অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় ১৮০ দিনে সরকারের যত পদক্ষেপ
অর থন ত র স কট ম - মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বাড়ানো, পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো এবং ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতে
Table of Contents
Bangladailypost.com – অর থন ত র স কট ম – মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ বাড়ানো, পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো এবং ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতে সংস্কার-অর্থনীতির বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত ই-বুকে তুলে ধরা হয়েছে এসব উদ্যোগ ও অর্জনের চিত্র। ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকটির তথ্য অনুযায়ী, সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ফলে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে এসেছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও হয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। ১২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও অগ্রগতি হয়েছে বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে নিট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ৪৪ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিল ১২৩ কোটি ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মোট স্থিতি বেড়ে ১ হাজার ৯৬৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১ হাজার ৭৮৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট কাটাতে কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শেয়ারের কৃত্রিম মূল্যসীমা বা ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। ফলে, বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে শেয়ারের দাম নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাজার কারসাজি ও অনিয়ম ঠেকাতে। এর পাশাপাশি বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানি ও লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা, তথ্যদাতার সুরক্ষা, বিনিয়োগ শিক্ষা, সুশাসন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। করপোরেট বন্ড, সুকুক, সবুজ বন্ড ও বিনিময়ভিত্তিক তহবিলের বাজার সম্প্রসারণে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব, বন্ড ও সুকুক অনুমোদন এবং লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম ধাপে ধাপে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক ও সবুজ শিল্পে অর্থায়ন সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ১৯ হাজার কোটি টাকার চারটি পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে। এর মধ্যে কুটির, ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কার্যকরী মূলধনের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকা, কৃষিখাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা এবং সবুজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব কারখানার জন্য ১ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং নতুন উদ্যোগের জন্য পৃথক ৫০০ কোটি টাকার তহবিলও গঠন করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠার পর তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতির ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারে বড় কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ মেয়াদে ৫০টি এবং ২০২৬-২৮ মেয়াদে আরও ১০০টি কূপ খনন ও সংস্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও সংস্কার মিলিয়ে ৫০টি কূপে কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩১টি পুরোনো কূপ সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় এই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নিম্নআয়ের গ্রামীণ ও প্রান্তিক পরিবারকে ভর্তুকিতে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজ বর্জ্যের পরিবর্তে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। নিম্ন-মধ্যম আয়ের গ্রামীণ ও শহরতলির পরিবারের গৃহিণীদের জন্য ‘গৃহিণী এলপিজি কার্ড’ চালুর প্রস্তুতিও চলছে। কার্ডধারীদের সিলিন্ডার কেনায় মাসিক লক্ষ্যভিত্তিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অতিরিক্ত করের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর না বাড়িয়ে ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, তথ্যসমন্বয় ও আইনগত ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করপোরেট করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর বিবরণী দাখিলের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় তথ্য সমন্বয় এবং ঝুঁকিভিত্তিক কর নিরীক্ষা জোরদার করা হচ্ছে। কর ফাঁকি ও বিদেশে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত ও সম্পত্তি জব্দের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এসবের পাশাপাশি মূল্য সংযোজন কর ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক সেবায় ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহার, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা সুনীল অর্থনীতি গবেষণা তহবিলে এবং বাকি ১০০ কোটি টাকা সুনীল অর্থনীতির উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সামুদ্রিক মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার থেকে ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, মাতারবাড়ীতে আধুনিক মৎস্যবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ ও সমন্বিত করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে একটি শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন ও পাসের মাধ্যমে নতুন সংস্থা গঠনের আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সেবা সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে একক সেবা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে আলাদাভাবে বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরার প্রয়োজন কমেছে। ফলে, ব্যবসার সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি সেবায় স্বচ্ছতা বাড়ার কথা বলা হয়েছে। রপ্তানিকারকদের দ্রুত সেবা দিতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ইএমইএস সফটওয়্যারকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাংলা বিজ কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে রপ্তানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা আরও দ্রুত ও ডিজিটালভাবে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত ৪ আগস্ট দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা করে দুই দেশ। চুক্তিটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি বা প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশের বাজারে একই ধরনের প্রবেশাধিকার পেতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার ১ হাজার ৫৪টি পণ্য। ব্যাংকিং খাত সংস্কারে আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংক ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে আমানত সুরক্ষা তহবিলে মোট ৩৫১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১৭টি খাতভিত্তিক ও নীতিগত সুপারিশের মধ্যে ১৪টি, অর্থাৎ ৮২ শতাংশ, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ সংক্রান্ত ১৯টি সুপারিশের মধ্যে ১২টি বা ৬৩ শতাংশ গ্রহণ করা হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is অর থন ত র স কট ম?
অর থন ত র স কট ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does অর থন ত র স কট ম matter?
অর থন ত র স কট ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.