রাশিয়ার তেল বাণিজ্যের পক্ষে ভারত
রুশ তেল বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান: কিভ বৈঠকের পর সংলাপের আহ্বান
Bangladailypost.com – র শ য র ত ল ব - ইউক্রেনের রাজধানী কিভে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর একটা সুস্পষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট — দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের সমাধান কোনো একক পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করে সম্ভব নয়; বরং আলোচনা, দ্বিপক্ষীয় সংযোগ ও কূটনৈতিক সংলাপই মস্কো-কিভ দ্বন্দ্বের সমাপ্তির একমাত্র পথ। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি আলাপে জয়শংকর এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
"কোনো দেশ তেল, অ্যালুমিনিয়াম, খনিজ, ধাতু কিংবা সার কিনছে কি না — তার ওপর যুদ্ধের সমাধান নির্ভর করে না। সংঘাত বন্ধের জন্য আলোচনার পথেই এগোতে হবে।"
পশ্চিমা চাপ ও শুল্ক-বিলের প্রেক্ষাপট
এই মন্তব্য আসে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়েছে — রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানোর জন্য। পশ্চিমা যুক্তির মূল ধারা সোজাসাপ্টা: রুশ তেল থেকে আয় কমলে মস্কোর সামরিক-অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল হবে, ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভিত্তি শিথিল হবে। ভারত এই যুক্তিকে মানতে নারাজ।
গত মাসে মার্কিন সিনেটে একটি দ্বিদলীয় বিল পাস হয়েছে, যেখানে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অর্থনীতিতে বাণিজ্য-নির্ভর অর্থপ্রবাহ কমানো। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের বিষয়ে ভারতের পরিকল্পনা জানতে চাইলেও জয়শংকর সরাসরি উত্তর দেননি; বরং তিনি সংলাপের পথের ওপর জোর দেন।
১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি সমীকরণ
জয়শংকর ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীর জ্বালানি চাহিদার কথাও তুলে ধরেন। ১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ — এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একটা স্পষ্ট বার্তা দেন: ইউক্রেনের অবস্থান ভারত সম্মান করে, কিন্তু ভারতের অবস্থানকেও অন্যদের সম্মান করা উচিত।
ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে রাশিয়া থেকে। দেশের শিল্প, পরিবহন ও গৃহস্থালি খাতের চলাচলের জন্য এই সরবরাহ অবিচ্ছেদ্য।
সংখ্যার ভাষায় রুশ তেল-নির্ভরতা
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ। যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ তেলের বাজারে বড় পরিবর্তন আসে; তুলনামূলক কম দামে রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। জুন ও জুলাইয়ে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল — রেকর্ড পর্যায়ে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is র শ য র ত ল ব?র শ য র ত ল ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does র শ য র ত ল ব matter?র শ য র ত ল ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.