Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

পিএম অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সেই হরিদাস ২ দিনের রিমান্ডে

Published September 10, 2026 · Updated September 10, 2026 · By Mary Williams - bangladailypost.com

Foto : Mary Williams - bangladailypost.com

পিএম অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে ফ্ল্যাট প্রতারণার অভিযোগ, হরিদাসের দুই দিনের রিমান্ড

Bangladailypost.com – প এম অফ স র কর মকর - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজধানীর নিকেতনে ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হরিদাস চন্দ্র তরনী ওরফে সঞ্জিত ওরফে তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সাত দিনের হেফাজত চাইলেও আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল উদ্দিন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতিতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

মামলার এজাহার ও রিমান্ড আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত করাতেন। সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে সরকারি সুবিধা ও আবাসনের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এই কৌশলেই নিকেতন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলা হয়। মামলার বাদী, যিনি অভিযুক্তের কলেজজীবনের পরিচিত ও বন্ধু বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ আছে, ফ্ল্যাট কেনার আলোচনা থেকে তাদের সঙ্গে লেনদেনে জড়ান। আবেদনপত্রে বাদীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

অভিযোগের বিবরণে বলা হয়, নির্মাণাধীন ভবনের ওই ফ্ল্যাটটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮০ লাখ টাকা। ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বাদী বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ, বিকাশ এবং ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দেন। পরে কাজ শেষ করার কথা তুলে আরও ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকের দুটি চেক নেওয়া হয়।

তবে অর্থ গ্রহণের পরও ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। বরং সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে বাদীর দাবি। এক পর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, যে ফ্ল্যাটটি তাকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়া কিংবা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে যেসব বিষয় সামনে

উত্তরা পশ্চিম থানায় ২৪ আগস্ট মামলাটি করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ৪০৬ ধারাটি সাধারণভাবে অর্পিত সম্পত্তি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত, আর ৪২০ ধারায় প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ বা অর্থ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়টি থাকে। মামলায় এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানকালে এ প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে হরিদাসের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় জড়িত অন্য কয়েকজন সহযোগী এখনও পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের পরিচয়, ঠিকানা ও বর্তমান অবস্থান নির্ণয়ের জন্য অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের কাছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বলে দাবি করা মার্চেন্ট ব্যাংকের দুটি চেক উদ্ধার করা। এই চেক দুটি কার কাছে রয়েছে, কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলো লেনদেনের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত—এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়ার জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ রানা আদালতে জানান, হরিদাস বর্তমানে উত্তরা পশ্চিম থানার অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় কারাগারে আছেন। বর্তমান মামলার জট খুলতে তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন।

সাত দিনের আবেদনের বিপরীতে দুই দিন

তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, পলাতক সহযোগীদের খোঁজ, তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, দুটি চেকের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং ঘটনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার জন্য দীর্ঘ সময়ের জিজ্ঞাসাবাদ দরকার। শুনানি শেষে আদালত পুলিশের চাওয়া পুরো সময় অনুমোদন না দিয়ে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণের সিদ্ধান্ত নয়; এটি তদন্তের একটি ধাপ। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার তথ্য যাচাই, অন্য অভিযুক্তদের সন্ধান এবং আলামত উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্তের অগ্রগতি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

ফ্ল্যাট কেনাবেচার মতো বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে পরিচয়, প্রকল্পের মালিকানা, অনুমোদন, চুক্তিপত্র ও অর্থ প্রদানের নথি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারি দপ্তরের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is প এম অফ স র কর মকর?

প এম অফ স র কর মকর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প এম অফ স র কর মকর matter?

প এম অফ স র কর মকর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.