AMP
Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ডিএসইর এজিএম নাসির রেজার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, জিডি

Published August 13, 2026 · Updated August 13, 2026 · By Daniel Williams - bangladailypost.com

Foto : Daniel Williams - bangladailypost.com

ডিএসইর এজিএম নাসির রেজার বিরুদ্ধে যৌন হারানির জিডি

Bangladailypost.com – ড এসইর এজ এম ন স র - ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একজন নারী কর্মকর্তা, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার নাসির উদ্দিন রেজার বিরুদ্ধে যৌন হারানির অভিযোগ এনেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি খিলক্ষেত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালে ডিএসইর মনিটরিং বিভাগে কর্মরত অবস্থায় তৎকালীন সরাসরি সুপারভাইজার নাসির রেজা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন হারানি ও উত্ত্যক্ত শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে অসময় বার্তা পাঠাতেন, ভিডিও কল করতেন এবং পরোক্ষভাবে অনৈতিক ইঙ্গিত প্রকাশ করতেন। এক পর্যায়ে অফিস ক্যান্টিনের সামনে তাকে সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ওই নারী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ও বর্তমানে অ্যাক্টিং সিআরও শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি তৎকালীন সিআরও জিয়াউল হাসান খানকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানান। এরপর থেকে নাসির রেজা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

পরে নাসির রেজা প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনিক সহায়তায় মানবসম্পদ বিভাগে (এইচআর) বদলি হয়ে আসেন। অভিযোগকারীর দাবি, সেই পদের সুযোগ নিয়ে কোনো কারণ দর্শানো বা সতর্কবার্তা ছাড়াই কেবল প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ছাঁটাই তালিকায় তার নাম যুক্ত করা হয়।

একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে ঢাকা শহরে সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য আমার চাকরিটিই ছিল একমাত্র সম্বল। কাজের কোনো ত্রুটি ছাড়া কেবল কর্মক্ষেত্রে যৌন হারানির প্রতিবাদ করার জন্য আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা মানবাধিকার ও শ্রম আইনের চরম লঙ্ঘন।

এই নারী কর্মকর্তা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, মানবিক ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে চাকরি পুনর্বহাল এবং ডিএসইতে নারী কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি সিএমজেএফ ও বিএসইসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বপদে পুনর্বহাল ও বিচারের দাবিতে।

তিনি বলেন, কর্মজীবনে তার বিরুদ্ধে কাজ বা শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোনো অনিয়ম কিংবা গাফিলতির অভিযোগ ছিল না। ডিএসই কর্তৃপক্ষও কখনো তাকে কোনো নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেয়নি।

নাসির রেজার প্রতিক্রিয়া

অভিযোগের বিষয়ে নাসির রেজা জাগো নিউজকে বলেন, তার পদে থেকে কোনো কর্মীকে বদলি বা চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য ব্যবস্থাপনা ও বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা যে পজিশনে চাকরি করি, সেখানে একটা পিওনকে ট্রান্সফার করার ক্ষমতাও আমাদের হাতে নেই। এমডি পর্যন্ত অ্যাপ্রুভাল লাগে। আমরা ক্লারিক্যাল ও ডেস্ক জব করি। একজন এক্সিকিউটিভের চাকরি খাওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।

নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে নাসির রেজা বলেন, অভিযোগটি প্রায় সাড়ে ছয় থেকে সাত বছর আগের ঘটনা। এত দীর্ঘ সময় পর বিষয়টি সামনে আসায় তিনি বিস্মিত। তার দাবি, ওই সময় ব্যবহৃত তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং সেটি তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তিনি বলেন, আমার একটা দুর্বল পাসওয়ার্ড ছিল। ওই সময় আমার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। এখন সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে আমরা অনেক সচেতন। ওই অ্যাকাউন্টটা তখন আমার কন্ট্রোলেই ছিল না। এখন জানি না, কোথা থেকে কী হয়েছে।

চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত ও বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। আমি শুধু যারা হ্যান্ডওভার করে আমাদের সেপারেশনের, সেখানে সর্বশেষ ডাকা হয়েছিল। উনি নাকি সিনক্রিটিক করছিলেন, সুইসাইড করবে, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন পরিস্থিতি ম্যানেজ করার জন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু উনি আমাকেই ফাঁসিয়ে দিলেন।

অভিযোগকে নিজের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ উল্লেখ করে নাসির বলেন, বিষয়টি যেহেতু আইনি প্রক্রিয়ায় গেছে, তাই তিনি আইনগতভাবেই এর মোকাবিলা করবেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, যেহেতু উনি আইনে গেছেন, আমি ফেস করবো এবং আমি উনার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবো। আমার যে ক্ষতি করলেন, এই ক্ষতি উনি কখনো পূরণ করতে পারবেন না। কারণ আমরা মিডল ক্লাস ভাই, আমাদের আছে আত্মসম্মানবোধটুকু। অন্য কিছু নেই আমাদের।

নিজের পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদার কথা উল্লেখ করে নাসির বলেন, আমরা ক্লার্কের মতো পরিশ্রম করি, মাস শেষে কিছু বেতন পাই, সংসার চালাই। আছে আত্মসম্মানবোধটুকু। এইটুকু নিয়ে খেলা করা হচ্ছে আজ চাকরি চলে যাওয়ার পরে। যেখানে আমার কোনো হাত নেই। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী কর্মী প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে তার অধীনে ছিলেন। তবে বর্তমান অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে নাসির বলেন, উনি আমার আন্ডারে ছিলেন সাড়ে ছয় বছর আগে সর্বশেষ। আমি তো এইটুকুই বললাম। বাকিটুকু বুঝে নেন।

যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর চাকরিচ্যুত নারীকর্মী জাগো নিউজকে বলেন, হ্যাঁ, আমি গতকাল রাতে থানায় জিডি করেছি। নাসির সাহেব আমাকে আগে বিভিন্নভাবে উক্ত করতেন। আমি সুযোগ দেয়নি বলে, তিনি এখন ক্ষমতা দেখিয়ে আমার চাকরি খেয়ে দিয়েছেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ড এসইর এজ এম ন স র?

ড এসইর এজ এম ন স র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ড এসইর এজ এম ন স র matter?

ড এসইর এজ এম ন স র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.