Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সরকারি খরচ আরও কমাতে বলেছে আইএমএফ, বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা

Published September 10, 2026 · Updated September 10, 2026 · By Joseph Hernandez - bangladailypost.com

Foto : Joseph Hernandez - bangladailypost.com

আইএমএফ কর্মসূচিতে ব্যয় সংকোচনের চাপ বাড়ার অভিযোগ, বাংলাদেশেও গুরুত্ব পাচ্ছে সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্ন

Bangladailypost.com – সরক র খরচ আরও কম ত বল - ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণে বিভিন্ন দেশকে সরকারি ব্যয় কমানোর যে চাপ দেওয়া হচ্ছে, তা আগের দশকের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। সংস্থাটির মতে, কৃচ্ছ্রসাধনের এই প্রবণতা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষার মতো জনগণের মৌলিক চাহিদাসংশ্লিষ্ট খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অক্সফাম বলেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচিতে থাকা দেশগুলোর জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্ধারিত ব্যয় সংকোচনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ঋণ কর্মসূচির ভেতরে সামাজিক খাতের ব্যয় রক্ষার ব্যবস্থাও দুর্বল হয়েছে বলে তাদের দাবি।

কৃচ্ছ্রসাধনের পরিমাণ কতটা বেড়েছে

অক্সফামের হিসাব অনুসারে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইএমএফের ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত গড় বার্ষিক কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যম মান ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির ০.২১ শতাংশ। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের সময়ে তা বেড়ে জিডিপির ০.৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

এই তুলনা থেকে সংস্থাটির বক্তব্য, ঋণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি মাত্রায় সরকারি ব্যয় সীমিত করার চাপের মুখে পড়ছে। সরকারি অর্থব্যয় কমানো হলে প্রথম সারিতে থাকা জনসেবা খাতগুলোর বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর প্রভাব শুধু বর্তমান সেবাপ্রাপ্তির ওপর নয়, দীর্ঘমেয়াদে মানুষের সক্ষমতা, আয় ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।

অক্সফাম মনে করে, আর্থিক স্থিতিশীলতা আনার প্রয়োজনে বাজেট ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন দরকার হতে পারে, কিন্তু তার ভার যেন দরিদ্র ও ঝুঁকিপ্রবণ জনগোষ্ঠীর ওপর অসমভাবে না পড়ে। তাই বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের বদলে এমন অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি, যাতে বৈষম্য না বাড়ে এবং জরুরি জনসেবাও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

আইএমএফের ভিন্ন ব্যাখ্যা

অক্সফামের সমালোচনার জবাবে আইএমএফ বলেছে, তাদের সব ঋণ কর্মসূচিতেই সামাজিক ব্যয়ের জন্য একটি ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে। আইএমএফের মুখপাত্র জুলি কোজাক ১০ সেপ্টেম্বর বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতেই এসব ‘সোশ্যাল স্পেন্ডিং ফ্লোর’ রাখা হয়।

আইএমএফের সব ঋণ কর্মসূচিতেই ‘সামাজিক ব্যয়ের সীমা’ বা ‘সোশ্যাল স্পেন্ডিং ফ্লোর’ রয়েছে।

কোজাকের বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে, সংস্থাটি শুধু ব্যয় কমানোর দিকটি বিবেচনা করে না। দেশগুলো যেন নিজেদের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাজস্ব আয় বাড়লে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য জরুরি সরকারি সেবা পরিচালনার জন্য তুলনামূলক স্থিতিশীল অর্থের জোগান তৈরি হতে পারে।

তবে অক্সফামের প্রশ্ন হলো, ব্যয় সংকোচনের শর্ত ও সামাজিক খাত রক্ষার প্রতিশ্রুতির মধ্যে বাস্তবে কতটা ভারসাম্য রাখা সম্ভব হচ্ছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, আইএমএফ ভবিষ্যতে আবার ১৯৮০-এর দশকের কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচির মতো নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে, যেখানে ঋণ কর্মসূচির শুরুতেই সরকারগুলোকে বড় ধরনের ব্যয় কমাতে বলা হয়।

অক্সফামের আন্তর্জাতিক জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা নাবিল আবদো এমন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, শুরুতেই কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের নির্দেশ দেওয়া এমন একটি সিদ্ধান্ত, যার ক্ষতি সীমিত মাত্রাতেও উপেক্ষা করা যায় না।

শুরুতেই কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ দেওয়া এমন, যেন কোনো দেশকে একবারে পুরো বোতল বিষ খেতে বলা হচ্ছে- যে বিষ অল্প মাত্রাতেও ক্ষতিকর বলে আমরা জানি।

বাংলাদেশের জন্য আলোচনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের অর্থসহায়তা ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন নিয়ে কাজ চলছে। ফলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতগুলো কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, সেই প্রশ্নটি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের কর্মসূচি পর্যালোচনার পর আইএমএফ বলেছিল, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজস্ব বাড়ানো ও ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি সামাজিক, উন্নয়ন এবং জলবায়ু খাতে পর্যাপ্ত ব্যয়ের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। একই সময় অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে অগ্রাধিকারহীন সরকারি মূলধনি ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়েছিল।

সেই পর্যালোচনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার সামাজিক ব্যয়ের আওতায় রাখার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ ছিল। অর্থাৎ সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ শুধু ব্যয় কমানো নয়; কোন ব্যয় কমানো হবে এবং কোন খাতকে সুরক্ষা দেওয়া হবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালেও রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, ভর্তুকি যৌক্তিক করা এবং সীমিত সরকারি সম্পদের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফর শেষে আইএমএফ রাজস্ব আদায় শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়, যাতে সামাজিক ও উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যায়। সংস্কারের সম্ভাব্য প্রভাব থেকে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তার কথাও বলা হয়েছে।

ভারসাম্য রক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ

ঋণ কর্মসূচির অধীনে থাকা দেশগুলোর জন্য মূল প্রশ্ন হলো, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণের মধ্যে কীভাবে কার্যকর ভারসাম্য গড়ে তোলা যায়। বাজেট ঘাটতি, ভর্তুকি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সেসব পদক্ষেপের ফলে মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা বা ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা যেন দুর্বল না হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই বিতর্ক সরাসরি প্রাসঙ্গিক। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার শর্ত পূরণে সরকারি ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে, আবার একই সময়ে উন্নয়ন, জলবায়ু মোকাবিলা এবং সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনও অব্যাহত থাকবে। তাই সংস্কারের ফলাফল মূল্যায়নে শুধু আর্থিক সূচক নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও জরুরি সেবায় প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is সরক র খরচ আরও কম ত বল?

সরক র খরচ আরও কম ত বল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সরক র খরচ আরও কম ত বল matter?

সরক র খরচ আরও কম ত বল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.