে সমিতির ব্যাডমিন্টন কোর্টের পাশে ইব্রাহিম খলিলকে কয়েকজন আইনজীবী মারধর করেন। এরপর দুই পক্ষের আইনজীবীরা একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয় যখন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের চেম্বারেও কয়েকজন আইনজীবী হামলা চালান।
আহত তিন আইনজীবী হলেন ইব্রাহিম খলিল, জাফর আহমেদ ও আনিসুজ্জামান রহমান। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ ধরে ধাক্কাধাক্কির পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
একই দিনে দুপুরের উত্তেজনা
সন্ধ্যার সংঘর্ষের আগেই মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে কর্মরত বিএনপিসমর্থক আইনজীবীরা একটি শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দিকে যাওয়ার পথে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া নিয়োগবঞ্চিত আইনজীবীদের একটি অংশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন তারা।
নিয়োগ বিতর্ক: সংঘর্ষের মূল কারণ
এই বিরোধের পেছনে রয়েছে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। গত ৩০ জুলাই সরকার আগের সব আইন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তার নিয়োগ দেয়। এরপর বাদ পড়া আইন কর্মকর্তা এবং নিয়োগপ্রত্যাশী কিন্তু নিয়োগ না পাওয়া আইনজীবীদের একটি অংশ প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের মূল অভিযোগ হলো, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবারের সংঘর্ষ এই দীর্ঘদিনের বিরোধকে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপান্তরিত করে।
প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন
সংঘর্ষের পর সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক অস্বস্তি দেখা দেয়। তাদের কেউ কেউ মন্তব্য করেন, ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারী আইনজীবীদের এমন প্রকাশ্য সংঘর্ষ খারাপ বার্তা দেয়। বিশেষ করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনেই এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা আরও অস্বস্তি প্রকাশ করেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন,
আমার বলার ভাষা নেই। তারুণ্যের উন্মাদনা এটি হয়েছ।
এরপর তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তাদের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তারা কি দলের কর্মসূচিতে যোগদান করতে পারে? তারা তো রাষ্ট্রের কর্মকর্তা। এটা কি সরকার ও দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা?
এই প্রশ্নের পেছনে রয়েছে একটি বড় প্রশ্ন: রাষ্ট্রের আইন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তারা কি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিতে পারেন, নাকি তাদের ভূমিকা শুধুই প্রশাসনিক ও আইনগত? এই প্রশ্নের উত্তর না পেয়েই আইনজীবী সমাজের ভেতরে বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার সংঘর্ষ সেই বিভাজনের সবচেয়ে দৃশ্যমান ও তীব্র রূপ হিসেবে ইতিহাসে লেখা হয়ে গেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স প র ম ক র ট?
স প র ম ক র ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স প র ম ক র ট matter?
স প র ম ক র ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

