ডা. আশিককে নির্যাতনের সময় একজন বলছিলেন ‘স্যার, ও অনেক মোটা, মরে যাবে’
টিএফআই সেলে নির্যাতনের শিকার ডা. আশিকের জবানবন্দিতে নতুন তথ্য
Bangladailypost.com – ড আশ কক ন র য তন - আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপক্ষের ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ডা. আশিক উল আকবর। ৩১ বছর বয়সী এই চিকিৎসক টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন বা টিএফআই সেলে গুমের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেন। তাঁর জবানবন্দিতে আটক, নির্যাতন, জোর করে স্বীকারোক্তি লিখিয়ে নেওয়া এবং পরে র্যাব-১-এর মিডিয়া সেন্টারে অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে ছবি তোলার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া গেছে।
আটকের পরের ঘটনা
ডা. আশিকের বাবা রংপুরে বসবাস করেন। ২০১৬ সালে তিনি রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের 'সাথী' ছিলেন এবং শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতেন। ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের ডাকে ঢাকার শাপলা চত্বরের সমাবেশেও গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তার সরকার এবং ভারতবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করতেন। এসব পোস্টে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার ও ফলো করতেন।
২০১৬ সালের ২৩ মে গাজীপুরের টঙ্গিতে মামার বাড়িতে ছিলেন ডা. আশিক। তাঁর ভাষ্য, রাত সাড়ে ৩টার দিকে দরজার বাইরে প্রচণ্ড শব্দে নক করার আওয়াজ পান। দরজা খুললে ১০ থেকে ১২ জন সাদা পোশাকধারী তাকে নাম জিজ্ঞাসা করেন। নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা মাথায় একটি পাতলা কালো কাপড় পরিয়ে মারধর করতে করতে বাসা থেকে বের করে আনে। বাড়ি থেকে বের করার সময় একটি কালো মাইক্রোবাস দেখতে পান বলে জানান তিনি।
তাকে ওই গাড়িতে তোলা হয়। চোখ শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয় এবং মাথায় পরানো হয় 'জমটুপি'। তাঁর দুই পাশে দুজন বসে কোমর শক্ত করে ধরে রাখে এবং পেছন থেকে তাকে মারতে থাকে। দেড় ঘণ্টার মতো চলার পর গাড়িটি একটি অজ্ঞাত স্থানে পৌঁছায়। সেখানে বিমান ওঠানামার শব্দ শুনতে পান বলে জানান তিনি। গাড়ি থেকে নামানোর পর প্রথমে চার থেকে পাঁচ ধাপ সিঁড়ি, এরপর ডান দিকে আরও পাঁচ থেকে ছয় ধাপ এবং পরে সামনে ও ডান দিকে আরও ১০ থেকে ১২ ধাপ সিঁড়ি বেয়ে তাকে একটি স্থানে দাঁড় করানো হয়।
নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা
সেখানে স্টিলের দরজা খোলার শব্দ শোনেন তিনি। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের সামনের করিডোরে কাপড় দিয়ে ঘেরা একটি জায়গায় রাখা হয়। দুই হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। তাঁর নিজের কাপড় খুলে একটি পুরোনো লুঙ্গি পরিয়ে দেওয়া হয়। সাক্ষীর বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে দিনে তিনবার খাবার দেওয়া হতো। খাবার খাওয়ার সময় এক হাতের হ্যান্ডকাফ খুলে চোখের বাঁধন কিছুটা ওপরে তোলা হতো। পেছনে একজন লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন।
'যা খাবার দেওয়া হতো সেটাই খেতে হতো। খেতে না চাইলে প্রচুর মারধর করতো।'
গোসল এবং টয়লেট ব্যবহারের জন্য তাকে সামনে চার থেকে পাঁচ ধাপ সিঁড়ি নামিয়ে বাম দিকে একটি কক্ষের সঙ্গে যুক্ত টয়লেটে নেওয়া হতো। এক হাতের হ্যান্ডকাফ খুলে তাকে ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হতো। ভেতরে ঢুকে চোখের বাঁধন খুলে সর্বোচ্চ তিন মিনিটের মধ্যে পাখানা, প্রস্রাব ও গোসল শেষ করতে হতো। তিন মিনিটের বেশি সময় লাগলে মারধর করা হতো। কাজ শেষ করে চোখ আবার বেঁধে দরজায় নক করতে হতো। পাহারাদাররা চোখের বাঁধন পরীক্ষা করে আবার হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তাকে আগের জায়গায় নিয়ে যেত। দিনে মাত্র দুবার টয়লেটে নেওয়া হতো। এর বেশি যেতে চাইলে মারধর করা হতো বলে তিনি জানান। প্রয়োজন হলে দুই হাতের হ্যান্ডকাফ দিয়ে আঘাত করে শব্দ করতে হতো। তখন পাহারাদাররা এসে সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করতো। সেখানে থাকার সময় ট্রেন চলাচলের শব্দও শুনতে পেতেন বলে জানান ডা. আশিক।
ঝুলিয়ে মারধর ও স্বীকারোক্তি
একদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে ঢুকিয়ে তাকে একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করতে বলা হয়। অস্বীকার করলে শুরু হয় মারধর। তাঁর হাতের হ্যান্ডকাফ খুলে একটি গামছা হাতে বাঁধা হয়। গামছার সঙ্গে একটি হুক লাগিয়ে একটি মেশিনের সাহায্যে তাকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁর ওজন বেশি হওয়ার কারণ ঝুলন্ত অবস্থায় দুই হাতের বগলের নিচের চামড়া ছিঁড়ে যেতে থাকে। তখন পাশে থাকা একজন ফিসফিস করে বলেন, 'স্যার, ও অনেক মোটা, মরে যাবে স্যার।' এরপর তাকে নামিয়ে আবার জঙ্গি সংগঠনের সদস্য হিসেবে স্বীকার করতে বলা হয়। তিনি অস্বীকার করলে বলা হয়, তাদের কাছে এর চেয়েও বেশি নির্যাতনের ব্যবস্থা আছে। তবুও অস্বীকার করার দুই কানের লতিতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়।
এই পর্যায়ে জবানবন্দি দিতে গিয়ে সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, তখন তাঁর মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছিল এবং তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, যা বলবে আমি তাই স্বীকার করবো। এরপর তাকে একটি প্রিন্টেড কাগজ এবং একটি সাদা কাগজ দেওয়া হয়। প্রিন্টেড কাগজ দেখে সাদা কাগজে একই লেখা লিখতে বলা হয়। এক হাতের হ্যান্ডকাফ খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং চোখের বাঁধন কিছুটা ওপরে তোলা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তাঁর পেছনে দুজন লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
'আরও অত্যাচারের ভয়ে প্রিন্টেড কাগজে থাকা লেখা হুবহু খুব দ্রুত সাদা কাগজে লিখি,' বলেন তিনি।
এ সময় তাঁর ফেসবুক আইডি এবং পাসওয়ার্ড নিয়ে নেওয়া হয়। লেখা শেষ হলে আবার হ্যান্ডকাফ পরিয়ে এবং চোখ বেঁধে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে একদিন তাকে আরেকটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চোখের রেটিনা এবং ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। সাদা কাগজে লেখা জবানবন্দির ভিডিও স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। ডা. আশিক বলেন, আমাকে আনুমানিক ৬০ দিন ২৪ ঘণ্টা চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো থাকত। দীর্ঘ সময় চোখ
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ড আশ কক ন র য তন?ড আশ কক ন র য তন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ড আশ কক ন র য তন matter?ড আশ কক ন র য তন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.