সংঘর্ষে নিহত ১ / শরীয়তপুরে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের অর্ধশত বাড়িতে লুটপাট
জাজিরা সংঘর্ষে নিহত একজন, লুটপাটের অভিযোগ
Bangladailypost.com – স ঘর ষ ন হত ১ শর - শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও একজনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষের জের ধরে দুই দফায় প্রতিপক্ষের অর্ধশত বাসিঘরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, এসব বাসি থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে।
সংঘর্ষের মূল কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে একজনের হাতের কবজি উড়ে যাওয়াসহ অন্তত দশ জন আহত হন। ঘটনাস্থলে ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন সত্তর বছর বয়সী মান্নান সরদার। পরে তিনি মারা যান। মান্নান রেজাউল শিকদারের গ্রুপের সমর্থক বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় মান্নান সরদারের ছেলে দিদার সরদার বাদী হয়ে বুধবার জাজিরা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আটচল্লিশ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও পঁচিশ থেকে ত্রিশ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে মামলা হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বাসিঘরে হামলা ও লুটপাটের বিস্তারিত বিবরণ
বুধবার দিনগত রাতে রেজাউল শিকদারের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের অর্ধশত বাসিঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফারুক চৌকিদার, ইউনূস আলী চৌকিদার, ইদ্রিস চৌকিদার, লিটন চৌকিদার, মনরজান বিবি, আজহার চৌকিদার, ওয়াসিম চৌকিদার, উকিল চৌকিদার, জসিম চৌকিদার, বাচ্চু চৌকিদার, শাহজাহান চৌকিদার, রাজ্জাক মাদবর, নূরুল আমিন মাদবর, মোশাররফ চৌকিদারসহ আরও অনেকের বাসিঘরে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা ঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। কোনো কোনো বাসির ভবনের ছাদও ফুটো করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকার আতঙ্ক সৃষ্টি করার পর বাসিঘরে লুটপাট চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। চর গজনাইপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চৌকিদার দীর্ঘদিন ধরে মালিশিয়ার অবস্থান করছেন। সংঘর্ষে অংশ না নিলেও তার বাসিতেও হামলা ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিপক্ষের রেজাউল শিকদার আমাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর রাতে আমাদের বাসিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
উকিল চৌকিদারের স্ত্রী রুবিনা আক্তার এই কথাগুলো বলেন। অন্যদিকে জসিম চৌকিদারের স্ত্রী শিমুলি বেগম বলেন, তার স্বামী লাউখোলা বাজারে ব্যবসা করেন। তিনি মারামারিতে যাননি। তারপরও তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে। গতকাল রেজাউল শিকদারের নেতৃত্বে তাদের বাসিতে ভাঙচুর করে দুটি গরু, স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে। ভীতি দেখাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তারা কোনো রকমে জীবন নিয়ে চরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। আমরা মারামারির বিষয়ে কিছুই জানি না। এরপরও আমার ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ঘরের সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। এখন আমরা ঘরে থাকব, রান্না করে খাব—সেই অবস্থাও নেই।
আরেক ভুক্তভোগী সুমি আক্তার এই কথাগুলো বলেন। তিনি আরও বলেন, তারা চান, ঘটনার তদন্ত করে যারা সেদিন মারামারিতে ছিল তাদের বিচার হোক। পাশাপাশি তাদের বাসিঘরে যারা হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদেরও বিচার করতে হবে। তারা ক্ষতিপূরণ চায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংঘর্ষে জয়িত না থাকা অনেক নিরপরাধ মানুষের বাসিঘরেও হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জয়িতদের পাশাপাশি বাসিঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটকারীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
একজন মানুষ মারা গেছেন, সেখানে একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এরপর প্রতিপক্ষের বাসিতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালানোও আরেকটি অপরাধ। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যারা মামলা-বাণিজ্য ও লুটপাট করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।
বিধান মজুমদার অনি/কেএইচকে/জেআইএম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা এই কথাগুলো বলেন। তবে বাসিঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেজাউল শিকদার। তিনি বলেন, তার জানামতে এমন কিছুই হয়নি। তারা নিজেদের মালামাল নিজেদেরাই সরিয়ে এখন তাদের ওপর দাবি চাপাচ্ছে। এদিকে হত্যা মামলায় আটজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি লুটপাট প্রতিরোধেও পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নিয়মিত সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, নিহতের ছেলে বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এই ঘটনার আটজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বাসিতে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা প্রতিহত করতে পুলিশ কাজ করছে। গতকাল রাতে বোমা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
জাজিরা সংঘর্ষে কে নিহত হয়েছেন? সংঘর্ষে সত্তর বছর বয়সী মান্নান সরদার নিহত হয়েছেন। তিনি রেজাউল শিকদারের গ্রুপের সমর্থক ছিলেন।
কতজন আহত হয়েছেন? সংঘর্ষে অন্তত দশ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
কতজন বাসিঘরে হামলার শিকার হয়েছেন? প্রতিপক্ষের অর্ধশত বাসিঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলায় কতজন আসামি? হত্যা মামলায় আটচল্লিশ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও পঁচিশ থেকে ত্রিশ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে? মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স ঘর ষ ন হত ১ শর?স ঘর ষ ন হত ১ শর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স ঘর ষ ন হত ১ শর matter?স ঘর ষ ন হত ১ শর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.