গেজেট প্রকাশ / মার্জিন ঋণে নতুন নিয়ম, ৫০ শতাংশ ইক্যুইটি বাধ্যতামূলক
গ জ ট প রক শ ম - ২০২৫ সালের বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালায় ব্যাপক সংশোধন আনতে বাধ্য করেছে দেশের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক
Table of Contents
বিএসইসির নতুন মার্জিন বিধিমালা: পুঁজিবাজারে ঋণ-নিয়ন্ত্রণে কঠোরতম পরিবর্তন
Bangladailypost.com – গ জ ট প রক শ ম – ২০২৫ সালের বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালায় ব্যাপক সংশোধন আনতে বাধ্য করেছে দেশের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সোমবার, ১৭ আগস্ট তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সংশোধিত বিধানগুলো কার্যকর করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হলো মার্জিন ঋণের ঝুঁকি সীমাবদ্ধ রাখা এবং গ্রাহকের ইক্যুইটি সুরক্ষিত রাখা।
ইক্যুইটি-মার্জিন অনুপাত: ১:১ সীমা ও ৫০ শতাংশ ন্যূনতম শর্ত
সংশোধিত বিধি অনুযায়ী, কোনো মার্জিন অর্থা০নকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের ইক্যুইটির চেয়ে বেশি অর্থ প্রদান করতে পারবে না। অর্থাৎ ইক্যুইটি ও মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১-এর অতিরিক্ত হতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, একজন গ্রাহক নিজের ৫০ টাকা ইক্যুইটি বজায় রাখলে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত মার্জিন ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ঋণ গ্রহণের পরেও হিসাবের ইক্যুইটি মার্জিন অর্থা০নের অন্তত ৫০ শতাংশ হিসেবে বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এই সীমার নিচে নামলে তাৎক্ষণিক মার্জিন কল জারি করতে হবে। নোটিশটি লিখিত আকারে, ই-মেইলে, অথবা গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তার মাধ্যমে পাঠাতে হবে; প্রয়োজনে ফোনেও জানানো সম্ভব।
মার্জিন কল ও বাধ্যতামূলক বিক্রির ধাপ
মার্জিন কল জারির পর তিন ট্রেডিং দিনের মেয়াদে গ্রাহককে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিয়ে ইক্যুইটি ৫০ শতাংশে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই মেয়াদে ব্যর্থ হলে তাকে নতুন করে মার্জিন অর্থা০ন প্রদান করা হবে না। একই সঙ্গে হিসাব সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিকিউরিটিজ বিক্রি করার অধিকার অর্থা০নকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়ে ওঠে যখন ইক্যুইটি মার্জিন অর্থা০নের ২৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়। এই সীমায় পৌঁছালে কোনো পূর্ব-নোটিশ ছাড়াই প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিকিউরিটিজ বাধ্যতামূলকভাবে বিক্রি করতে হবে।
মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটিজ নির্বাচনে শর্তাবলি
নতুন বিধিমালা মার্জিন অর্থা০নের আওতায় আনা সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে কঠোর ফিল্টার প্রয়োগ করেছে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ারের বাইরে অন্য কোনো সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থা০ন করা সম্ভব নয়। ‘জি’, ‘এন’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজ, এবং এসএমই, এটিবি ও ওটিসি প্ল্যাটফর্ম বা বোর্ডে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।
এছাড়া, মার্জিন অর্থা০ন গ্রহণকারী প্রতিটি গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকা আবশ্যক। মার্জিন-অযোগ্য কোনো সিকিউরিটি গ্রাহক নিজস্ব অর্থে কিনলেও তা ইক্যুইটি হিসেবে গণ্য হবে না।
মূল্যায়ন সীমা: পিই ও পিবি রেশিও
শেয়ারের মূল্যায়নেও নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। কোনো সিকিউরিটির পিই রেশিও ৪০-এর অতিরিক্ত হলে, অথবা শেয়ারপ্রতি আয় ঋণাত্মক হলে, ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থা০ন দেওয়া যাবে না। তালিকাভুক্ত জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই রেশিওর পরিবর্তে পিবি রেশিও (মূল্য-নিট সম্পদ অনুপাত) বিবেচনা করা হবে। পিবি রেশিও ৩-এর বেশি হলে বা নিট সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক হলে ওই কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণ প্রদান নিষিদ্ধ।
অর্থা০নকারীর ঋণ-ক্ষমতা ও এক্সপোজার সীমা
প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ-প্রদান ক্ষমতা তার প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদের চার গুণের বেশি হতে পারবে না। একই সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সিকিউরিটিতে মোট বকেয়া মার্জিন অর্থা০নের ২০ শতাংশের অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিষিদ্ধ। এই সীমার উদ্দেশ্য একটি শেয়ারে অতিরিক্ত ঋণ-নির্ভর এক্সপোজার হ্রাস করা।
মার্জিন অর্থা০নের প্রাপ্ত অর্থ শুধুমাত্র মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটি কেনায় ব্যয় করতে হবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার অনুমোদিত নয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থা০নের ন্যূনতম অনুপাত বজায় থাকলে হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও চুক্তি-মেয়াদ
নতুন নিয়মে মার্জিন অর্থা০নকারীদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিধিমালা ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা পরিপালন, বাস্তবায়ন ও তদারকের জন্য কমপক্ষে দুই সদস্যের একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক। কমিটিটি প্রতি বছর অন্তত চারটি সভা আহ্বান করবে এবং সভার কার্যবিবরণী পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
মার্জিন অর্থা০ন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পক্ষ বাতিল না করলে চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়িত হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে লিখিত নোটিশ প্রদান করে অর্থা০নকারী বা গ্রাহক চুক্তি বাতিলের অধিকার পাবেন।
ব্যাংক হিসাব ব্যবস্থাপনায় নতুন শর্ত
গ্রাহকদের মার্জিন অর্থা০নের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজ নামে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাব রাখতে হবে। এই হিসাব শুধুমাত্র মার্জিন-সংক্রান্ত লেনদেনে ব্যবহারযোগ্য। কোনো শাখা বা ডিজিটাল বুথের নামে এ ধরনের হিসাব খোলা যাবে না। ইতোমধ্যে শাখা বা ডিজিটাল বুথের নামে পরিচালিত হিসাব ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পর কমিশনের অনুমোদন ছাড়া পরিচালনা করা যাবে না।
ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন সুবিধা
সংশোধিত বিধিমালায় ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন অর্থা০নের সুযোগও রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু করতে চাইলে মার্জিন অর্থা০নকারীর শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ওই বোর্ড বা শরিয়াহ উপদেষ্টার অনুমোদন লাভ করতে হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গ জ ট প রক শ ম?
গ জ ট প রক শ ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গ জ ট প রক শ ম matter?
গ জ ট প রক শ ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.