Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ঢাবি শিক্ষার্থী

Published September 14, 2026 · Updated September 14, 2026 · By Mary Williams - bangladailypost.com

Foto : Mary Williams - bangladailypost.com

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর তিন ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ঢাবি শিক্ষার্থী

Bangladailypost.com – ড কস র স গ রহশ ল - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন।

ঘটনার সময় তিনি সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি অন্তর্ভুক্তির কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আবু তৈয়ব ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি বা ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের যোগসূত্র গভীর হওয়ায় প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সামনে আনার দাবি

ছবি ছিঁড়ে ফেলার সময় আবু তৈয়ব বলেন, ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের দিতে হবে। তিনি মনে করেন, সংগ্রহশালায় কোন ব্যক্তি বা ঘটনার উপস্থিতি কী ধরনের ঐতিহাসিক বার্তা বহন করছে, সেটি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

“এ দেশের ভাষা আন্দোলনের আসল নায়কদের বাদ দিয়ে পাকিস্তানের জাঁদরেল জিন্নাহর ছবি কেন ডাকসু রেখেছে, তার জন্য প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের জবাব দিতে হবে। যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখা হয়?”

তিনি ভাষা আন্দোলনের সংগঠক আবুল কাসেমের ছবি সংগ্রহশালায় রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবিও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ—সব জায়গায় রক্ত দিয়েছে। এখানে ভাষা আন্দোলনের নায়ক আবুল কাসেমের ছবি থাকতে হবে। এখানে শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবিও থাকতে হবে।”

সংস্কারের পর নতুনভাবে চালু সংগ্রহশালা

এর এক দিন আগে, রোববার সংস্কারকাজ শেষে ডাকসু সংগ্রহশালা নতুনভাবে চালু করা হয়। সংস্কারের পর প্রদর্শনীতে জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছিল। এসব উপকরণের একটি ছিল ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহর ভাষণ দেওয়ার দৃশ্য। ওই ভাষণে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

সংগ্রহশালায় রাখা অন্য উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলীয় ছবি। সেখানে জিন্নাহকে দেখা যায়। এছাড়া ১৯৭০ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত জিন্নাহর ছবি-সংবলিত পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনও প্রদর্শনীর অংশ করা হয়েছিল।

এই উপকরণগুলোকে ঘিরেই আপত্তির মূল জায়গা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, উপনিবেশ-পরবর্তী উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ছবি রাখা হলেও, সেটির প্রেক্ষাপট দর্শনার্থীদের কাছে কতটা স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে জিন্নাহর অবস্থান এবং পরবর্তী ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের সমালোচনা

আবু তৈয়ব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অতীতে বহু আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে বিশেষভাবে আলোচিত। তাই সংগ্রহশালার প্রদর্শনীতে কার ছবি রাখা হবে এবং কোন ব্যাখ্যায় তা দেখানো হবে—এসব বিষয়ে বিতর্ক হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে তিনি মত দেন।

ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হতে পারে এমন কোনো উপাদান রাখা হলে তার যথাযথ ব্যাখ্যা থাকা দরকার। তাঁর অভিযোগ, জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বার্তা তৈরি হচ্ছে।

একটি সংগ্রহশালার উদ্দেশ্য শুধু পুরোনো ছবি বা দলিল দেখানো নয়; দর্শনার্থীর সামনে ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা। বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষার অধিকারের প্রশ্নটি কেবল সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয় ছিল না, বরং রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে কারণে ডাকসুর মতো ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহশালায় উপস্থাপিত প্রতিটি উপকরণ নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক।

ছাত্রদলের নিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সোমবার সকালে সংগঠনটি দাবি করে, ডাকসুর বর্তমান পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে উপেক্ষা করছে। তাদের বক্তব্যে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি ‘প্রচ্ছন্ন অনুরাগ’ প্রদর্শনের অভিযোগও তোলা হয়।

সংগঠনটির ভাষ্য, জিন্নাহর ছবি সংযোজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে সংগ্রহশালার নকশা, উপকরণ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে তারা মনে করে।

জিন্নাহর ছবি যুক্ত হওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে অনেকে সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাবলি উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে মত দিচ্ছেন। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ইতিহাসকে কীভাবে এমনভাবে তুলে ধরা যায়, যাতে ঐতিহাসিক দলিলের উপস্থিতি এবং সেই দলিলের রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপট দুটিই পরিষ্কার থাকে।

সংগ্রহশালার তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। এখন নজর থাকবে, ডাকসু কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছবিগুলো অন্তর্ভুক্তির যুক্তি, প্রদর্শনীর প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যতে সংগ্রহশালার উপস্থাপনা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয় কি না।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ড কস র স গ রহশ ল?

ড কস র স গ রহশ ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ড কস র স গ রহশ ল matter?

ড কস র স গ রহশ ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.