Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

মধ্যপ্রাচ্য সংকট / ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, উদ্দেশ্য কী?

Published July 24, 2026 · Updated July 24, 2026 · By Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

Foto : Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর ইরান সফর: কৌশলগত সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক চুক্তির নতুন দিগন্ত

Bangladailypost.com – মধ যপ র চ য স কট - মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ কাজিম আল-জায়েদি ইরানে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছায়। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা।

ইরানি নেতৃত্বের সাথে বৈঠক ও আলোচনা

তেহরানে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাঘের ঘালিবাফের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে যে, এই বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা কর্মসূচি প্রণয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন। তিনি আরবাইন তীর্থযাত্রা এবং ইরানের শহিদ নেতার প্রতি ইরাকিদের শ্রদ্ধা নিবেদনকে দুই জাতির ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

দুই দেশের সব খাতে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদারে একটি সহযোগিতা কর্মসূচি দ্রুত প্রণয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা

ইরানি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান ও ইরাকের নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ইউরোপের আঞ্চলিক সহযোগিতা মডেলের মতো একটি সমন্বিত রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হলে দুই দেশের মধ্যে ট্রানজিট, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় বিদ্যমান নিরাপত্তা চুক্তিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইরাকের কৌশলগত অঙ্গীকার

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি তেহরানের প্রতি বাগদাদের কৌশলগত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ইরাকের ভূখণ্ড কখনোই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি তৈরির ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে বাগদাদ সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অর্থনৈতিক চুক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে চুক্তি চূড়ান্ত করতে তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মন্ত্রীরা তেহরান সফর করছেন। এর লক্ষ্য হলো দুই দেশের পারস্পরিক সদিচ্ছাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়া।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইরাক সরকারের সঙ্গে প্রায় ৬০০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের ৪৮ টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি। এসব চুক্তির মধ্যে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথে তেল রপ্তানির অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালের মধ্যে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।