Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চামড়া শিল্পে ২ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম, ঋণ পাবেন যারা

Published July 30, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

Foto : Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

চামড়া খাতে নতুন অর্থায়ন সুবিধা চালু হচ্ছে

Bangladailypost.com – চ মড শ ল প ২ হ - বাংলাদেশ ব্যাংক চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের জন্য বিশাল আকারের প্রাক-অর্থায়ন তহবিল তৈরি করেছে। এই তহবিলের পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকা। উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা এই তহবিল থেকে কম সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ৩০ জুলাই তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছে। তিন বছর ধরে এই স্কিমটি কার্যকর থাকবে এবং এটি আবর্তনযোগ্য তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।

ঋণের শর্তাবলি ও সুবিধা

নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে নতুন ট্যানারি স্থাপন, বিদ্যমান কারখানা আধুনিকীকরণ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ সনদ অর্জন এবং চামড়া শিল্পের সহায়ক পণ্য উৎপাদনে এই তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এই স্কিমের আওতায় গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ সরবরাহ করবে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন ট্যানারি, কোল্ড স্টোরেজ এবং বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। নতুন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা এবং আধুনিকীকরণের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ঋণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া চলতি মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন মিলবে।

খেলাপি ঋণগ্রহীতা, একই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা বিশেষ তহবিলের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান এবং কাঁচা চামড়া, ক্রাস্ট বা ফিনিশড লেদার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না।

অন্যান্য শর্ত ও প্রত্যাশা

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঋণ গ্রহণের দুই বছরের মধ্যে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই এলডব্লিউজি সনদ অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ সৌরশক্তি থেকে নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, সহজ শর্তে অর্থায়নের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারেনি। নতুন এই তহবিল চালুর ফলে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।