ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ‘মবের শিকার’ তাহসিন জাহান
ডিনস অ্যাওয়ার্ড না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাহসিন জাহানের
Bangladailypost.com – ঢ ব র ড নস অ য - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী তাহসিন জাহান স্নাতক পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া ডিনস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেননি। রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিষয়টি জানান তাহসিন। তিনি উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতক শেষ করার পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার ইন পাবলিক পলিসি বা এমপিপি প্রোগ্রামে পড়াশোনা করছেন তিনি।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার স্বীকৃতি ফিরিয়ে দেওয়া
তাহসিন জাহান লিখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই তিনি এই স্বীকৃতির অপেক্ষায় ছিলেন। নির্ঘুম রাত, নিয়মিত পরিশ্রম এবং নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগের পর বিভাগে প্রথম হওয়ার অর্জনকে ডিনস অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি না নেওয়াই তার কাছে নৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছে।
“আজ আমার ডিনস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু আমি সেই ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করেছি।”
তার ভাষ্য, ডিনস অ্যাওয়ার্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক পর্যায়ের সর্বোচ্চ ফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মর্যাদার সম্মাননা। যে পুরস্কার একসময় পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করেছেন, সেটি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে কোনো ব্যক্তিগত অর্জনকে তিনি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ওপরে রাখতে চান না।
তাহসিনের বক্তব্যে উঠে এসেছে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা গ্রহণ করা তার কাছে স্বস্তির বিষয় নয়, যেখানে বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা বিশ্বাসের কারণে বাধাগ্রস্ত হলেও প্রশাসন তাদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি বলে তার অভিযোগ।
২০২৪ সালের অভিজ্ঞতার কথা
ফেসবুক পোস্টে ২০২৪ সালের একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তাহসিন জাহান। তার দাবি, কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি মব আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনি হুমকির মুখে পড়েন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, তাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশগ্রহণ এবং স্নাতক থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। শারীরিক নিরাপত্তার আশঙ্কায় একটি পর্যায়ে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি। তবে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক তার শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনি নিরাপদ স্থান থেকে অনলাইনে চূড়ান্ত ভাইভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান এবং স্নাতক সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
“আমার বিভাগের কিছু শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহস দেখিয়েছিলেন। তাদের কারণেই নিরাপদ জায়গা থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভা দিয়ে স্নাতক শেষ করতে পেরেছি।”
সেসব শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাহসিন বলেন, তার বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে তাদের অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, শিক্ষার্থীর অধিকার রক্ষায় নীরব থাকা প্রশাসনের প্রতীকী স্বীকৃতি উদযাপন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
শিক্ষার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন
তাহসিন জাহানের বক্তব্যে শুধু নিজের অভিজ্ঞতাই নয়, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষার্থীর পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। তার দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মতো ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার সমান সুযোগ পাননি।
তিনি মনে করেন, কারাগারে থাকা গুরুতর অপরাধের আসামিরও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার থাকতে পারে; সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পড়াশোনার অধিকার সুরক্ষিত না হওয়া আরও উদ্বেগজনক। তার অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা এবং মৌলবাদী মবের প্রতি প্রশ্রয় বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
পোস্টে তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষদের ক্ষতির দায় থেকেও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের আলাদা করতে পারে না। সরকার পতনের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি উঠলেও অনেক শিক্ষার্থী কেন এখনো নিজেদের শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছেন না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
“ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায্যতা নয়।”
ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানকে পুরস্কারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হিসেবে দেখতে চান না তাহসিন জাহান। তার ভাষ্য, এটি তাদের প্রতি সংহতির অবস্থান, যাদের রাজনৈতিক পরিচয়ই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং যাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সেই মূল্য দিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্যায়ের বদলে ভিন্ন কোনো অন্যায়কে পরিবর্তন বলা যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কেবল ভালো ফলের স্বীকৃতি দেওয়া নয়; সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের সুযোগ এবং শিক্ষা অব্যাহত রাখার অধিকার নিশ্চিত করাও তার মৌলিক দায়িত্ব।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সম্মাননা আয়োজন
সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষদের ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থী এ সম্মাননা পান। একই আয়োজনে সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুজন শিক্ষককেও সম্মাননা দেওয়া হয়।
এই আয়োজনের মধ্যেই তাহসিন জাহানের সিদ্ধান্ত শিক্ষার অধিকার, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে শিক্ষার্থীদের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। ব্যক্তিগত সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে তিনি বৃহত্তর ন্যায়বিচারের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ঢ ব র ড নস অ য?ঢ ব র ড নস অ য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ঢ ব র ড নস অ য matter?ঢ ব র ড নস অ য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.