Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

২০২৬ বিশ্বকাপ তারকা / জার্মান কোচের তুরুপের তাস হতে পারেন লেনার্ট কার্ল

Published May 19, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Jennifer Garcia - bangladailypost.com

Foto : Jennifer Garcia - bangladailypost.com

Bangladailypost.com – ২০২৬ ব শ বক প ত রক - বয়স মাত্র ১৮। এই বয়সেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে ঝড় তুলেছেন লেনার্ট কার্ল। বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড গড়া গোল আর জার্মান জাতীয় দলে স্বপ্নের অভিষেক- সব মিলিয়ে ইতোমধ্যেই ভবিষ্যতের সুপারস্টার হিসেবে দেখা হচ্ছে এই তরুণকে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তাই জার্মানির নতুন ‘ওয়ান্ডারকিড’ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে তার নাম। বিশ্ব ফুটবলে নতুন তারকার খোঁজ সবসময়ই থাকে। প্রতি বিশ্বকাপেই উঠে আসে কিছু তরুণ মুখ, যারা নিজেদের প্রতিভা দিয়ে আলো কেড়ে নেয় পুরো বিশ্বের। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তেমনই এক সম্ভাবনার নাম লেনার্ট কার্ল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মান জাতীয় দলে নিজের জায়গা করে নেওয়া এই আক্রমণভাগের ফুটবলারকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ড্রিবলিং, গতি, সৃজনশীলতা আর গোল করার দুর্দান্ত ক্ষমতায় অনেকেই তাকে জার্মান ফুটবলের পরবর্তী সুপারস্টার হিসেবে দেখছেন। জন্ম: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ দল: জার্মানি ও বায়ার্ন মিউনিখ আন্তর্জাতিক অভিষেক: ২৭ মার্চ ২০২৬, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে (১৮ বছর বয়সে) পজিশন: অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার/রাইট উইঙ্গার বিশেষ দক্ষতা: ড্রিবলিং, ফিনিশিং, গতি ও সৃজনশীলতা বেশ কিছুদিন ধরেই তাকে জার্মানির অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে চলতি মৌসুমে তিনি যেভাবে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে তিনি অনেক দূর যাওয়ার জন্যই এসেছেন। মাত্র এক মৌসুমের ব্যবধানে লেনার্ট কার্ল যুব দলের প্রতিভাবান খেলোয়াড় থেকে বায়ার্ন মিউনিখের পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে দুর্দান্ত উন্নতি করা এই তরুণ ফুটবলার ১৯ এপ্রিল বায়ার্নের বুন্দেসলিগা শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম বড় ট্রফিও জিতে নিয়েছেন। পরিসংখ্যানই বলে দেয় বায়ার্ন মিউনিখের শিরোপা জয়ে কতটা প্রভাব ফেলেছেন তিনি। মে মাসের শুরু পর্যন্ত বুন্দেসলিগায় ২৫ ম্যাচে করেছেন ৫ গোল, সঙ্গে ৫টি অ্যাসিস্ট। শুধু দেশীয় লিগ নয়, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ছিলেন উজ্জ্বল। ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায় ৮ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে তার করা প্রথম গোলটি ইতিহাস গড়ে। মাত্র ১৭ বছর ২৪২ দিন বয়সে করা সেই গোল তাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী জার্মান গোলদাতায় পরিণত করে। ওই ম্যাচের পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলে আলোচনায় উঠে আসে এই তরুণের নাম। তবে এখানেই থেমে নেই কার্লের উন্নতি। কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির তত্ত্বাবধানে নিজের রক্ষণভাগের কাজেও উন্নতি এনেছেন কার্ল। কোচের লক্ষ্য তাকে পূর্ণাঙ্গ ও এলিট ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলা। জার্মানির সিনিয়র জাতীয় দলেও দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। গত মার্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। অভিষেক ম্যাচেই নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে বাড়িয়ে দেন প্রত্যাশা। জার্মানি কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যানের তরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন তিনি। এদিকে ইনজুরির কারণে সার্জ জিনাব্রির অনুপস্থিতি বিশ্বকাপে কার্লের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর চলতি মৌসুমে তার পারফরম্যান্স দেখার পর খুব কম মানুষই আছেন, যারা মনে করেন না এই তরুণ বিশ্বকাপের মঞ্চেও আলো ছড়াতে পারবেন। জার্মানি কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যান, ‘সে তার খেলায় অসাধারণ ছাপ ফেলেছে। একটু আগ্রাসী স্বভাবের, তবে একই সঙ্গে ভীষণ বিনয়ী। ঠিক জায়গায় ঠিক সময়ে থাকার এবং মাঠে ফাঁকা জায়গা খুঁজে বের করার দারুণ ক্ষমতা আছে তার।’ জার্মান সতীর্থ ফ্লোরিয়ান ভির্ৎজ, ‘সে দারুণ একজন খেলোয়াড় এবং তার সঙ্গে খেলতে খুব ভালো লাগে। আগামী বছরগুলোতে সে আমাদের অনেক আনন্দ দেবে।’ জার্মান ফরোয়ার্ড ডেনিজ উনদাভ, ‘তার মধ্যে ফ্র্যাঙ্ক রিবেরির ছায়া আছে। বয়সের তুলনায় অবিশ্বাস্য রকম স্থির। আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলে এবং দারুণ এনার্জি নিয়ে মাঠে নামে। সত্যিই অসাধারণ একজন ছেলে।’ বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি, ‘সে ভিষণ পরিশ্রমী। অনুশীলন, টিম মিটিং কিংবা ম্যাচ- সব জায়গাতেই মনোযোগী থাকে। প্রতিদিনই উচ্চমানের পারফরম্যান্স দিচ্ছে। অনেক দিক থেকেই সে সঠিক পথে এগোচ্ছে ‘ বায়ার্ন সতীর্থ হ্যারি কেইন, ‘লেনি আমাদের জন্য অসাধারণ কাজ করছে। বিশেষ করে ছোট জায়গায় তার খেলার মান দারুণ। অনেক দল আমাদের বিপক্ষে নিচু ব্লকে বা ৫-৪-১ ফরমেশনে খেলে, তখন জায়গা বের করা কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু লেনি তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ আর ডিফেন্ডার কাটানোর ক্ষমতা দিয়ে সেই জায়গা তৈরি করে দেয়।’