মিউচুয়াল ফান্ডের দাপটে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার
Bangladailypost.com – দ পট দ খ ল ম উচ – তিন দিনের ধারাবাহিক দরপতনের পর সোমবার (২৭ জুলাই) শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সূচনা ঘটেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ উভয় বাজারেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে মূল্যসূচকসহ লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ডের সেরা পারফরম্যান্স
এদিনের লেনদেনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দাপট দেখিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো। লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এদের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকায় অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে প্রায় সব মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বৃদ্ধি পেলে সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়। লেনদেনের শেষ দিকে এই বৃদ্ধির প্রবণতা আরও তীব্র হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ৩১টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে কোনোটির দাম কমেনি। মাত্র ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিভিন্ন খাতের শেয়ারের অবস্থা
ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বৃদ্ধির তালিকায় ২৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের নাম লেখা হয়েছে। বিপরীতে ৫৩টির দাম কমেছে এবং ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩০টির দাম কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সূচকের অবস্থা ও লেনদেনের পরিমাণ
দাম বৃদ্ধির তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২০১ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৭২ কোটি ৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৯১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ফারইস্ট নিটিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। ১৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এমএল ডাইং, ড্রাগন সোয়েটার, আইটি কনসালটেন্টস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, বেক্সিমকো এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অবস্থা
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১২৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬২টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
