ক্যামেরা চালাতে শেখো, এরপর কিছুক্ষণের জন্য ক্যামেরার কথা ভুলে যাও
ছবি তুলে নিন, তারপর ক্যামেরার উপস্থিতি থেকে মুক্ত হয়ে যান
প্রেরণার মূল উৎস: মানবতা ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক
Bangladailypost.com – ক য ম র চ ল ত - জাগো নিউজের প্রশ্ন ছিল—দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, সংঘাত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর তথ্যচিত্র নির্মাণে নিয়োজিত থাকার পেছনে কী প্রেরণা কাজ করে, এবং সময়ের প্রবাহে কি সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে।
মানবতা সবসময়ই আমার বিশ্বাসের কেন্দ্রে ছিল। তবে মানবতা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। আমাদের জীবন গভীরভাবে জড়িত আছে পরিবেশের সঙ্গে, অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে, আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, যে পানির ওপর নির্ভর করি এবং পৃথিবীতে প্রাণ টিকিয়ে রাখা সূক্ষ্ম প্রাকৃতিক ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে। আমার কাছে আমাদের অস্তিত্ব একটি সম্মিলিত বিষয়। মানুষের ভালো থাকা তার চারপাশের পৃথিবীর ভালো থাকার থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।
বছরের পর বছর ধরে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে কাজ করার পাশাপাশি নিজের দেশ বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে জীবন সম্পর্কে নতুন নতুন উপলব্ধি এসেছে। বাংলাদেশের গ্রামের মানুষ চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্রে অসাধারণ রকমের সরল এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামে অসম্ভব পরিশ্রমী। তাদের অনেকেই আগামীকাল কী হবে, সে বিষয়ে সামান্য নিশ্চয়তা নিয়েই দিন পার করে। তাদের স্বপ্নও খুব একটা বড় না। তারা বিলাসবহুল গাড়ি চালানো কিংবা বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখে না। তাদের চাওয়াগুলো বরং অসাধারণভাবে সাধারণ। টেবিলে পরিবারের সবার জন্য যথেষ্ট ভাত থাকবে, সন্তানদের মর্যাদার সঙ্গে বড় করতে পারবে, শান্তিতে প্রার্থনা করতে পারবে, পরিবারকে ভালোবাসতে পারবে এবং স্রেফ বেঁচে থাকতে পারবে।
ছোটবেলা থেকেই টেলিভিশনে খবর দেখা এবং সংবাদপত্র পড়া ছিল পরিবারের স্বাভাবিক দিনযাপনের অংশ। কাগজের পাতার মধ্যদিয়ে বৃহৎ পৃথিবী ঘরে ঢুকতো—সংঘাত, বৈষম্য, দুর্যোগ, অবিচার আর মানুষের দুর্ভোগে ভরা এক পৃথিবী। বাংলাদেশের খবরগুলো পড়তাম, দেখতাম একই রকম সংগ্রাম আমাদের কাছের মানুষেরাও করছে। ছোটবেলা থেকেই বুঝতে শুরু করেছিলাম, মানুষ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্নভাবে কষ্ট পাচ্ছে। সেসব গল্প আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল। আমাকে ভাবাতো, 'আমি তাদের জন্য কী করতে পারি?' কয়েক বছর পর চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর পাশোনা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পর সেই প্রশ্নের একটি উত্তর খুঁজে পাই। ফটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্র আমাকে এমন একটি ভাষা দিল, যার মাধ্যমে এমন মানুষের জীবন নিয়ে কথা বলা সম্ভব, যাদের কথা হতো অন্যভাবে কখনো দেখা বা শোনা যেত না। বুঝতে পারলাম, ছবি, প্রামাণ্যচিত্র এবং পরে ভিজ্যুয়াল আর্টের মাধ্যমে মানুষের গল্পগুলো সীমানা পেরিয়ে আরও দূরে পৌঁছে দিতে পারি—যেখান থেকে গল্পগুলোর জন্ম। আমি কখনো ভাবিনি, একটি ছবি বা চলচ্চিত্র পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে। তবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম, এটা হতো অন্তত একজন মানুষের জীবনে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আনতে পারে। হতো কাউকে কোনো বিষয় আরও নিরন্তর ভাবে দেখতে, আরও মনোযোগ দিয়ে শুনতে, কোনো অবিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে কিংবা নিজের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জীবনের মা
পেশাগত যাত্রা ও প্রতিষ্ঠান-সম্পর্ক
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এম আর হাসান নামে পরিচিত মোহাম্মদ রকিবুল হাসান একাধারে প্রামাণ্যচিত্রী, চলচ্চিত্রকার, ভিজ্যুয়াল শিল্পী ও সাংবাদিক। মানবিক গল্প, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পরিবেশগত সচেতনতার মধ্যে সেতুবন্ধনই তার সাধনার মূল ভিত্তি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, শ্রম অধিকার, জনস্বাস্থ্য এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর শক্তিশালী দৃশ্যগল্প তৈরি করে তিনি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন এবং খ্যাতি অর্জন করেছেন।
থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন, আল জাজিরা, জুমা প্রেস, ইন্টার প্রেস সার্ভিস, লা মন্ড এবং দ্য ডেইলি স্টারসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু গণমাধ্যমের জন্য কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া ওয়াটারএইড, ইউএন উইমেন, ব্রিটিশ রেড ক্রস, এফএও, বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো সংস্থাগুলোর সাথে মানব মর্যাদা ও সামাজিক প্রভাবের ওপর আলোকপাত করে বানিয়েছেন প্রামাণ্যচিত্র, প্রচারণামূলক ভিজ্যুয়াল ও আলোকচিত্র প্রবন্ধ।
শিক্ষাগত পটভূমি
নিউ ইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব ফটোগ্রাফিতে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ফালমাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফটোগ্রাফিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পইতিহাস ও দর্শন নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন। আঁতেনিও দে ম্যানিলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফটোসংবাদিকতায় পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা নিয়েছেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিল্ম ও ভিডিও প্রোডাকশনের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
স্বীকৃতি ও উল্লেখযোগ্য কাজ
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির তালিকায় রয়েছে লুসি অ্যাওয়ার্ড, ওয়ান ওয়ার্ল্ড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, হিউম্যান রাইটস প্রেস অ্যাওয়ার্ড, অ্যালার্ড ফটোগ্রাফি প্রাইজ, পিএক্স৩ প্রি দে লা ফটোগ্রাফি এবং প্যারিসে অনুষ্ঠিত কোল প্রাইজ প্রদর্শনীর সাথে সম্পর্কিত স্বীকৃতি। প্রশংসিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে 'দ্য টেস্ট অব হানি', 'ফরগেট-মি-নট' এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প 'দ্য ব্লু ফিগ', যা বিশ্বব্যাপী প্রদর্শিত হয়েছে।
শিক্ষকতা
বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ (জেএমসি) বিভাগে তিনি একজন সহযোগী অধ্যাপক (অ্যাডজাঙ্কট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক য ম র চ ল ত?ক য ম র চ ল ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক য ম র চ ল ত matter?ক য ম র চ ল ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.