Country

সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ১১০ বছরের পুরোনো, ডাবল লাইন করার দাবি

og_1788680120_6a9d17b842a50

শতবর্ষ পুরনো সিলেট-আখাউড়া রেলপথে নতুন গতি: ডু০েলগেজ রূপান্তরের ঘোষণা

Bangladailypost.com – স ল ট আখ উড র লপথ – ১৯১২ সাল থেকে বাংলাদেশের পাহাড়া অঞ্চলের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে আসা সিলেট-আখাউড়া রেলপথ এখন পেরিয়ে গেছে একশত দশ বছরের দীর্ঘ যাত্রা। ব্রিটিশ শাসনামলে পণ্য পরিবহনের উদ্দেশ্যে নির্মিত এই ২৩৯ কিলোমিটারের রেললাইন আজও ঠিক সেই একই পথে ধীরে ধীরে চলছে ট্রেন। তিন দশক ধরে এলাকাবাসীর মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি একক দাবি — এই পথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা। সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, ডাবল লাইনের পরিবর্তে এই রেলপথকে মিটারগেজ থেকে ডু০েলগেজে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। চীনের সঙ্গে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানায়।

ব্রিটিশ আমলের ঝুঁকিপূর্ণ ঐতিহ্য

১৯১২ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা এই রেলপথ নির্মাণ করেছিল মূলত বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের জন্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী সংখ্যা বাড়তে থাকে, সিলেট অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। কিন্তু শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে রেলপথে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও সিলেট-আখাউড়া সেক্ষেত্রে বঞ্চিত।

সরেজমিনে যা দেখা যায়, তা চোখের পানি। ব্রিটিশ আমলের তৈরি এই রেললাইনে টুকটাক সংস্কার করা হলেও বেশিরভাগ জায়গায় নাট-বল্টু, ফিশপ্লেট ও ক্লিপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ অনুপস্থিত। মাঝেমধ্যে এসব যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। অনেক স্থানে বল্টুর বদলে সুতো দিয়ে বাঁধা রাখা হয়েছে। শতবর্ষ পুরনো সেতুগুলো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। লাইন দুর্বল হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা প্রতিদিনই বাড়ছে। প্রতিবছর এই পথে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটার ঘটনা রেকর্ডে আছে।

এক লাইনের দীর্ঘ অপেক্ষা ও পাহাড়ি বাধা

মাত্র একটি লাইন থাকা রেল ক্রসিং-এর জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পাহাড়া এলাকায় ইঞ্জিন ও লাইনের দুর্বলতার কারণে ট্রেন চলাচলে আরও বিলম্ব সৃষ্টি হয়। জনবল ও ইঞ্জিন সংকটের কারণে একের পর এক লোকাল ট্রেন ও স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিদিন লাখো মানুষ প্রকৃত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বর্তমানে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ায় প্রায় আট ঘণ্টা সময় লাগে। ডাবল লাইন বা ডু০েলগেজ বাস্তবায়িত হলে এই সময় অর্ধেকেরও কম হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন ট্রেন দ্রুত গতিতে চলতে সক্ষম হবে, যা পুরনো মিটারগেজ ট্রেনের ক্ষমতার অনেকগুণ।

যাত্রীদের কণ্ঠে একমাত্র সমাধান

ঢাকা-সিলেট রেলপথের নিয়মিত যাত্রীরা বলছেন, আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত বেশিরভাগ রেলপথ এখন দুর্বল। ব্রিটিশ আমলের তৈরি লাইনে টুকটাক সংস্কার ছাড়া বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

“এই পথে ট্রেন যাত্রা নিরবচ্ছিন্ন করতে হলে ডাবল লাইন ছাড়া আর কোনো পথ নেই। শুনেছি লাইন ব্রডগেজ করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে আমরা চাই ডাবল লাইন করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে করে এই অঞ্চলের সমস্যা চিরস্থায়ী সমাধান হবে।”

শমশেরনগর স্টেশনের বাসিন্দা গিলমান আহমেদ, যিনি ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করেন, বলছেন ট্রেনের দুর্ভোগের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখন বাসে যাতায়াত করছেন। কারণ বেশিরভাগ ট্রেন পাহাড়া এলাকায় চলতে পারে না। রেল ক্রসিং-এর জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। কোনো কারণে ছোটো দুর্ঘটনা হলেও একসঙ্গে অনেকগুলো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে যায়।

“এসব সমস্যা সমাধানের একটি মাত্র রাস্তা আর তা হলে সিলেট আখাউড়া রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা।”

নিয়মিত ট্রেন যাত্রী ও সচেতন নাগরিক মুহাম্মদ খানের মতে, আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডাবল লাইন করা খুবই জরুরি। তিনি বলছেন, লাইন ডু০েলগেজ বা ব্রডগেজ হলে পুরোপুরি সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথে আগের মতোই ঝুঁকি থেকে যাবে, ক্রসিং সমস্যাও থেকেই যাবে। লাইন ব্রডগেজ হলে ট্রেনের গতি বাড়ানো হবে, তবে পুরোনো সমস্যা থেকেই যাবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান

কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার রুমান আহমেদ ও শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় জানিয়েছেন, ডাবল লাইন হবে কিনা তা তাদের জানা নেই। তবে আখাউড়া-সিলেট রেলপথকে ব্রডগেজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তারা শুনেছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে একসঙ্গে নতুন ও পুরাতন দুটি ট্রেন চলতে পারবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বিষয়টি নিয়ে জানিয়েছেন, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে সিলেট-আখাউড়া রেললাইনকে মিটারগেজ থেকে ডু০েলগেজে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই লাইন ডু০েলগেজ হলে নতুন ট্রেন সংযোজন করা হবে, যার ফলে ভিন্ন মাপের দুটি ট্রেন একসঙ্গে চলতে পারবে।

তিন দশকের অপেক্ষার পর নতুন অধ্যায়

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে ডাবল লাইনের দাবি। বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। কিন্তু ডু০েলগেজ রূপান্তর যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে পাহাড়া অঞ্চলের যাতায়াত-বাণিজ্যের চিত্র বদলে যেতে পারে। আট ঘণ্টার যাত্রা অর্ধেকের নিচে নামলে সিলেট-ঢাকা অক্ষরে ব্যবসায়িক ও সামাজিক প্রবাহে নতুন গতি আসবে। তবে যাত্রীদের চিন্তা এখনো একটাই — ঝুঁকিমুক্ত, নিরবচ্ছিন্ন, দ্রুত সেবা। শতবর্ষ পুরনো এই রেলপথের ভাগ্য এবার নতুন নির্ণায়কের হাতে।

Frequently Asked Questions

What is স ল ট আখ উড র লপথ?

স ল ট আখ উড র লপথ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স ল ট আখ উড র লপথ matter?

স ল ট আখ উড র লপথ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *