Country

সাইকেলের ঘণ্টায় জেগে ওঠা এক গ্রাম

স ইক ল র ঘণ ট য় - কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটেকি গ্রামে ফজরের আজান শেষে একটি বিশেষ শব্দ শোনা যায়। পাখির ডাক নয়, হাটের কোলাহলও নয়—সেটি সাইকেল ঘণ্টা।

Desk Country
Published August 6, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Elizabeth Martin - bangladailypost.com
Table of Contents
  1. সাইকেল ঘণ্টার শব্দে জেগে ওঠে চরটেকি গ্রামের সকাল
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

সাইকেল ঘণ্টার শব্দে জেগে ওঠে চরটেকি গ্রামের সকাল

Bangladailypost.com – স ইক ল র ঘণ ট য় – কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটেকি গ্রামে ফজরের আজান শেষে একটি বিশেষ শব্দ শোনা যায়। পাখির ডাক নয়, হাটের কোলাহলও নয়—সেটি সাইকেল ঘণ্টা। একটি বাজে, তারপর আরেকটি, তারপর আরও কয়েকটি। কয়েক মিনিটের মধ্যে মনে হয়, অদৃশ্য কোনো সুরকার গ্রামের সরু পথজুড়ে ধাতব শব্দের একটি অর্কেস্ট্রা সাজিয়ে দিয়েছেন। ধানের শীষ বাতাসে দুলতে থাকে। শিশিরভেজা ঘাসের পাশ দিয়ে এগিয়ে যায় একের পর এক সাইকেল। সূর্যের আলো প্রথমে পড়ে হ্যান্ডেলের ক্রোমে, তারপর মেয়েদের চোখে। তাদের কারো মুখে তাড়া নেই, কিন্তু থামারও সময় নেই। কারণ তারা জানে, এই পথ শুধু বিদ্যালয়ের দিকে যায় না, এই পথ যায় এমন এক ভবিষ্যতের দিকে, যেখানে একটি মেয়ের পরিচয় শুধু কারো মেয়ে, বোন বা স্ত্রী হয়ে থাকবে না, সে নিজের পরিচয় নিজেই লিখবে।

বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা

চরটেকি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরটেকি গ্রামে প্রায় এক একর জমির ওপর এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। বর্তমানে এখানে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১৬০ জন নিয়মিত সাইকেলে বিদ্যালয়ে আসে। চরকাওনা, বারোঘর, নয়াপাড়া, ব্রাহ্মণচর, বেলতলি, মধ্যপাড়া, মহিষাকান্দি, নতুনবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তারা বিদ্যালয়ে পৌঁছায়।

চরটেকি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে প্রতিদিন প্রায় ১৬০টি সাইকেল এসে থামে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, যেন বিদ্যালয়ের দেওয়ালের পাশে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে ১৬০টি অসমাপ্ত গল্প। প্রতিটি সাইকেলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের সাহস, একজন বাবার সিদ্ধান্ত, একজন মায়ের ভরসা আর একটি মেয়ের নিজের ওপর বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ইতিহাস।

শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা

দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থী মাহিয়া ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে এসেছে। এখন সে স্কুটিতে চলাচল করলেও তার আত্মবিশ্বাসের শুরু হয়েছিল একটি সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরেই।

সাইকেল চালাতে শুরু করার পর নিজের ওপর অনেক বেশি বিশ্বাস জন্মেছে। আগে একা কোথাও যেতে ভয় লাগত, এখন নিজের কাজ নিজেই করতে পারি। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে আমার আর কোনো সংকোচ হয় না।

মাহিয়া জানায়, বিদ্যালয়ের শেষ প্রায় ৬০০ মিটার রাস্তা এখনো কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচল অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন প্রতিদিন জাঙ্গালিয়া কাজীহাটি গ্রাম থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসে।

এখনো মাঝে মধ্যে ইভটিজিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে আরও বেশি মেয়ে সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহ পাবে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিনথিয়ারা মৌ জানায়, বারোঘর গ্রামের পর বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযোগ সড়কের একটি অংশ সাইকেল চলাচলের উপযোগী নয়। ফলে অনেক ছাত্রী স্থানীয় একটি বাড়িতে সাইকেল রেখে বাকি পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যায়। তাদের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।

প্রতিষ্ঠান ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানে চার শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬০ জন নিয়মিত সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। শুরুতে কিছু সামাজিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এখন অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। মেয়েদের এই আত্মবিশ্বাসই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। আজ অনেকেই তাদের প্রতিষ্ঠানকে ‘সাইকেল বালিকাদের বিদ্যালয়’ নামে চেনে। এই পরিচয় তাদের গর্বিত করে।

পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন চুন্নু বলেন, এই বিদ্যালয় এখন নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে আরও বেশি শিক্ষার্থী সাইকেল ব্যবহার করতে পারবে।

স্থানীয় প্রবীণ নূর হোসেন মনে করেন, এই পরিবর্তন শুধু বিদ্যালয়ের নয়, পুরো গ্রামের। তিনি বলেন, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলানো যায়। শুরুতে নানা বাধা ছিল, কিন্তু আজ এলাকার মানুষ তাদের পাশে আছে। তাদের গ্রাম এখন অনেকের কাছে ‘সাইকেল বালিকাদের বিদ্যালয়ের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত। এটা তাদের গর্ব।

সমাজ সংস্কারক রাশেদা খাতুন বলেন, বর্তমান সময়ে মেয়েদের নিরাপদ যাতায়াত একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতায় গ্রামের মেয়েরা সাইকেল চালিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। তাদের এই সাহস অন্য মেয়েদেরও আত্মবিশ্বাস জোগাবে। প্রশাসন, অভিভাবক এবং সমাজের সবার উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, গ্রামীণ জনপদে মেয়েদের সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এটি শুধু যাতায়াত সহজ করছে না, তাদের আত্মবিশ্বাস ও শিক্ষায় অংশগ্রহণও বাড়াচ্ছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

চরটেকি গ্রামে কতজন মেয়ে সাইকেলে বিদ্যালয়ে যায়? চরটেকি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে প্রায় ১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত সাইকেলে বিদ্যালয়ে আসে।

বিদ্যালয়টি কখন প্রতিষ্ঠিত হয়? চরটেকি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালে।

শিক্ষার্থীরা কত দূর থেকে সাইকেল চালিয়ে আসে? চরকাওনা, বারোঘর, নয়াপাড়া, ব্রাহ্মণচর, বেলতলি, মধ্যপাড়া, মহিষাকান্দি, নতুনবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তারা বিদ্যালয়ে পৌঁছায়।

বর্ষা মৌসুমে চলাচলে কী সমস্যা হয়? বিদ্যালয়ের শেষ প্রায় ৬০০ মিটার রাস্তা কাঁচা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।

Frequently Asked Questions

What is স ইক ল র ঘণ ট য়?

স ইক ল র ঘণ ট য় is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স ইক ল র ঘণ ট য় matter?

স ইক ল র ঘণ ট য় matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment