Economy

সবুজ ও টেকসই অর্থায়নে ‌‘মন্দা’, কমেছে বিনিয়োগ-আদায়

og_1788403831_6a98e077d3298

সবুজ ও টেকসই অর্থায়নে বিনিয়োগ-আদায়ের দ্বৈত সংকট: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন হিসাব

Bangladailypost.com – সব জ ও ট কসই অর থ – বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উদ্যোগকে অর্থায়নের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য ছিল বহু বছরের পুরোনো। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সেই লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার গতি এখন প্রায় থমকে গেছে। এক বছরের ব্যবধানে সবুজ খাতে নতুন ঋণ বিতরণ কমেছে প্রায় তিন হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা, আর টেকসই অর্থায়নে এই হ্রাস দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণ আদায়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গেছে। অপরদিকে, ঋণ পুনঃতফসিলের হার বেড়েছে — যা ঋণগ্রহীতাদের পরিশোধক্ষমতায় গভীর চাপের ইঙ্গিত দেয়।

বিনিয়োগে এক বছরের তুলনামূলক চিত্র

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত টেকসই অর্থায়ন-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সংখ্যাগুলো দেখে বোঝা যায়, ২০২৫ সালের মার্চ প্রান্তিক শেষে সবুজ শিল্পে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণ ছিল ৮ হাজার ৭৬৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এক বছর পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিকে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ৫ হাজার ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ফলে এক বছরে সবুজ খাতে বিনিয়োগে ঘটেছে প্রায় ৩ হাজার ৫৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হ্রাস।

টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে চিত্র আরও তীব্র। ২০২৫ সালের মার্চ প্রান্তিকে এই খাতে মোট বিনিয়োগ ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ কোটি ২ লাখ টাকা। গাণিতিকভাবে, এক বছরে টেকসই অর্থায়নে বিনিয়োগ কমেছে ৪৯ হাজার ৭৬২ কোটি ৩ লাখ টাকা — যা দেশের বৃহত্তম আর্থিক খাতগুলোর যেকোনো একটিতে এত বড় একক-বছরের হ্রাস অস্বাভাবিক।

আদায়ের পতন ও পুনঃতফসিলের বৃদ্ধি

বিনিয়োগের হ্রাসের পাশাপাশি ঋণ আদায়ের পরিমাণও নেমেছে। ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিকে সবুজ অর্থায়ন থেকে আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৩৮ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ হাজার ৬১৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বছরের ব্যবধানে সবুজ খাতে আদায় কমেছে ৫৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে আদায়ের পতন আরও গভীর। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে এই খাতে আদায় হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৭৭ হাজার ৯৪৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ফলে এক বছরে টেকসই অর্থায়ন থেকে ঋণ আদায় কমেছে ২৫ হাজার ৫৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

বিনিয়োগ ও আদায়ের হ্রাসের বিপরীতে ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে উল্টো প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিকে সবুজ অর্থায়নে ৪১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল মাত্র ৫৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। বছরের ব্যবধানে এই খাতে পুনঃতফসিল বেড়েছে ৩৫৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। টেকসই অর্থায়নেও একই ধরনের চিত্র: চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে তিন হাজার ৭২৪ কোটি ১২ লাখ টাকার ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে, যা আগের বছরে ছিল ২ হাজার ৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ফলে টেকসই খাতে পুনঃতফসিল বেড়েছে এক হাজার ৬৬০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

টেকসই কৃষিতে তিন মাসেই তীব্র পতন

শিল্পখাতের বাইরে টেকসই কৃষিখাতেও অর্থায়ন কমার চিত্র স্পষ্ট। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকে এই খাতে অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। মাত্র তিন মাস পর, ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ২ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকার হ্রাস — যা কৃষি-সংক্রান্ত ঋণের মৌসুমি চক্রের বাইরে একটি অস্বাভাবিক সংকেত।

নীতিগত কাঠামো ও লক্ষ্যমাত্রা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো ১১টি ক্যাটাগরির আওতায় ৬৮ ধরনের টেকসই পণ্য ও সেবায় ঋণ বিতরণের অনুমতি পায়। এই তালিকায় কৃষি, সিএমএসএমই, পরিবেশবান্ধব শিল্প, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত। নীতিমালায় মোট ঋণের অন্তত ২০ শতাংশ টেকসই খাতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মোট মেয়াদি ঋণের অন্তত ৫ শতাংশ পরিবেশবান্ধব বা সবুজ প্রকল্পে অর্থায়নের বাধ্যতামূলক লক্ষ্য রয়েছে।

সবুজ অর্থায়নের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন, পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদনসহ নানা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ঋণ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিবছর বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই রেটিং প্রকাশ করে এবং তাদের কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়ন করে।

উদ্যোক্তাদের মুখে বাস্তবতা

শিল্প উদ্যোক্তা ও বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নেই। তার মতে, গ্যাস ও মানসম্মত বিদ্যুতের নিশ্চয়তা না থাকার পাশাপাশি ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার উদ্যোক্তাদের নতুন ঋণ নেওয়া থেকে বিরত রাখছে।

গ্যাস সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধির দাবি অনেক সময় কারখানা পরিচালনায় বাহতি চাপ তৈরি করছে। সব মিলিয়ে ব্যবসার পরিস্থিতি এখন ভালো নয়। একদিকে ব্যাংকঋণ নিলে তা পরিশোধ করতে হবে, অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এ অবস্থায় উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে কীভাবে পরিশোধ করবেন — এ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফতুল্লা অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীমও একই চিত্রের কথা বলছেন। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কিছু কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু মজুরি বাড়ালেই শ্রমিকের প্রকৃত আয় বাড়ে না। বাহতি মজুরির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজিভাড়া বেড়ে গেলে শ্রমিকের প্রকৃত সঞ্চয় বা নিট আয়ে তেমন পরিবর্তন আসে না।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশের শিল্পখাত

Frequently Asked Questions

What is সব জ ও ট কসই অর থ?

সব জ ও ট কসই অর থ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সব জ ও ট কসই অর থ matter?

সব জ ও ট কসই অর থ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *