বিটিআরসি চেয়ারম্যান / বিনামূল্যে তরঙ্গ দিলে মোবাইল অপারেটররা প্রণোদনা চাইবে
স্পেকট্রাম বিনামূল্যে দিলেও অপারেটররা প্রণোদনা চাইতে পারে: বিটিআরসি চেয়ারম্যান
Bangladailypost.com – ব ট আরস চ য় রম য - বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী মন্তব্য করেছেন, স্পেকট্রামের দাম কমাতে কমাতে যদি একসময় তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বরাদ্দ করা হয়, তখন মোবাইল অপারেটররা সরকারকে প্রণোদনা প্রদানের দাবি তুলতে পারে। তিনি বলেন, স্পেকট্রাম ব্যবহারের জন্যও যদি অপারেটররা অর্থ প্রদানের প্রস্তাব করে, তা অবাক হওয়ার কিছু নয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত 'স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
স্টেকহোল্ডার ট্রায়াঙ্গেল: মানুষ, ব্যবসা ও সরকার
বিটিআরসি প্রধান বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের সমস্যাগুলো কেবল গ্রাহক বা অপারেটরদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। বরং মানুষ, ব্যবসা ও সরকার—এই তিন পক্ষকে একসাথে বিবেচনা করতে হবে। তিনি গত দুই বছর ধরে এই সমস্যাকে 'স্টেকহোল্ডার ট্রায়াঙ্গেল' হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন। এই ত্রিভুজের তিনটি শীর্ষবিন্দু হলো—পিপল, বিজনেস অ্যান্ড গভর্নমেন্ট।
এমদাদ উল বারী জানান, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুটি বিষয়ে অভিযোগ করে আসছে—সেবার মান এবং দাম। সেবার মানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনা আসে কলড্রপ নিয়ে। তিনি বলেন, কোনো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী শতভাগ সঠিকভাবে পরিচালিত হলেও কলড্রপ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পেছনে অসংখ্য কারিগরি কারণ থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মানদণ্ডেও নির্দিষ্ট মাত্রার কলড্রপ গ্রহণযোগ্য ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ (২ শতাংশ) কলড্রপের সমস্যায় ভোগেন। ফলে যার কলড্রপ হচ্ছে, তার কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে গত দুই বছরে দেশে কলড্রপের হার ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
ডেটা দাম ও এআরপিইউ নিয়ে বিতর্ক
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের মোবাইল ডেটার দাম তুলনামূলকভাবে কম উল্লেখ করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশের ডেটা মূল্য প্রায় এক-দশমাংশ। তবে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় দাম আরও কমানো প্রয়োজন।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সাধারণত দুটি বিষয় বলা হয়—স্পেকট্রামের দাম বেশি এবং অপারেটরদের গ্রস আয় বা এআরপিইউ কম। তবে বাংলাদেশে এআরপিইউকে উপযুক্ত সূচক হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তার মতে, ইউরোপের মতো তুলনামূলক কম জনসংখ্যার দেশে এআরপিইউ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু ১৮ কোটি মানুষের দেশে শুধু এআরপিইউ দিয়ে ব্যবসার বাস্তব চিত্র বোঝা কঠিন। এর পরিবর্তে মোট বা গ্রস রাজস্ব বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও মূল্য নির্ধারণ
চলমান ৮৫০ মেগাহার্টজ জিএসএম ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, এই ব্যান্ডের প্রায় ৮ থেকে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অব্যবহৃত রয়েছে। এর মধ্যে রবি প্রায় ৩ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম চেয়েছে। প্রথমে ধারণা ছিল, অন্য কোনো অপারেটরের চাহিদা না থাকলে নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে সেটি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু একাধিক অপারেটর আগ্রহ দেখানোর নিলামের প্রয়োজন দেখা দেয়। আর নিলাম করতে হলে একটি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, স্পেকট্রামটি মাত্র প্রায় তিন বছরের জন্য দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এর মূল্য কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত স্পেকট্রাম ১৫ বছরের জন্য দেওয়া হয়। ফলে ১৫ বছরের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার হিসাব এখানে প্রযোজ্য নয়। 'এ কারণে সরকারের কাছে প্রায় ১০ শতাংশ দাম কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত সিগন্যাল ব্যবহারে গুরুতর ইন্টারফেরেন্সের সমস্যা থাকায় ওই অংশের জন্য প্রায় ২৫ শতাংশ মূল্য কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।'
রাজস্ব ক্ষতির যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
দাম ১০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাবে রাজস্ব হারাবে সরকার—এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বিটিআরসি প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর সেখানে পুরোনো স্পেকট্রাম মূল্যের তুলনায় ১০ বা ২৫ শতাংশ দাম কমানো হলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে—এমন যুক্তি সামনে এসেছে। পুরোনো দামের সঙ্গে তুলনা করে রাজস্ব কমার হিসাব করলেই কি সেটি প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতি? কারণ নির্ধারিত দামে কেউ যদি স্পেকট্রাম না নেয়, তাহলে সরকার কোনো রাজস্বই পাবে না।
এই দামে দিলে যে রাজস্ব পাওয়া যেতো, সেটিকে ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সেই দামে কেউ স্পেকট্রাম না নিলে সেটিও সরকারের জন্য ক্ষতি। অথচ পরে অডিটে আগের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করে কম দামে স্পেকট্রাম বিক্রির কারণে সরকারের 'অপরচুনিটি কস্ট' বা সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, গ্রামীণফোনের সিইও ইকবালুর আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে, টেলিকম বিশেষজ্ঞ নূরুল কবির, এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব ট আরস চ য় রম য?ব ট আরস চ য় রম য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব ট আরস চ য় রম য matter?ব ট আরস চ য় রম য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.