Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

১৪৪ ধারা জারির মধ্যেও হবিগঞ্জ যাচ্ছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা

Published July 29, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Jennifer Garcia - bangladailypost.com

Foto : Jennifer Garcia - bangladailypost.com

১৪৪ ধারার মধ্যেও হবিগঞ্জে পৌঁছানোর প্রস্তুতিতে এনসিপি নেতারা

Bangladailypost.com – ১৪৪ ধ র জ র র মধ - হবিগঞ্জ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ হবিগঞ্জ সফরে আসছেন। দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি—এরা সবাই হবিগঞ্জ যাচ্ছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এবং সারোয়ার তুষারসহ দলের শীর্ষ নেতারাও এই সফরে যোগ দিচ্ছেন।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে সিলেটে পৌঁছে গেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিকেলের মধ্যে তারা হবিগঞ্জে পৌঁছাবেন।

গতকাল আমাদের উপর নেক্কারজনকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলাম। যেহেতু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে তাই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছি। তবে বিষয়টি আমরা জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। তাই বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জাতিকে অবহিত করবো।

গতকালের ঘটনার বিবরণ

তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়ি বহর নিয়ে সার্কিট হাউজে যাওয়ার পথে সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছালে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের উপর একদল যুবক হামলা চালায়। এসময় তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

পরে পুলিশ গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদেরকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায়। রাত ১১টায় সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর প্রেক্ষিতে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এছাড়াও তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ বরাবরই একটি শান্তিপ্রিয় শহর। আমাদের রাজনীতির ইতিহাসও রয়েছে। এ জেলার মানুষ যেমন অতিথি আপ্যায়নপ্রিয়, তেমনি বেআদবিও সহ্য করেন না।

রাজনীতির সমালোচনার একটি শিষ্টাচার থাকা দরকার। এর বাইরে গিয়ে তারা দেশের কর্ণধার, আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দিয়েই চলছেন। তারা অপরিপক্ষ রাজনীতিবিদ। অল্প সময়ে তাদের জন্ম হয়েছে। তারা যদি অন্যান্য দলের মতো দীর্ঘ রাজনীতি করে উঠতো তবে এ ধরনের অশালীন বক্তব্য দিত না।

তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জের মানুষ বরাবরই প্রতিবাদী। তাই হত সহ্য করতে না পেরে মানুষ প্রতিবাদ করেছে। তবে এ ধরনের বিষয় কাম্য নয়। আমরা শুনেছি তারা আজও আবার আসবে। আমি চাই এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাই। তবে শালীনতার সঙ্গে তাদের রাজনীতি করা উচিত।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/কেজে/জেআইএম