অ্যাকাউন্ট না খুলেও অপরাধীর তালিকায় নাম, লেনদেন লাখ লাখ টাকা
ভুয়া অ্যাকাউন্টের ফাঁদে পড়েছেন শিক্ষার্থী
Bangladailypost.com – অ য ক উন ট ন খ - সরকারি বাঙলা কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ইমরান হাফিজের জীবনটা একটু অন্যরকম হয়ে উঠেছে। গত জুন মাসের ছয় তারিখে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে তার কাছে। ফোনের ওপাশ থেকে একজন নিজেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই সুমিত দাশ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে ইমরানের নামে একটি সাইবার পিটিশন মামলা হয়েছে। সিটি ব্যাংকে তার নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যেখানে প্রচুর আর্থিক লেনদেন হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ইমরানের নামে থাকা ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। মামলাটি করেছেন মুহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ নামের একজন।
এমন হঠাৎ তথ্য পেয়ে অবাক হন ইমরান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তার নামে সিটি ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই এবং তিনি কখনো ওই ব্যাংকে যাননি। ট্রেড লাইসেন্সের কথাও তিনি অস্বীকার করেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা চট্টগ্রামে এসে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এতে সন্দেহ হয় ইমরানের। তিনি মনে করেন এটি কোনো প্রতারণামূলক ফোনকল। তাই বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে কাউকে জানাননি।
প্রায় এক মাস পর, অর্থাৎ বারো জুলাই আবারও একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। এবার ফোনে পরিচয় দেন উত্তরা পূর্ব থানার এএসআই বুলবুল। তিনি জানান, ইমরানের নামে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছে, সেখানে বর্তমান ঠিকানা হিসেবে উত্তরা রানাভোলা এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। ইমরান স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কখনো ওই ঠিকানায় বসবাস করেননি বা ওখানে যাননি।
এএসআই বুলবুলের ফোন পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নেন ইমরান এবং পরিবারকে জানান। পনেরো জুলাই তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট থানার এএসআই ফজলুল করিম ইমরানের সাতক্ষীরার স্থায়ী ঠিকানায় উপস্থিত হন। এতে আরও দিশাহারা হয়ে পড়েন ইমরান। তার বাবা অসুস্থ এবং কর্মক্ষম নন। টিউশনি করে নিজের খরচ চালান ইমরান। এর মধ্যে এই উটকো ঝামেলা তার স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নিয়েছে। চিন্তিত তার পরিবারও।
একপর্যায়ে বিষয়টি জাগো নিউজকে জানান ভুক্তভোগী ইমরান। সব শুনে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানে নামেন প্রতিবেদক। অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ইমরান বেশকিছু কাজ এগিয়ে নেন ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য। তিনি সিটি ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে ইমরানকে নিকটস্থ যে কোনো সিটি ব্যাংক শাখায় গিয়ে তথ্য জানতে পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী গত সতেরো জুলাই সিটি ব্যাংক, মিরপুর-১ শাখায় যান। সেখানে শাখা ব্যবস্থাপক যাচাই করে জানান ইমরানের নামে সিটি ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই।
আরও ধন্যে পড়েন ইমরান। পরবর্তী সময়ে ইমরানের উপস্থিতি, অনুমতি ও যাচাই ছাড়া কীভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হলো—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেইল করেন। ইমরান জানতে চান, তার নামে হিসাবটি কোন নথির ভিত্তিতে খোলা হয়েছে, কীভাবে Know your customer-KYC সম্পন্ন হয়েছে এবং হিসাব খোলার আবেদনপত্র, পরিচয় যাচাই-সংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড তদন্তের আওতায় আনা হবে কি না।
একই সঙ্গে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অবহেলা বা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
পরে ফিরতি মেইলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে জানালেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো সন্তোষজনক জবাব বা ব্যাখ্যা দেননি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিজের নিরাপত্তার জন্য গত ছাব্বিশ জুলাই গুলশান মডেল থানার সিটি ব্যাংক, গুলশান-১ শাখার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইমরান। ত্রিশ জুলাই তার নামে থাকা ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মিরপুর শাহ আলী থানায় দায়ের করেন আরেকটি লিখিত অভিযোগ।
পাশাপাশি সিটি ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার ও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেও কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়ায় ব্যাংকটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন ইমরান। জাগো নিউজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে ইমরান হাফিজের নামে সাইবার পিটিশন মামলার কপি, সাইবার ট্রাইব্যুনাল থেকে ইমরান হাফিজের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়ে সিটি ব্যাংক গুলশান-১ শাখা বরাবর পাঠানো চিঠি হাতে আসে জাগো নিউজের।
মামলার বাদী মুহাম্মদ মনজুর মোর্শেদের অভিযোগ, ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে টেলিগ্রামে '@Noor_Alishal' আইডি থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কাজ করে আয় এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখানো হয় তাকে। প্রতারকদের কথার বিশ্বাস করে তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে প্রতারকদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও বিকাশ নম্বরে ধাপে ধাপে মোট ৪২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৪৬ টাকা পাঠান।
পরে আরও অর্থ বিনিয়োগের চাপ দেওয়া হলে তার সন্দেহ হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে এটি একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্র। এরপর তিনি অজ্ঞাতপরিচিত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সিএমপি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে সংশ্লিষ্ট হিসাবধারীর পরিচিতি ও লেনদেনের তথ্য চায়। এরপরই তদন্তে উঠে আসতে শুরু করে কীভাবে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছিল এবং সেই হিসাবের সাথে ইমরান হাফিজের নাম কেন যুক্ত হলো।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is অ য ক উন ট ন খ?অ য ক উন ট ন খ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does অ য ক উন ট ন খ matter?অ য ক উন ট ন খ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.