শশী থারুরের তীব্র আপত্তি: ফারেন কন্ট্রিবিউশন বিল নিয়ে ভ রতক ভ গত হব
Bangladailypost.com – ভ রতক ভ গত হব – ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফারেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬ নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিজ্ঞ নেতা শশী থারুর এই সংশোধনীকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রসারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংসদে এই বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শশী থারুরের মতে, এই আইন কেবল একটি প্রক্রাগত পরিবর্তন নয়, বরং নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে মৌলিকভাবে পুনর্গঠনের চেষ্টা। তিনি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে লিখেছেন যে, বর্তমান প্রশাসন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নয়ন সঙ্গী হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি হিসেবে দেখছে।
এটি শুধু একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্পর্ককেই আমূল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা।
নতুন বিলের মূল বৈশিষ্ট্য ও বিতর্কিত ধারা
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, স্বেচ্ছায় সমর্পণ বা নবায়ন না হওয়ার মেয়াদ শেষ হলে সরকার একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ গঠন করতে পারবে। এই কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অর্থ ও সেই অর্থের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। যদি সম্পদের মধ্যে কোনো উপাসনালয় থাকে, তবে সেই ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
থারুরের অভিযোগ, কঠোর প্রয়োগ ও ধারাবাহিক সংশোধনের মাধ্যমে সরকার জটিল বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে অনুদান পুনর্বণ্টন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যয়ের অনুমোদিত সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশি অনুদান গ্রহণের জন্য দিল্লির একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধের ফলে বিদেশি অর্থায়ন ৮৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ধর্মনিরপেক্ষ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
খ্রিস্টান দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
কেরালার তিরুবনন্তপুরমের সংসদ সদস্য শশী থারুর বলেন, ভারতে চার্চ ও এর অধীনস্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান কোটি কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে নথিভুক্তভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আইনে আরও পরিবর্তন এনে রাষ্ট্রকে সম্পদ অধিগ্রহণের ক্ষমতা দিলে এই পুরো খাত স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়তে পারে।
এই সংশোধনী এমন একটি নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করছে, যা প্রচলিত আইনি সুরক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যাবে।
থারুর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে খ্রিস্টান পরিচালিত দাতব্য ট্রাস্টগুলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তিনি কেরালার সাংসদ হিসেবে লক্ষ্য করেছেন যে, খ্রিস্টান পরিচালিত দাতব্য ট্রাস্ট, স্কুল, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল কলিজ ও কল্যাণমূলক এনজিওগুলো এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় অনুদান, দেশি ফি ও বিদেশি অর্থায়নের সমন্বয়ে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, স্বল্পমূল্যের চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাবৃত্তির অর্থায়ন করে। নতুন আইনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সম্পদ অধিগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে, যা এসব প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগীদের স্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর হবে।
আইনি অনিশ্চয়তা ও গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা
থারুরের ভাষ্য, এফসিআরএ লাইসেন্সসংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে সরাসরি জমি ও ভবন বাজেয়াপ্ত করার সঙ্গে যুক্ত করে বিলটি চরম অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক বিলম্ব বা প্রতিকূল সিদ্ধান্ত মুহূর্তের মধ্যে ৫০০ শয্যার একটি দাতব্য হাসপাতালকে রাষ্ট্রীয় সম্পদে পরিণত করতে পারে। এতে অত্যাবশ্যকীয় জনসেবা ব্যাহত হবে ও কমিউনিটির সম্পদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
থারুর আরও বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার কাজ করে যাওয়া দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন শাস্তিমূলক আইনি কাঠামোর আওতায় আনা গভীর অন্যায। এই বিলকে গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি সংসদে বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি সংস্থা মোট ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি বিদেশি অনুদান পেয়েছে। এছাড়া এফসিআরএ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৪ হাজার ৪৪৯টি সক্রিয় এফসিআরএ সনদ রয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
ফারেন কন্ট্রিবিউশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬ কী? এটি একটি সংশোধনী বিল যা ভারতে বিদেশি অর্থায়ন গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিধানগুলোকে পরিবর্তন করে।
শশী থারুর কেন এই বিলের বিরোধিতা করছেন? থারুর মনে করেন এই বিল রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্পর্ককে আমূল বদলে দেবে এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতাকে সীমিত করবে।
বিলের ফলে বিদেশি অর্থায়নে কতটা হ্রাস হয়েছে? বিলের বিধিনিষেধের ফলে বিদেশি অর্থায়ন ৮৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানা গেছে।
বিলটি কীভাবে দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদকে প্রভাবিত করবে? বিল অনুযায়ী, এফসিআরএ লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাষ্ট্র জমি ও ভবন বাজেয়াপ্ত করতে পারবে, যা দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ভ রতক ভ গত হব?
ভ রতক ভ গত হব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ভ রতক ভ গত হব matter?
ভ রতক ভ গত হব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.