ইন্দোনেশিয়া / ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আঘাত হানল আরও ৩ শক্তিশালী আফটারশক
ফ্লোরস দ্বীপে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২০ জনের মৃত্যু, তিনটি শক্তিশালী পরাঘাত
Bangladailypost.com – ইন দ ন শ য় ৭ ৭ - ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরস দ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চলে শনিবার ভোরের দিকে এক ভয়ংকর ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এই দুর্ঘটনায় অন্তত বিশজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
মূল ভূমিকম্পের পরপরই তিনটি শক্তিশালী পরাঘাত ওই অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা পঁচানব্বই মিনিটে এই ভূমিকম্প শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের হিসাব মতে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল সাত দশমিক সাত। উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ষাট আট কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। কেন্দ্রের গভীরতা ছিল মাত্র দশ কিলোমিটার।
প্রধান কম্পনের পর আধা ঘণ্টার মধ্যে তিনটি শক্তিশালী পরাঘাত অনুভূত হয়। এগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে পাঁচ দশমিক নব্বই, পাঁচ দশমিক ছয় এবং ছয় দশমিক এক। মাউমেরে বন্দরনগরীর আশপাশে উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত বিশজন মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের নাজেওরে রিজেন্সিতে এখনো উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি। সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির তথ্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পূর্ব নুসা তেংগারা পুলিশের প্রধান রুদি দারমোকো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে। বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
এর ফলে ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া এবং উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, উদ্ধার অভিযান আরও এগিয়ে গেলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, নাজেওরে এলাকায় প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে। বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে সরে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে অবশ্য সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি পরবর্তী পরাঘাতের ঝুঁকিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
সত্তর কোটির বেশি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রায় সতেরো হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার'-এর ওপর অবস্থিত। এ কারণে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি।
ফ্লোরস দ্বীপের একই উপকূলীয় এলাকায় ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরেও শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে দুই হাজার পাঁচশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। এবারের ভূমিকম্পের পর সেই পুরোনো দুর্যোগের স্মৃতিও নতুন করে সামনে এসেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা কেএএ
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইন দ ন শ য় ৭ ৭?ইন দ ন শ য় ৭ ৭ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইন দ ন শ য় ৭ ৭ matter?ইন দ ন শ য় ৭ ৭ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.