শেরপুরে সবজিতে নীরব বিপ্লব, ২৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা
শেরপুরে সবজিতে নীরব বিপ্লব, বাণিজ্যের আশা ২৫০ কোটি টাকার বেশি
Bangladailypost.com – শ রপ র সবজ ত ন রব - শেরপুরে সবজিতে নীরব বিপ্লব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে চলতি খরিপ-২ মৌসুমে। সীমান্তবর্তী এ জেলায় উৎপাদিত নানা ধরনের সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাবে, পাঁচ উপজেলায় ৩ হাজার ৬৯৪ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করে প্রায় ৬২ হাজার ৭৯৮ মেট্রিকটন উৎপাদন হয়েছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ২৫১ কোটি টাকা।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার অনেক কৃষক ভালো ফলন ও তুলনামূলক ভালো দাম পেয়েছেন। পেঁপে, বেগুন, টমেটো, বরবটি, মরিচ, করলা, ঝিঙা, লাউ, কদু, ঢ্যাঁড়স ও কচুসহ বিভিন্ন ফসলের চাষে যুক্ত রয়েছেন জেলার লক্ষাধিক পরিবারের সদস্যরা।
ভালো ফলন ও দামে কৃষকের মুখে হাসি
শেরপুর সদরের লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটির সিঙ্গাপুরফেরত কৃষক হাশেম আলী ২৫ শতাংশ জমিতে ইয়োলো লেডি জাতের পেঁপে চাষ করে লাভবান হয়েছেন। পরে তিনি বেগুন, টমেটো, বরবটি, মরিচ, করলা, ঝিঙা ও লাউ চাষে আগ্রহী হন। তাঁর ভাষ্য, করলা পাইকারিতে প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এক বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ডিজি ১৭১৭ জাতের মরিচ চাষেও ভালো ফলন পেয়েছেন।
একই গ্রামের আব্দুস সাত্তার মিয়া করলা, লাউ, কদু ও বেগুন চাষ করেছেন। তিনি জানান, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে দেশি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় এবং বেগুনের দাম প্রতি কেজি ৫০ টাকা। তাঁর মতে, আগের লোকসান পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা।
চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের সাতপাকিয়া গ্রামের ছামিদুল হক এক বিঘা জমিতে ঢ্যাঁড়স চাষ করে ভালো দাম পেয়েছেন। শ্রীবরদীর কাকিলাকুড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম করলার পাশাপাশি বরবটি চাষ করেছেন; তাঁর করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। নালিতাবাড়ীর বড়ডুবি গ্রামের সালাম মিয়া নিচু জমিতে কচু চাষ করে কচুর লতি ও কচু বিক্রি করেছেন চড়া দামে। তাঁর দাবি, ৫০ টাকার নিচে কোনো কচু বিক্রি হয়নি।
সবজি গ্রামে উৎপাদনের সম্ভাবনা
ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া গ্রাম পরিচিত সবজি গ্রাম হিসেবে। ওই গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, প্রায় শতাধিক কৃষক সেখানে সবজি আবাদ করেন। পাহাড়ি ঢলে কিছু ক্ষতি হলেও এবার বাম্পার ফলন ও ভালো বাজারদরের কারণে তাঁরা লাভবান হয়েছেন। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, এ এলাকার মাটি কৃষির জন্য উপযোগী। শুধু এ উপজেলাতেই একেক মৌসুমে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার সবজি উৎপাদিত হয়।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বলেন, শেরপুরের উৎপাদিত সবজির চাহিদা রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ সেবা দেওয়া হচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সাখওয়াত হোসেন জানান, কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বড় মোকামের মালিকদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সুষ্ঠু বাজারজাতকরণে বাড়তে পারে কৃষকের লাভ
প্রান্তিক কৃষকদের প্রধান দাবি, বড় বাজারের ক্রেতারা যেন সরাসরি খেত থেকে সবজি কিনে নেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদকরা ন্যায্য দাম পাবেন। শেরপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ্ব আরিফ হাসান বলেন, কৃষি-স্বনির্ভর এই জেলায় সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা আরও লাভবান হবেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দেশের বড় সবজি আড়তদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৃষকের খেত থেকে সরাসরি সবজি কেনার সুযোগ তৈরি করা হবে। তাঁর মতে, এক মৌসুমে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার সবজি বিক্রি স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শেরপুরে সবজিতে নীরব বিপ্লব টেকসই করতে প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
প্রশ্নোত্তর
চলতি খরিপ-২ মৌসুমে শেরপুরে কত জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে?
জেলার পাঁচ উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৬৯৪ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে।
শেরপুরে উৎপাদিত সবজির বাজারমূল্য কত?
চলতি মৌসুমে উৎপাদিত প্রায় ৬২ হাজার ৭৯৮ মেট্রিকটন সবজির বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫১ কোটি টাকা।
কৃষকেরা কী ধরনের বাজার সুবিধা চান?
কৃষকেরা চান, রাজধানী ও অন্যান্য এলাকার বড় মোকামের ক্রেতারা সরাসরি খেত থেকে সবজি কিনুন। এতে মধ্যস্বত্বভোগী কমবে এবং উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is শ রপ র সবজ ত ন রব?শ রপ র সবজ ত ন রব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does শ রপ র সবজ ত ন রব matter?শ রপ র সবজ ত ন রব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.