Bangladailypost
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সবুজ হওয়ার পর থেকে খুলনায় কমেছে গরুর মাংস বিক্রি

Published July 26, 2026 · Updated July 26, 2026 · By Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

Foto : Sandra Rodriguez - bangladailypost.com

পাইকগাছায় গরুর মাংস রান্না করে সবুজ হওয়ার পর ক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

Bangladailypost.com – সব জ হওয় র পর থ ক - খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলায় সাম্প্রতিক ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। গরুর মাংস রান্নার পর সবুজ রং ধারণ করার পর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে আলোচনা থামছেই না। অনেক জায়গায় মাংস বিক্রি কমে গেছে। তবে সম্পর্কিত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সঠিক কারণ খুঁজে বের করা হবে।

ঘটনার বিস্তারিত ও তদন্তের খবর

খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানান, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। কাঁচা ও রান্না করা দুই ধরনের মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। আজ আলোচনা করে ল্যাব নির্ধারণ করে পরীক্ষার জন্য নমুনা ল্যাবে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সবার মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত মাংস সবুজ হওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য আমরা কাজ করছি।

গত বুধবার (২২ জুলাই) পাইকগাছা উপজেলার পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য গরুর মাংস কেনেন। রান্নার সময় মাংস সবুজ হয়ে যায়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বাজারে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া

রোববার (২৬ জুলাই) বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে পাইকগাছা উপজেলায় রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ রং ধারণ করার পর থেকে ক্রেতা পর্যায়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। টানা বৃষ্টিতে এমনিতেই মন্দা বাজার। তার ওপর সবুজ রং ধারণ করার ঘটনার পর থেকে মাংস বিক্রি কিছুটা কমেছে। অনেক ক্রেতা মাংস কিনতে এসে নানান ধরনের প্রশ্ন করছেন। অনেকে সন্দেহের জেরে মাংস না কিনেই চলে যাচ্ছেন।

বৃষ্টির কারণে মাংস বিক্রি আগের থেকে কমেছে। আর পাইকগাছার ঘটনার পর থেকে ক্রেতারা সন্দেহের জেরে নানান প্রশ্ন করছেন। তবে এ ধরনের ঘটনার কথা আগে কখনো শুনিনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত। নইলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না।

ময়লাপোতা মোড়ের মাংস ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন এই কথাগুলো বলেন। অন্যদিকে নতুন বাজারের ব্যবসায়ী ফারুক শেখ বলেন, গরু জবাইয়ের জন্য নগরীতে নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। অসুস্থ পশু জবাই করার কোনো সুযোগ নেই। আর কোনো ব্যবসায়ী খারাপ মাংস বিক্রি করতে চাইবে না। তাহলে ক্রেতা থাকবে না। তারপরও গরুর মাংস সবুজ হওয়ার পর মাংসের বাজারে একটু প্রভাব পড়েছে। তবে আসল রহস্য উদঘাটন হলে ক্রেতাদের মধ্যে ভয় কমে যাবে।

খাবারে ভেজালের খবর শুনতে শুনতে এ ধরনের ঘটনা শুনে মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ফরমালিন যুক্ত খাবার আর ফ্রিজিং পণ্য বিক্রি আমাদের দেশে এখন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। মাংস সবুজ হওয়ার ঘটনা শুনে গেলো শুক্রবার গরুর মাংস কিনিনি। দেখা গেল কেমিকেল ব্যবহার করে মাংস ফ্রিজিংয়ের কারণে রান্নার সময় মাংসের রং সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত।

চাকরিজীবী ফরহাদ হোসেন এই মন্তব্য করেন। নতুন বাজারে আসা গৃহিণী শাকিরুন আক্তার বলেন, মাসে দুই-তিনবার গরুর মাংস কেনা হতো। এখন সেটাও কিনতে ভয় লাগছে। একদিকে দাম বেশি, অন্যদিকে গরুর মাংস এখন নিরাপদ নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় গরুর মাংস রান্নার সময় সবুজ রং হওয়ার পর বাসার সবাই গরুর মাংস কিনতে নিষেধ করছে।

আরিফুর রহমান/এফএ/জেআইএম